ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ মাসের বাছুর প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ লিটার!

১০ মাসের বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে। শুনে অবাক হওয়ারই কথা। যেখানে নিজে বেঁচে আছে মায়ের দুধ পান করে। প্রসব ছাড়াই সেই দুধের বাছুরই আবার প্রতিদিন দিচ্ছে আড়াই থেকে তিন লিটার দুধ। একইসঙ্গে বাছুরটির মা প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে দেড় লিটার। এ নিয়ে উৎসুক মানুষের মাঝে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।

এমন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে। বকনা বাছুরটির মালিকের নাম আব্দুস ছালাম মিয়া।

আব্দুস ছালামের স্ত্রী পারভীন বেগম ১০ মাস বয়সের বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। এমন দৃশ্য দেখতে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। সকালে ও বিকালে দেড় লিটার করে একদিনে তিন লিটার দুধ সংগ্রহ করছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, একটা দিন দুধ সংগ্রহ না করলেও ওলান থেকে দুধ ঝরে পড়ে।

পারভীন বেগম বলেন, ৭-৮ মাস আগে বাছুরসহ এক লাখ তিন হাজার টাকায় একটি গাভি গরু কিনে যমুনার চরাঞ্চলে লালন-পালন করছেন। বাছুরটি মা শুরু থেকে ৩-৪ লিটার করে দুধ দিত। গেল রমজান মাসে ১০ মাস বয়সি বাছুরকে নদীতে গোসল করাতে গেলে সেটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন- এখানে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১০ মাস বয়সি বকনা বাছুরটি প্রসব ছাড়া দুধ দেওয়ার বিষয়টি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। শুরুতে দুধের পরিমাণ কম হলেও এখন দুধের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুই থেকে তিন লিটার করে দুধ দিচ্ছে। বাছুরটির মাও দেড় লিটার করে দুধ দিচ্ছে। প্রথমে বাছুরের দুধ ছাগলের বাচ্চাকে খাওয়ালেও এখন পরিবারের সদস্যরা এই দুধ পান করছেন। মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশীদেরও বিনামূল্যে দিয়ে আসছি।

বয়োজ্যেষ্ঠ বাদশা মিয়া, আনছার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, সাধারণত যে গাভি বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই গাভিই দুধ দিয়ে থাকে। অল্প বয়সী যে বাছুরটি প্রসব ছাড়া দুধ দিচ্ছে এটা একটা বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিষয়টি শুনে প্রথম বিশ্বাস করছিলাম না। পরে ছালামের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি ঘটনাটি সত্যি ও আশ্চর্য হয়েছি। এই খবর শুনে আশপাশের লোকজন ছাড়াও এ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

তবে এমন বিরল ঘটনায় বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ভূঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, হরমোনজনিত কারণে এমনটা অনেক সময় হয়ে থাকে। এ ঘটনাটি ভিন্ন রকম মনে হলেও ওই দুধ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ধরনের ঘটনা দেশে আগেও ঘটেছে। অতএব আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যে কেউ ওই বাছুরের দুধ পান করতে পারবেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, এসব বকনা বাছুর গরুর দুধ পান করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। এই দুধ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। তবে দুধ পান না করাই ভালো। মূলত অতিমাত্রার হরমোন পরিবর্তনজনিত কারণে বাচ্চা প্রসব ছাড়াই দুধ দিতে পারে গরু। তবে এ ঘটনা খুবই বিরল তা নয়। এর আগে জেলার সখীপুর উপজেলাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি স্বাভাবিক ঘটনা। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

১০ মাসের বাছুর প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে ৩ লিটার!

আপডেট সময় ০৪:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ মে ২০২৩

১০ মাসের বকনা বাছুর দুধ দিচ্ছে। শুনে অবাক হওয়ারই কথা। যেখানে নিজে বেঁচে আছে মায়ের দুধ পান করে। প্রসব ছাড়াই সেই দুধের বাছুরই আবার প্রতিদিন দিচ্ছে আড়াই থেকে তিন লিটার দুধ। একইসঙ্গে বাছুরটির মা প্রতিদিন দুধ দিচ্ছে দেড় লিটার। এ নিয়ে উৎসুক মানুষের মাঝে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে।

এমন ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে। বকনা বাছুরটির মালিকের নাম আব্দুস ছালাম মিয়া।

আব্দুস ছালামের স্ত্রী পারভীন বেগম ১০ মাস বয়সের বকনা গরুর ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করছেন। এমন দৃশ্য দেখতে উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় করছেন। সকালে ও বিকালে দেড় লিটার করে একদিনে তিন লিটার দুধ সংগ্রহ করছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, একটা দিন দুধ সংগ্রহ না করলেও ওলান থেকে দুধ ঝরে পড়ে।

পারভীন বেগম বলেন, ৭-৮ মাস আগে বাছুরসহ এক লাখ তিন হাজার টাকায় একটি গাভি গরু কিনে যমুনার চরাঞ্চলে লালন-পালন করছেন। বাছুরটি মা শুরু থেকে ৩-৪ লিটার করে দুধ দিত। গেল রমজান মাসে ১০ মাস বয়সি বাছুরকে নদীতে গোসল করাতে গেলে সেটির ওলান ফোলা দেখে ধারণা করেন- এখানে দুধ জমেছে। তিনি তাৎক্ষণিক গরুটির ওলান থেকে দুধ সংগ্রহ করেন। প্রথম কয়েক দিন আধা লিটার দুধ পান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১০ মাস বয়সি বকনা বাছুরটি প্রসব ছাড়া দুধ দেওয়ার বিষয়টি দেখে আমরা অবাক হয়েছি। শুরুতে দুধের পরিমাণ কম হলেও এখন দুধের পরিমাণ বেড়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুই থেকে তিন লিটার করে দুধ দিচ্ছে। বাছুরটির মাও দেড় লিটার করে দুধ দিচ্ছে। প্রথমে বাছুরের দুধ ছাগলের বাচ্চাকে খাওয়ালেও এখন পরিবারের সদস্যরা এই দুধ পান করছেন। মাঝে-মধ্যে প্রতিবেশীদেরও বিনামূল্যে দিয়ে আসছি।

বয়োজ্যেষ্ঠ বাদশা মিয়া, আনছার আলীসহ স্থানীয়রা জানান, সাধারণত যে গাভি বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই গাভিই দুধ দিয়ে থাকে। অল্প বয়সী যে বাছুরটি প্রসব ছাড়া দুধ দিচ্ছে এটা একটা বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। বিষয়টি শুনে প্রথম বিশ্বাস করছিলাম না। পরে ছালামের বাড়িতে গিয়ে দেখেছি ঘটনাটি সত্যি ও আশ্চর্য হয়েছি। এই খবর শুনে আশপাশের লোকজন ছাড়াও এ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

তবে এমন বিরল ঘটনায় বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ভূঞাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুকুমার চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, হরমোনজনিত কারণে এমনটা অনেক সময় হয়ে থাকে। এ ঘটনাটি ভিন্ন রকম মনে হলেও ওই দুধ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসম্মত। এ ধরনের ঘটনা দেশে আগেও ঘটেছে। অতএব আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। যে কেউ ওই বাছুরের দুধ পান করতে পারবেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রানা মিয়া বলেন, এসব বকনা বাছুর গরুর দুধ পান করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। এই দুধ পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। তবে দুধ পান না করাই ভালো। মূলত অতিমাত্রার হরমোন পরিবর্তনজনিত কারণে বাচ্চা প্রসব ছাড়াই দুধ দিতে পারে গরু। তবে এ ঘটনা খুবই বিরল তা নয়। এর আগে জেলার সখীপুর উপজেলাতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি স্বাভাবিক ঘটনা। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।