ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টায় গোপনাঙ্গ কর্তন, সেই আ.লীগ নেতার মৃত্যু

বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ফের ধর্ষণচেষ্টার সময় পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা এরশাদুল ইসলাম (৩৫) মারা গেছেন। সোমবার রাতে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এরশাদুল মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারো ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত এরশাদুল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামের হারেজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। গত ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন। এ মামলায় এরশাদুল জেলে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পান।

এদিকে এরশাদুল জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় এসে আবারো ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে স্বামী বাজারে গেলে এরশাদুল ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই গৃহবধূ হাতের কাছে ব্লেড রাখেন। পরে সম্ভ্রম বাঁচাতে তিনি ব্লেড দিয়ে এরশাদুলের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। এরশাদুলের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার পৌনে ১০টার দিকে মারা যান।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এরশাদুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। এ কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাড়া পেয়ে তিনি আবারো ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে এরশাদুল বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় এরশাদুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টায় গোপনাঙ্গ কর্তন, সেই আ.লীগ নেতার মৃত্যু

আপডেট সময় ০৪:২৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ফের ধর্ষণচেষ্টার সময় পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা এরশাদুল ইসলাম (৩৫) মারা গেছেন। সোমবার রাতে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এরশাদুল মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি ওই নারীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারো ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত এরশাদুল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামের হারেজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন। গত ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিবেশীর স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা করেন। এ মামলায় এরশাদুল জেলে ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করেন। প্রায় তিন মাস আগে জামিনে ছাড়া পান।

এদিকে এরশাদুল জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় এসে আবারো ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে স্বামী বাজারে গেলে এরশাদুল ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই গৃহবধূ হাতের কাছে ব্লেড রাখেন। পরে সম্ভ্রম বাঁচাতে তিনি ব্লেড দিয়ে এরশাদুলের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। এরশাদুলের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার পৌনে ১০টার দিকে মারা যান।

চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা এরশাদুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। এ কারণে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাড়া পেয়ে তিনি আবারো ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসছিলেন। সোমবার সন্ধ্যার পর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ব্লেড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে এরশাদুল বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে মারা গেছেন। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত গৃহবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, অনৈতিক কাজে জড়িত থাকায় এরশাদুলকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।