ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১২ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি সীতাকুণ্ডের আগুন, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় এসএল গ্রুপের মালিকানাধীন ইউনিটেক্স তুলার গুদামে লাগা আগুন ১২ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইতোমধ্যে আগুন নেভানোর জন্য ব্যবহার করায় ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সব জলাশয়ের পানি শেষ হয়ে গেছে। তবে এখনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি এনে আগুন নির্বাপণের কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের আট ইউনিট। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর চার, নৌবাহিনীর চার, বিমান বাহিনীর দুইসহ ১৮টি ইউনিট কাজ করছে। এরই মধ্যে বিজিবির চারটি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট এসেছে ঘটনাস্থলে। সবমিলে ২২টি ইউনিট কাজ করছে।

শনিবার (১১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কুমিরা এলাকার ওই তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এত সময়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ জানিয়ে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই গুদামে দুই হাজার ৭০০ টন তুলা ছিল। তুলার আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে। আগুন লাগার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি স্টেশনের আটটি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণে না আসায় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিট কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনাস্থলে এসেছে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ফাইটিং টিম।’

সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মাহমুদের নেতৃত্বে ফায়ার ফাইটিং ইউনিট কাজ করছে। তিনি জানিয়েছেন, এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে এসেছে নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ফায়ার ফাইটিং টিম। তারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিরা এলাকার ওই তুলার গুদামে আগুন লাগে। শুরুতেই গুদামের পাশে থাকা খালের পানি দিয়ে আগুন নির্বাপণের চেষ্টা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপর ঘটনাস্থলের পাশে থাকা নেমসন কনটেইনার ডিপোর ভেতরে জলাধার থেকে পানি ছিটাতে থাকে। এই দুটি উৎসর পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসকে পানির উৎস খুঁজতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। তুলার গুদামটি অনেক বড়। আগুন গুদামের চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।’

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আশপাশের পুকুর ও খালে অল্প পরিমাণ পানি ছিল। পাম্প লাগানোর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি কমে এলে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতে নেমে যান। এতে পানি ঘোলা হয়ে যায়। পরে একাধিক স্থান থেকে পানি আনা হয়। এখনও নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে এসএল গ্রুপের গুদামটিতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েল্ডিংয়ের আগুন থেকেই অগ্নিপাতের সূচনা হয়েছে।’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীর ঘটনাস্থলে আছেন। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’

এর আগে, ৪ মার্চ বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাত জন নিহত হন। দগ্ধ ও আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

১২ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি সীতাকুণ্ডের আগুন, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় ০৪:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মার্চ ২০২৩

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা এলাকায় এসএল গ্রুপের মালিকানাধীন ইউনিটেক্স তুলার গুদামে লাগা আগুন ১২ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইতোমধ্যে আগুন নেভানোর জন্য ব্যবহার করায় ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সব জলাশয়ের পানি শেষ হয়ে গেছে। তবে এখনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, আধা কিলোমিটার দূর থেকে পানি এনে আগুন নির্বাপণের কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের আট ইউনিট। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর চার, নৌবাহিনীর চার, বিমান বাহিনীর দুইসহ ১৮টি ইউনিট কাজ করছে। এরই মধ্যে বিজিবির চারটি ফায়ার ফাইটিং ইউনিট এসেছে ঘটনাস্থলে। সবমিলে ২২টি ইউনিট কাজ করছে।

শনিবার (১১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট কুমিরা এলাকার ওই তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এত সময়েও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসার কারণ জানিয়ে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই গুদামে দুই হাজার ৭০০ টন তুলা ছিল। তুলার আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে। আগুন লাগার পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি স্টেশনের আটটি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণে না আসায় সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিট কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনাস্থলে এসেছে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ফাইটিং টিম।’

সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মাহমুদের নেতৃত্বে ফায়ার ফাইটিং ইউনিট কাজ করছে। তিনি জানিয়েছেন, এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে এসেছে নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর ফায়ার ফাইটিং টিম। তারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিরা এলাকার ওই তুলার গুদামে আগুন লাগে। শুরুতেই গুদামের পাশে থাকা খালের পানি দিয়ে আগুন নির্বাপণের চেষ্টা করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপর ঘটনাস্থলের পাশে থাকা নেমসন কনটেইনার ডিপোর ভেতরে জলাধার থেকে পানি ছিটাতে থাকে। এই দুটি উৎসর পানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসকে পানির উৎস খুঁজতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে। তুলার গুদামটি অনেক বড়। আগুন গুদামের চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে।’

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আশপাশের পুকুর ও খালে অল্প পরিমাণ পানি ছিল। পাম্প লাগানোর কিছুক্ষণের মধ্যে পানি কমে এলে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতে নেমে যান। এতে পানি ঘোলা হয়ে যায়। পরে একাধিক স্থান থেকে পানি আনা হয়। এখনও নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে এসএল গ্রুপের গুদামটিতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েল্ডিংয়ের আগুন থেকেই অগ্নিপাতের সূচনা হয়েছে।’

সীতাকুণ্ড থানার ওসি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীর ঘটনাস্থলে আছেন। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’

এর আগে, ৪ মার্চ বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল এলাকায় সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাত জন নিহত হন। দগ্ধ ও আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।