ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: প্রথম দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ-ভাঙচুর

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ মার্চ) প্রথম দফায় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সংঘর্ষ বাঁধে বেলা ১২টার দিকে। এসময় সুপ্রিম কোর্টে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীরাও পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ভোটকেন্দ্র ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রায় আধাঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশপথের বাইরে প্যান্ডেল ভাংচুর করেন। এক পর্যায়ে তারা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের ১৪৬ নম্বর চেম্বারটিতেও ব্যাপক ভাংচুর করেন। পরে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধরতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। প্রায় আধা ঘণ্টা করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় আদালত অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে প্রতিবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সংবাদ সম্মেলনে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারে যেটা হচ্ছে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে চার বার গিয়েছি। তিনি দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট বারে নির্বাচনের নামে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুন। আর যারা আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। আমাদের আন্দোলন চলবে। এটা কোনো নির্বাচন নয়, নতুন নির্বাচন দিতে হবে।’

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে। কিন্তু সে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপির আইনজীবীরা সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করছিল। পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। বিএনপির আইনজীবীরা দফায় দফায় হামলা চালায়। এরপরও সাধারণ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। সারাদিন ২ হাজার ২১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এর আগে গত ১৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগপত্র জমা দেন। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে ভোট গণনায় ইলেকট্রনিক মেশিন প্রবর্তন, ব্যালট পেপার ছাপানোসহ বেশকিছু কারণে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী আজম ও জেসমিন সুলতানা, ট্রেজারার পদে মাসুদ আলম চৌধুরী, সহ-সম্পাদক পদে নুরে আলম উজ্জ্বল ও হারুনুর রশিদ।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মনোনীত সাত প্রার্থী হলেন— মো. সাফায়েত হোসেন সজীব, মহিউদ্দিন রুদ্রু, শফিক রায়হান শাওন, সুভাষ চন্দ্র দাস, নাজমুল হোসেন স্বপন, মো. দেলোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান রানা।

অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি পদে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির মঞ্জু, সরকার তাহমিনা সন্ধ্যা, সহ-সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ পদে রেজাউল করিম। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান নজরুল, ফাতিমা আক্তার, ফজলে এলাহি অভি, ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও রাসেল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২০২৪ সেশনের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদ-সহ সর্বমোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: প্রথম দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ-ভাঙচুর

আপডেট সময় ০৪:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ ২০২৩

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ মার্চ) প্রথম দফায় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সংঘর্ষ বাঁধে বেলা ১২টার দিকে। এসময় সুপ্রিম কোর্টে দায়িত্বরত গণমাধ্যমকর্মীরাও পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ভোটকেন্দ্র ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রায় আধাঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা মিছিল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশপথের বাইরে প্যান্ডেল ভাংচুর করেন। এক পর্যায়ে তারা সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের ১৪৬ নম্বর চেম্বারটিতেও ব্যাপক ভাংচুর করেন। পরে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধরতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। প্রায় আধা ঘণ্টা করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় আদালত অঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে প্রতিবাদ জানিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সংবাদ সম্মেলনে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারে যেটা হচ্ছে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। তিনি এ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে চার বার গিয়েছি। তিনি দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্ট বারে নির্বাচনের নামে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুন। আর যারা আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। আমাদের আন্দোলন চলবে। এটা কোনো নির্বাচন নয়, নতুন নির্বাচন দিতে হবে।’

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে। কিন্তু সে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপির আইনজীবীরা সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করছিল। পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। বিএনপির আইনজীবীরা দফায় দফায় হামলা চালায়। এরপরও সাধারণ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। সারাদিন ২ হাজার ২১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এর আগে গত ১৩ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগপত্র জমা দেন। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে ভোট গণনায় ইলেকট্রনিক মেশিন প্রবর্তন, ব্যালট পেপার ছাপানোসহ বেশকিছু কারণে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক পদে বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুন নুর দুলাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী আজম ও জেসমিন সুলতানা, ট্রেজারার পদে মাসুদ আলম চৌধুরী, সহ-সম্পাদক পদে নুরে আলম উজ্জ্বল ও হারুনুর রশিদ।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মনোনীত সাত প্রার্থী হলেন— মো. সাফায়েত হোসেন সজীব, মহিউদ্দিন রুদ্রু, শফিক রায়হান শাওন, সুভাষ চন্দ্র দাস, নাজমুল হোসেন স্বপন, মো. দেলোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান রানা।

অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি পদে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির মঞ্জু, সরকার তাহমিনা সন্ধ্যা, সহ-সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ পদে রেজাউল করিম। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান নজরুল, ফাতিমা আক্তার, ফজলে এলাহি অভি, ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ ও রাসেল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৩-২০২৪ সেশনের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে একটি, সহ-সভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহ-সম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদ-সহ সর্বমোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল।