ঢাকা , শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬, দগ্ধরাও সংকটাপন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo সাত প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ Logo আলো ঝলমলে রাতে বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন বরিশাল Logo ফতুল্লায় নাসিম ওসমান স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ Logo সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ফুট ওভার ব্রীজ হকার মুক্ত করলেন এম পি কাউসার হাসনাত Logo নাঃগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বইমেলায় কবিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ Logo সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউজ স্কুলে ভর্তি বানিজ্য, ভর্তিতে অনিশ্চিত জমজ শিশু, প্রধান প্রকৌশলীর বদলির দাবি Logo উপজেলা নির্বাচনে সবার সহযোগিতা ও দোয়া চাইলেন মাকসুদ চেয়ারম্যান Logo বৃহত্তম মদনগঞ্জ পেশাজীবি শ্রমিক কল্যান সংগঠন’র ৫ ম বারের মতো বিনামূল্যে সুন্নতে খাৎনা অনুষ্ঠিত Logo বন্দরে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা ও স্বামী গুরুত্বর জখমের ঘটনায় মা ও ছেলে আটক

স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মোকসেদুর রহমানকে (৪০) হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ইছামতি নদীতে ফেলে দেন তার স্ত্রীর প্রবাসী প্রেমিক জাহিদ সরকার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

আসমা বেগমকে গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সিরাজদীখান উপজেলার চিত্রকোর্ট ইউনিয়নের বরাম বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর তীর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।

অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী আসমা বেগম তার স্বামী নিখোঁজ- মর্মে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারন ডায়েরি ও যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের তদন্তে যুবকের পরিচয় উঠে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর আগে ঢাকার গেন্ডাারিয়া এলাকার মৃত মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে মোকসেদুর রহমানের সঙ্গে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার ঠাকুর মল্লিক গ্রামের মৃত লতিফ শিকদারের মেয়ে আসমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ২২ বছরের সংসার জীবনে তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আসমা বেগমের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের আনোয়ার সরকারের ছেলে সৌদি প্রবাসী জাহিদ সরকারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোকসেদুর রহমানকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন জাহিদ। জাহিদ নিজ খরচে মোকসেদুর রহমানকে পাসপোর্টও তৈরি করে দেন। এর মধ্যে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

এদিকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ জানুয়ারি মোকসেদুরকে তার স্ত্রী আসমা সিরাজদিখানের জাহিদের কাছে পাঠান। নিজে থেকে যান গেন্ডারিয়ায়। মোকসেদুর সিরাজদিখান উপজেলার কালীপুর গ্রামে জাহিদের বাড়িতে আসলে রাতে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান জাহিদ। পরে দুই জনের সহযোগিতায় জাহিদ তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন। এ ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য মোকসেদুরকে হত্যা করেই জাহিদ ১১ জানুয়ারি সৌদিতে চলে যান। পরে ১৭ জানুয়ারি মোকসেদুরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর জামালউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আটক আসমা বেগম মুন্সীগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মেচিত হলো।

সিরাজদিখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক জানান, পরিচয় পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন মোড় নেয়। তদন্ত চলাকালে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। রোববার রাতে নিহতের স্ত্রী আসমা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

বেইলি রোডে অগ্নিকান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬, দগ্ধরাও সংকটাপন্ন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী

আপডেট সময় ০৪:৩৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মোকসেদুর রহমানকে (৪০) হাত-পা বেঁধে হত্যা করে ইছামতি নদীতে ফেলে দেন তার স্ত্রীর প্রবাসী প্রেমিক জাহিদ সরকার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

আসমা বেগমকে গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে সিরাজদীখান উপজেলার চিত্রকোর্ট ইউনিয়নের বরাম বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর তীর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়।

অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী আসমা বেগম তার স্বামী নিখোঁজ- মর্মে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারন ডায়েরি ও যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের তদন্তে যুবকের পরিচয় উঠে আসে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর আগে ঢাকার গেন্ডাারিয়া এলাকার মৃত মো. হাবিবুল্লাহর ছেলে মোকসেদুর রহমানের সঙ্গে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানার ঠাকুর মল্লিক গ্রামের মৃত লতিফ শিকদারের মেয়ে আসমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ২২ বছরের সংসার জীবনে তিন ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে আসমা বেগমের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের কালিপুর গ্রামের আনোয়ার সরকারের ছেলে সৌদি প্রবাসী জাহিদ সরকারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোকসেদুর রহমানকে বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দেন জাহিদ। জাহিদ নিজ খরচে মোকসেদুর রহমানকে পাসপোর্টও তৈরি করে দেন। এর মধ্যে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

এদিকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গত ৩ জানুয়ারি মোকসেদুরকে তার স্ত্রী আসমা সিরাজদিখানের জাহিদের কাছে পাঠান। নিজে থেকে যান গেন্ডারিয়ায়। মোকসেদুর সিরাজদিখান উপজেলার কালীপুর গ্রামে জাহিদের বাড়িতে আসলে রাতে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান জাহিদ। পরে দুই জনের সহযোগিতায় জাহিদ তাকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন। এ ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য মোকসেদুরকে হত্যা করেই জাহিদ ১১ জানুয়ারি সৌদিতে চলে যান। পরে ১৭ জানুয়ারি মোকসেদুরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর জামালউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আটক আসমা বেগম মুন্সীগঞ্জ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উন্মেচিত হলো।

সিরাজদিখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুল হক জানান, পরিচয় পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন মোড় নেয়। তদন্ত চলাকালে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য। রোববার রাতে নিহতের স্ত্রী আসমা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়।