ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

২ বছর ধরে তালা ঝুলছে আশ্রয়ণের ঘরে!

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন মানুষদের দেওয়া হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। কিন্তু ২৬টি ঘরের ১৯টিতেই দুই বছর ধরে ঝুলছে তালা!
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নে বাঁশগাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
ঘর বুঝে নিয়ে ২ বছরেও ওই ঘরে ওঠেননি উপকারভোগীরা। ১৯টি ঘরে তালা ঝুললেও বাকি সাত ঘরের মালিকরা সেখানেই বসবাস করছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায় দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে চারটি স্থানে ২৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘরের মধ্যে ১৯টিতেই ঝুলতে দেখা গেছে তালা। উপকারভোগী কোনো পরিবারকে পাওয়া যায়নি। আশপাশে আবর্জনা ও ঘাষ লতা-পাতায় পরিপূর্ণ দেকে বোঝাই যায় যে ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা হয়নি।
কামারখন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে রায়দৌলতপুর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চরবাঁশবাড়িয়া ৮০টি ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ২৬টি মোট ১০৬টি ঘর নির্মাণ হয়। এসব ঘর দুই শতাংশ জমিসহ ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপকারভোগী এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবিসহ যাবতীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন।
এদিকে সাবিনা, আব্দুল্লাহ, উত্তম কুমারসহ বেশ কয়েকজন উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এক স্থানে চারটি ঘরের মধ্যে তিনজনই থাকেন না। অপর একটি স্থানে ছয়টি ঘরের মধ্যে কোনটিতেই কোনো উপকারভোগী থাকেন না।
আব্দুল্লাহ নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী বলেন, আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করলেও এখানে বেশিরভাগ ঘরেই কোনো পরিবার থাকেন না। ঘরে তালা ঝুলিয়ে গেছেন তারা এসে খোঁজ খবরও নেন না।
এ বিষয়ে রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ ঘরেই কেউ থাকেন না। তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে থাকেন। হয়তো ওই সময় ভূল তথ্য দিয়ে তারা এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছিলেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবার ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। যারা কাজের জন্য বাইরে থাকেন, তাদের ঘর বাতিল করা হবে না। কিন্তু যারা এলাকায় থাকতেও আগের বাড়িতে বসবাস করেন তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

২ বছর ধরে তালা ঝুলছে আশ্রয়ণের ঘরে!

আপডেট সময় ০৩:৩৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন মানুষদের দেওয়া হয়েছিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। কিন্তু ২৬টি ঘরের ১৯টিতেই দুই বছর ধরে ঝুলছে তালা!
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নে বাঁশগাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নিয়ে এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
ঘর বুঝে নিয়ে ২ বছরেও ওই ঘরে ওঠেননি উপকারভোগীরা। ১৯টি ঘরে তালা ঝুললেও বাকি সাত ঘরের মালিকরা সেখানেই বসবাস করছেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায় দৌলতপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ৫০০ মিটার এলাকার মধ্যে চারটি স্থানে ২৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়। এসব ঘরের মধ্যে ১৯টিতেই ঝুলতে দেখা গেছে তালা। উপকারভোগী কোনো পরিবারকে পাওয়া যায়নি। আশপাশে আবর্জনা ও ঘাষ লতা-পাতায় পরিপূর্ণ দেকে বোঝাই যায় যে ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা হয়নি।
কামারখন্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে রায়দৌলতপুর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় চরবাঁশবাড়িয়া ৮০টি ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামে ২৬টি মোট ১০৬টি ঘর নির্মাণ হয়। এসব ঘর দুই শতাংশ জমিসহ ভূমিহীনদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপকারভোগী এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবিসহ যাবতীয় কাগজপত্র হস্তান্তর করেন।
এদিকে সাবিনা, আব্দুল্লাহ, উত্তম কুমারসহ বেশ কয়েকজন উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এক স্থানে চারটি ঘরের মধ্যে তিনজনই থাকেন না। অপর একটি স্থানে ছয়টি ঘরের মধ্যে কোনটিতেই কোনো উপকারভোগী থাকেন না।
আব্দুল্লাহ নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী বলেন, আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করলেও এখানে বেশিরভাগ ঘরেই কোনো পরিবার থাকেন না। ঘরে তালা ঝুলিয়ে গেছেন তারা এসে খোঁজ খবরও নেন না।
এ বিষয়ে রায় দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ ঘরেই কেউ থাকেন না। তারা ঘরে তালা ঝুলিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে থাকেন। হয়তো ওই সময় ভূল তথ্য দিয়ে তারা এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছিলেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেরিনা সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবার ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। যারা কাজের জন্য বাইরে থাকেন, তাদের ঘর বাতিল করা হবে না। কিন্তু যারা এলাকায় থাকতেও আগের বাড়িতে বসবাস করেন তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হবে।