ঢাকা , বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হিজাবে আরও কঠোর ইরান

হিজাব না পরা ইরানি নারীদের এখন থেকে তেহরানের মেট্রো ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হবে। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে এই খবর প্রচারিত হয়েছে। হিজাববিরোধী ব্যাপক আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ ইরানি নারীদের হিজাব পরার নিয়মে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে নারীরাও।

মঙ্গলবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব লঙ্ঘনকারী নারীদের শনাক্তে রাস্তায় রাস্তায় সিসিটিভি বসানোর পর থেকেই নীতিতে সরকারের কঠিন অবস্থান ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া ছবি পোস্ট করছে নারীরা।

সোমবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোত নতুন হিজাব প্রয়োগকারী টিম গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, যেসব নারী হিজাব পরেননি তাদের টিকিট নিতে বাধা দিচ্ছে মেট্রো কর্মীরা। গত সপ্তাহে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন। এরপর থেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ হিজাব আইন কার্যকরের জন্য রাস্তায় ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান ট্রাফিক ক্যামেরা সিসিটিভি ব্যবহার করে এই আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ প্রধান আহমাদ-রেজা রাদান বলেছেন, ‘আগামী শনিবার থেকে যারা তাদের হিজাব খুলে ফেলবে তাদের স্মার্ট সরঞ্জাম ব্যবহার করে চিহ্নিত করা হবে।’ এ ছাড়া যেসব নারীকে হিজাব ছাড়া দেখা যাবে, তাদের ফোনে পরিণাম সম্পর্কে সতর্কীকরণ বার্তা দেওয়া হবে।

ইরানি বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা হিজাব না পরার জন্য আদালতে নেওয়া নারীদের ওপর জরিমানা আরোপ করতে ইচ্ছুক। যদি হিজাব ছাড়া কোনো নারীকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়, তবে তাদের গাড়ি জব্দ করা হতে পারে। হিজাব ছাড়া নারী যে ট্যাক্সি বা গাড়িতে উঠবে সেই চালককেও গ্রেফতার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে ইরানি নীতি পুলিশ সঠিকভাবে হিজাব না পরার কারণে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সি এই তরুণীর মৃত্যু হলে ইরানজুড়ে হিজাববিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে ১ ডিসেম্বর নীতি পুলিশ বিলুপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল দেশটির সরকার। এরপর হিজাব ছাড়া চলাচলকারী নারীর সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে এখন আবার নতুন করে হিজাব আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

হিজাবে আরও কঠোর ইরান

আপডেট সময় ০৪:০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০২৩

হিজাব না পরা ইরানি নারীদের এখন থেকে তেহরানের মেট্রো ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হবে। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে এই খবর প্রচারিত হয়েছে। হিজাববিরোধী ব্যাপক আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষ ইরানি নারীদের হিজাব পরার নিয়মে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে নারীরাও।

মঙ্গলবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব লঙ্ঘনকারী নারীদের শনাক্তে রাস্তায় রাস্তায় সিসিটিভি বসানোর পর থেকেই নীতিতে সরকারের কঠিন অবস্থান ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া ছবি পোস্ট করছে নারীরা।

সোমবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের মেট্রো স্টেশনগুলোত নতুন হিজাব প্রয়োগকারী টিম গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভির ফুটেজে দেখা গেছে, যেসব নারী হিজাব পরেননি তাদের টিকিট নিতে বাধা দিচ্ছে মেট্রো কর্মীরা। গত সপ্তাহে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বাধ্যতামূলক হিজাব পরিধানের বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন। এরপর থেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো প্রয়োগ করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ হিজাব আইন কার্যকরের জন্য রাস্তায় ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান ট্রাফিক ক্যামেরা সিসিটিভি ব্যবহার করে এই আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভি চ্যানেলে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে পুলিশ প্রধান আহমাদ-রেজা রাদান বলেছেন, ‘আগামী শনিবার থেকে যারা তাদের হিজাব খুলে ফেলবে তাদের স্মার্ট সরঞ্জাম ব্যবহার করে চিহ্নিত করা হবে।’ এ ছাড়া যেসব নারীকে হিজাব ছাড়া দেখা যাবে, তাদের ফোনে পরিণাম সম্পর্কে সতর্কীকরণ বার্তা দেওয়া হবে।

ইরানি বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা হিজাব না পরার জন্য আদালতে নেওয়া নারীদের ওপর জরিমানা আরোপ করতে ইচ্ছুক। যদি হিজাব ছাড়া কোনো নারীকে গাড়ি চালাতে দেখা যায়, তবে তাদের গাড়ি জব্দ করা হতে পারে। হিজাব ছাড়া নারী যে ট্যাক্সি বা গাড়িতে উঠবে সেই চালককেও গ্রেফতার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে ইরানি নীতি পুলিশ সঠিকভাবে হিজাব না পরার কারণে গ্রেফতার করেছিল। পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সি এই তরুণীর মৃত্যু হলে ইরানজুড়ে হিজাববিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের মুখে ১ ডিসেম্বর নীতি পুলিশ বিলুপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল দেশটির সরকার। এরপর হিজাব ছাড়া চলাচলকারী নারীর সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে এখন আবার নতুন করে হিজাব আইন প্রয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার।