ঢাকা , বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হোটেলে খাবারের বিল ১০ টাকা কম দেওয়ায় মেরে রক্তাক্ত, সংঘর্ষ

বরিশাল নগরীর নৌ-বন্দর এলাকায় একটি হোটেলে খাওয়া শেষে ১০ টাকা বিল কম দেওয়ায় ক্রেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হোটেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় পুলিশসহ তিন জন আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর নৌ-বন্দর এলাকায় ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে বিল কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও দোকান ভাঙচুর করেছে একটি পক্ষ।

আহতরা হলেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সেলিম সরদার ও মহসিন মার্কেটের কর্মচারী সৌরভ ঢালী এবং হেলাল। আটককৃতরা হলেন ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্মচারী ভবতোষ সাহা ও শ্যামল বিশ্বাস।

কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আরাফাত রহমান, প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল ও আবুল কালাম জানান, নৌ-বন্দর এলাকার মহসিন মার্কেটের কর্মচারী সৌরভ ঢালী ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে খাবার খেয়ে যা বিল হয় তার চেয়ে ১০ টাকা কম দেন। কিন্তু কম টাকা নিতে রাজি হননি ক্যাশিয়ার। এ নিয়ে সৌরভের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ক্যাশিয়ারের। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীরা সৌরভকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন।

বিষয়টি মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা জেনে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সেইসঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এসআই সেলিম আহত হন। তার হাত ফেটে যায়। এরপর পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেন তারা।

আহত সৗরভ ঢালী বলেন, ‘প্রতিদিন ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে নাশতা করি। প্রতিদিন যে খাবার খাই তাতে বিল হয় ৩০ টাকা। আজও একই খাবার খেয়ে ৩০ টাকা বিল দিই। কিন্তু কর্মচারীরা ৪০ টাকা দিতে বলেন। তখন ৩০ টাকা বিল দিয়ে ক্যাশিয়ারকে বলি, গতকাল যা খেয়েছি আজও তা খেয়েছি, তাহলে ১০ টাকা বেশি বিল হবে কেন? তখন ক্যাশিয়ার বলেন আরও ১০ টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে হঠাৎ দোকানের কর্মচারীরা আমার ওপর হামলা চালান। সেইসঙ্গে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে যায়।’

ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক ভবতোষ ঘোষ ভানু বলেন, ‘খাবারের মূল্য তালিকায় ৪০ টাকা লেখা আছে। ওই ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে আমাদের ৩০ টাকা বিল দিতে চান। এ নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে আমার দোকান ভাঙচুর করা হয়।’

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক বিপ্লব কুমার মিস্ত্রি বলেন, ‘এ ঘটনায় আহত সৌরভ ঢালীর বাবা মামলা করবেন বলেছেন। মামলায় আটক দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার দেখানো হবে। পাশাপাশি দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

হোটেলে খাবারের বিল ১০ টাকা কম দেওয়ায় মেরে রক্তাক্ত, সংঘর্ষ

আপডেট সময় ০৪:২২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৩

বরিশাল নগরীর নৌ-বন্দর এলাকায় একটি হোটেলে খাওয়া শেষে ১০ টাকা বিল কম দেওয়ায় ক্রেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও হোটেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় পুলিশসহ তিন জন আহত হয়েছেন। সেইসঙ্গে দোকানের দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর নৌ-বন্দর এলাকায় ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে বিল কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও দোকান ভাঙচুর করেছে একটি পক্ষ।

আহতরা হলেন কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই সেলিম সরদার ও মহসিন মার্কেটের কর্মচারী সৌরভ ঢালী এবং হেলাল। আটককৃতরা হলেন ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের কর্মচারী ভবতোষ সাহা ও শ্যামল বিশ্বাস।

কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আরাফাত রহমান, প্রত্যক্ষদর্শী মো. বাবুল ও আবুল কালাম জানান, নৌ-বন্দর এলাকার মহসিন মার্কেটের কর্মচারী সৌরভ ঢালী ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে খাবার খেয়ে যা বিল হয় তার চেয়ে ১০ টাকা কম দেন। কিন্তু কম টাকা নিতে রাজি হননি ক্যাশিয়ার। এ নিয়ে সৌরভের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ক্যাশিয়ারের। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারীরা সৌরভকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন।

বিষয়টি মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা জেনে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সেইসঙ্গে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এসআই সেলিম আহত হন। তার হাত ফেটে যায়। এরপর পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেন তারা।

আহত সৗরভ ঢালী বলেন, ‘প্রতিদিন ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারে নাশতা করি। প্রতিদিন যে খাবার খাই তাতে বিল হয় ৩০ টাকা। আজও একই খাবার খেয়ে ৩০ টাকা বিল দিই। কিন্তু কর্মচারীরা ৪০ টাকা দিতে বলেন। তখন ৩০ টাকা বিল দিয়ে ক্যাশিয়ারকে বলি, গতকাল যা খেয়েছি আজও তা খেয়েছি, তাহলে ১০ টাকা বেশি বিল হবে কেন? তখন ক্যাশিয়ার বলেন আরও ১০ টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে হঠাৎ দোকানের কর্মচারীরা আমার ওপর হামলা চালান। সেইসঙ্গে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে যায়।’

ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক ভবতোষ ঘোষ ভানু বলেন, ‘খাবারের মূল্য তালিকায় ৪০ টাকা লেখা আছে। ওই ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে আমাদের ৩০ টাকা বিল দিতে চান। এ নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে আমার দোকান ভাঙচুর করা হয়।’

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক বিপ্লব কুমার মিস্ত্রি বলেন, ‘এ ঘটনায় আহত সৌরভ ঢালীর বাবা মামলা করবেন বলেছেন। মামলায় আটক দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার দেখানো হবে। পাশাপাশি দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।’