ঢাকা , রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব যেমন একধরনের টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছে, তেমনি বিশ্বে দুটি ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউনিপোলার বিশ্ব থেকে বাইপোলার বিশ্বে পরিণত হওয়ার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। একটা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তাকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া ও চীন এবং তাদের মিত্র দেশগুলো নিয়ে আলাদা একটা বিশ্ব গড়ে উঠছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, চীন বর্তমান বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য চীন হুমকি হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, সউদী আরব, ইরান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ নিয়ে একটি বলয় তৈরি হয়েছে। এ বলয় অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্ব যে ইউনিপোলার থেকে বাইপোলারে পরিণত হওয়ার দিকে ধাবিত, তা সহজেই বোধগম্য।

বিভিন্ন দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন বা আগের মতো শক্তিশালী অবস্থান না থাকলেও অস্বীকার করার উপায় নেই, এখনও বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধিক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ। দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের যেখানেই যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে রয়েছে, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার বিদায় ঘটেছে। আফগানিস্তান থেকে অনেকটা অগোচরে বিদায় নিতে হয়েছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী কোনো যুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হতে পারেনি। এতে তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ এবং অসংখ্য সৈন্য হতাহত হলেও তেমন কোনো লাভ করতে পারেনি। তারপরও যেখানে যুদ্ধ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকছেই। ইউক্রেন যুদ্ধে তার ও তার মিত্র দেশগুলো প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য হলেও পুরো বিশ্বে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো নিদারুণ সংকটে পড়েছে। সর্বোপরি এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকবে, না বন্ধ হবে, তা এই দুই বলয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংগতকারণেই কেউই যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়। ক্ষমতাধর দেশগুলোর পারস্পরিক শক্তি প্রদর্শন ও ইগো সমস্যার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হোক তাও কোনোভাবে কাম্য নয়।

বিভিন্নভাবে দুর্বল হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও শীর্ষ পরাশক্তি। তার সক্ষমতা রয়েছে। তার উচিৎ এ সক্ষমতা বিশ্বের সর্বাধিক কল্যাণে কাজে লাগানো। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সমস্যাগ্রস্ত দেশগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করা। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই এক জেনারেল বলেছেন, এ যুদ্ধে কারোই জয়-পরাজয় হবে না। অর্থাৎ এ যুদ্ধে কোনো ফল আসবে না। তাহলে, জীবনক্ষয়ী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী এ যুদ্ধ চালিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। যত দ্রুত এ যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। ইতোমধ্যে চীন যুদ্ধ বন্ধে বিস্তারিত প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়াও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে বিশ্বের অন্যদেশগুলোর সহমত পোষণ করা জরুরি। তাহলে দ্রুতই যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া বসে যদি ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ নেয়, তাহলে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। তাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, পুরো বিশ্ব অশান্তির কবলে পড়েছে। এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেয়া যায় না। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিন দেশের তিন নেতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে

আপডেট সময় ০৩:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব যেমন একধরনের টানাপড়েনের মধ্যে পড়েছে, তেমনি বিশ্বে দুটি ধারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউনিপোলার বিশ্ব থেকে বাইপোলার বিশ্বে পরিণত হওয়ার একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। একটা নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের যে একচ্ছত্র আধিপত্য, তাকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া ও চীন এবং তাদের মিত্র দেশগুলো নিয়ে আলাদা একটা বিশ্ব গড়ে উঠছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের মধ্য দিয়ে এর একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, চীন বর্তমান বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য চীন হুমকি হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, সউদী আরব, ইরান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ নিয়ে একটি বলয় তৈরি হয়েছে। এ বলয় অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে রয়েছে। ফলে বিশ্ব যে ইউনিপোলার থেকে বাইপোলারে পরিণত হওয়ার দিকে ধাবিত, তা সহজেই বোধগম্য।

বিভিন্ন দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন বা আগের মতো শক্তিশালী অবস্থান না থাকলেও অস্বীকার করার উপায় নেই, এখনও বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধিক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দেশ। দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের যেখানেই যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগে রয়েছে, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার বিদায় ঘটেছে। আফগানিস্তান থেকে অনেকটা অগোচরে বিদায় নিতে হয়েছে। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী কোনো যুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হতে পারেনি। এতে তার ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ এবং অসংখ্য সৈন্য হতাহত হলেও তেমন কোনো লাভ করতে পারেনি। তারপরও যেখানে যুদ্ধ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো না কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকছেই। ইউক্রেন যুদ্ধে তার ও তার মিত্র দেশগুলো প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে। ইউক্রেনকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বাণিজ্য হলেও পুরো বিশ্বে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো নিদারুণ সংকটে পড়েছে। সর্বোপরি এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এক নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকবে, না বন্ধ হবে, তা এই দুই বলয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংগতকারণেই কেউই যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়। ক্ষমতাধর দেশগুলোর পারস্পরিক শক্তি প্রদর্শন ও ইগো সমস্যার জন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হোক তাও কোনোভাবে কাম্য নয়।

বিভিন্নভাবে দুর্বল হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনও শীর্ষ পরাশক্তি। তার সক্ষমতা রয়েছে। তার উচিৎ এ সক্ষমতা বিশ্বের সর্বাধিক কল্যাণে কাজে লাগানো। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সমস্যাগ্রস্ত দেশগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতা করা। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই এক জেনারেল বলেছেন, এ যুদ্ধে কারোই জয়-পরাজয় হবে না। অর্থাৎ এ যুদ্ধে কোনো ফল আসবে না। তাহলে, জীবনক্ষয়ী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী এ যুদ্ধ চালিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। যত দ্রুত এ যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেয়া উচিৎ। ইতোমধ্যে চীন যুদ্ধ বন্ধে বিস্তারিত প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়াও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে বিশ্বের অন্যদেশগুলোর সহমত পোষণ করা জরুরি। তাহলে দ্রুতই যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া বসে যদি ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কোনো উদ্যোগ নেয়, তাহলে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব। তাদের মনে রাখতে হবে, যুদ্ধে প্রতিনিয়ত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, পুরো বিশ্ব অশান্তির কবলে পড়েছে। এ পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেয়া যায় না। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিন দেশের তিন নেতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।