ঢাকা , সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ফরিদপুরের খাটরায় সস্তা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি! Logo লিটনের ফিফটিতে বড় জয় বাংলাদেশের Logo রাশিয়া-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: পুতিন Logo আইসিইউ থেকে নুরকে নেওয়া হতে পারে কেবিনে Logo রূপগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্র ও যুবকের লাশ উদ্ধার Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিস্ফোরণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭ Logo ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা ও মেয়ের মৃত্যু Logo লৌহজংয়ে অবৈধ ড্রেজার কারবারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কড়া অভিযান: লাখ টাকা জরিমানা, ৪ জনের কারাদণ্ড Logo কোলা ইউনিয়নে শহীদ জিয়া স্মৃতি চাইনিজ বার ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী Logo পরিবার সামলাতে না পারলেও এবার সোনারগাঁও সামলানোর দায়িত্ব নিতে চান হেফাজতের মাওলানা শাহজাহান শিবলী

ফরিদপুরের খাটরায় সস্তা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি!

ভাঙ্গা, ফরিদপুর -ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে এলজিআরডি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রয়োজনহীন কালভার্ট নির্মাণ, নিন্মমানের রাস্তার কাজ এবং প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের মাধ্যমে গ্রামটি যেন রীতিমতো একটি ‘সস্তা উন্নয়ন’-এর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত ও নির্মাণ কোড অনুযায়ী গ্রামের ভিতররের রাস্তার কাজ অনেক নিম্নমানের।একাধিক স্থানে কোন রকম সাইট ভিজিট ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় খাটরা গ্রামের অলিগলি যেন অনিয়মের এক বিশাল চিত্রপট। অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে কালভার্ট, যার দরকার ছিল না। সরজমিনে দেখা গেছে, চলমান নির্মাণকাজও মানসম্পন্ন নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিআরডিতে কর্মরত একজন ব্যক্তি, সফিউর রহমান বাচ্চু মুন্সি, খাটরা গ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রভাবেই গ্রামের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয় এবং সেগুলোর বেশিরভাগই মানহীন ও অনিয়মপূর্ণ।

স্থানীয়রা বলেন,তিনি প্রকল্প কখন আনেন, কাকে দেন, তা ঠিক করে তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। এটি যেন এক প্রকার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যের মতো।

ভুক্তভোগী ফয়সাল রাজু জানান, বাচ্চু ও তার সহযোগীরা এলজিআরডি প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যবহার করে তাদের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ৮.৮ শতক জমিতে ভরাট করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করেছে। তিনি দাবি করেন,এই জমির বিএস খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানা আমাদের। খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে। তার পরও কোনো নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন এলজিআরডি চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে—কিভাবে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে অন্যের জমি ভরাট করা হলো? দরপত্র প্রক্রিয়ায় কে ছিল, ঠিকাদার কে, এসব প্রশ্নের জবাব এখনও অধরা।
মসজিদ কমিটির সভাপতি পরিচয়ধারী আহমদ মিয়া-র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলছেন যে,গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি সফিউর বাচ্চুর নির্দেশ ছাড়া আমি কিছু করতে পারবো না।এলজিআরডি একজন কর্মকর্তা সফিউর বাচ্চু মসজিদের সভাপতি আহমদকে দিয়ে জমি জবর দখল করে রাখার নির্দেশদাতা হলে এটা গুরুতর অভিযোগ ।তাহলে স্পষ্টত বোঝা যায় এখানে সংঘবদ্ধ একটা চক্র সক্রিয় আছে যার সমাজে অস্হিতিশীলতার জন্য দায়ী ।আর অভিযোগ মিথ্যা হলে ভূক্তোভূগির জমি অনতিবিলম্বে তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে ।

আরও অভিযোগ রয়েছে বাচ্চুর কোর কমিটিতে আমেরিকা প্রবাসী সেলিম মুন্সি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ আরও কয়েকজন স্হানীয়র নামও অন্যের জমিতে মাটি ভরাট ও প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,চৌধুরীর নাতির ন্যায্য হকের জমি,বিএস কাগজও তার।জমিতে কিছু করতে চাইলে তার অনুমতি নেওয়া উচিত।আর সরকারি টাকায় কেউ দানবীর হতে পারে না। যদি কেউ সমাজের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে সেটা নিজের অর্থে হওয়া উচিত।

পরিশেষে বলা যায়:

খাটরা গ্রামের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যেভাবে এলজিআরডি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। সরকারি অর্থ যদি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা না থাকে—তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রম সমাজে বিভাজন, অসন্তোষ ও দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিআরডি বিভাগ যদি এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও উৎসাহ পাবে, এবং সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগ জনআস্থা হারাবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পটির সকল নথিপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া, বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রাসঙ্গিক দপ্তরগুলোর উচিত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।

উন্নয়ন যেন হয় জনস্বার্থে, আইনের শাসন মেনে, এবং অবিচার নয়, সুবিচারকে ভিত্তি করে—এই প্রত্যাশায় রইল।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরের খাটরায় সস্তা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি!

ফরিদপুরের খাটরায় সস্তা উন্নয়নের নামে দুর্নীতি!

আপডেট সময় ০৮:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ভাঙ্গা, ফরিদপুর -ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে এলজিআরডি প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, প্রয়োজনহীন কালভার্ট নির্মাণ, নিন্মমানের রাস্তার কাজ এবং প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের মাধ্যমে গ্রামটি যেন রীতিমতো একটি ‘সস্তা উন্নয়ন’-এর কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত ও নির্মাণ কোড অনুযায়ী গ্রামের ভিতররের রাস্তার কাজ অনেক নিম্নমানের।একাধিক স্থানে কোন রকম সাইট ভিজিট ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা না থাকায় খাটরা গ্রামের অলিগলি যেন অনিয়মের এক বিশাল চিত্রপট। অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে কালভার্ট, যার দরকার ছিল না। সরজমিনে দেখা গেছে, চলমান নির্মাণকাজও মানসম্পন্ন নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিআরডিতে কর্মরত একজন ব্যক্তি, সফিউর রহমান বাচ্চু মুন্সি, খাটরা গ্রামের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তার প্রভাবেই গ্রামের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয় এবং সেগুলোর বেশিরভাগই মানহীন ও অনিয়মপূর্ণ।

স্থানীয়রা বলেন,তিনি প্রকল্প কখন আনেন, কাকে দেন, তা ঠিক করে তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন। এটি যেন এক প্রকার ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যের মতো।

ভুক্তভোগী ফয়সাল রাজু জানান, বাচ্চু ও তার সহযোগীরা এলজিআরডি প্রকল্পের নামে অর্থ ব্যবহার করে তাদের ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত ৮.৮ শতক জমিতে ভরাট করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করেছে। তিনি দাবি করেন,এই জমির বিএস খতিয়ান অনুযায়ী মালিকানা আমাদের। খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে। তার পরও কোনো নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন এলজিআরডি চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে—কিভাবে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে অন্যের জমি ভরাট করা হলো? দরপত্র প্রক্রিয়ায় কে ছিল, ঠিকাদার কে, এসব প্রশ্নের জবাব এখনও অধরা।
মসজিদ কমিটির সভাপতি পরিচয়ধারী আহমদ মিয়া-র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পরও কোনো পদক্ষেপ নেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলছেন যে,গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি সফিউর বাচ্চুর নির্দেশ ছাড়া আমি কিছু করতে পারবো না।এলজিআরডি একজন কর্মকর্তা সফিউর বাচ্চু মসজিদের সভাপতি আহমদকে দিয়ে জমি জবর দখল করে রাখার নির্দেশদাতা হলে এটা গুরুতর অভিযোগ ।তাহলে স্পষ্টত বোঝা যায় এখানে সংঘবদ্ধ একটা চক্র সক্রিয় আছে যার সমাজে অস্হিতিশীলতার জন্য দায়ী ।আর অভিযোগ মিথ্যা হলে ভূক্তোভূগির জমি অনতিবিলম্বে তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে ।

আরও অভিযোগ রয়েছে বাচ্চুর কোর কমিটিতে আমেরিকা প্রবাসী সেলিম মুন্সি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ আরও কয়েকজন স্হানীয়র নামও অন্যের জমিতে মাটি ভরাট ও প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্প সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,চৌধুরীর নাতির ন্যায্য হকের জমি,বিএস কাগজও তার।জমিতে কিছু করতে চাইলে তার অনুমতি নেওয়া উচিত।আর সরকারি টাকায় কেউ দানবীর হতে পারে না। যদি কেউ সমাজের জন্য কিছু করতে চান, তাহলে সেটা নিজের অর্থে হওয়া উচিত।

পরিশেষে বলা যায়:

খাটরা গ্রামের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যেভাবে এলজিআরডি প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। সরকারি অর্থ যদি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে যদি নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা না থাকে—তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রম সমাজে বিভাজন, অসন্তোষ ও দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিআরডি বিভাগ যদি এই বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম আরও উৎসাহ পাবে, এবং সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগ জনআস্থা হারাবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকল্পটির সকল নথিপত্র, দরপত্র প্রক্রিয়া, বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য স্বচ্ছভাবে যাচাই করে প্রাসঙ্গিক দপ্তরগুলোর উচিত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।

উন্নয়ন যেন হয় জনস্বার্থে, আইনের শাসন মেনে, এবং অবিচার নয়, সুবিচারকে ভিত্তি করে—এই প্রত্যাশায় রইল।