ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ২৮ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সরকার পদত্যাগ করলে সংলাপ করবে কে?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সরকার যদি পদত্যাগ করে তাহলে সংলাপ করবে কে ?

গতকাল শনিবার রমজান উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালামস্থ সিদ্ধান্ত হাইস্কুল মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগ করে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার যদি পদত্যাগ করে তাহলে সংলাপ করবে কে ? এ প্রশ্নের উত্তর মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে জানতে চাই। এ উদ্ভট, আবোল তাবোল কথা বলছে বিএনপি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপির মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসে না। ভাটার টান এসে গেছে। নির্বাচনে কেউ না এলে জোর করে আনা যাবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবে। তাই তারা নির্বাচন ভন্ডুল করতে চায়। নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে কেউ নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে তাদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, রমজানের দিনে ৩৬৫ টি কর্মসূচি দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ ও অবরোধ করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া বিএনপির রাজনীতি গণবিরোধী। তিনি বলেন, যারা এ দেশে আগুন সন্ত্রাস করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত সেই বিএনপি এখন আগুনের কথা বলে তখন আমাদের কাছে মনে হয় ঠাকুর ঘরে কে রে ? আমি কলা খাইনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল আজ ঘন ঘন আগুনের কথা বলেন। এই আগুন ও সন্ত্রাস- দুটোই তারা সৃষ্টি করেছেন। আমাদের সন্দেহ, দেশে এখন আগুন নিয়ে যে নাশকতা হচ্ছে, সে নাশকতার সঙ্গে বিএনপি যুক্ত। আগুন নিয়ে যারা নাশকতা করছে তাদের অতীতের ইতিহাস আগুন-সন্ত্রাস। এই ইতিহাস এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির পদযাত্রা নিরব যাত্রা। মানুষ বলে মরণ যাত্রা। এখন বিএনপির আন্দোলন মাটিতে নেমে গেছে, তার নাম অবস্থান কর্মসূচি। এ আন্দোলন পাবলিক খায় না, এ আন্দোলনে জনগণ নেই। তিনি বলেন, ৫২ দল শুনেছি, এখন পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও বিএনপির শরীকদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোথায় ২৭ দফা ? টেমস নদীর পাড় থেকে অনলাইনে আন্দোলনের ডাক দেন তারেক রহমান। তাদের ডাকে মানুষ সাড়া দেয় না। আন্দোলনের নামে বিএনপি আজ নৈরাজ্য করতে চায়, নাশকতা করতে চায়। রাষ্ট্র নাকি মেরামত করবে ? এই রাষ্ট্র মেরামত করেছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র যারা ধ্বংস করে তারা মেরামত করতে পারে না। বিএনপি কূটনীতিকদের পাড়ায় পাড়ায় পদচারণা করছে। জাতিসংঘের কাছে নালিশ দেবে বলেছে। জাতিসংঘের কাছে যত নালিশ করেন, যত আবদার করেন, সালিশ করার এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই। বিদেশ থেকে অনেক কূটনীতিক আসে। সরকারের সঙ্গে বৈঠক হয়। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তারা কোনো বৈঠক করে না।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আইন করে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচনকে ভন্ডুল করা তাদের মতলব। নির্বাচনে না এলে জোর করে আনতে পারবো না। কিন্তু নির্বাচনে বাধা দিতে আসলে প্রতিরোধ করা হবে। নির্বাচন পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বো না, অপরাজনীতির হোতা বিএনপিকে প্রতিহত করবো।

দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

সরকার পদত্যাগ করলে সংলাপ করবে কে?

আপডেট সময় ০৪:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সরকার যদি পদত্যাগ করে তাহলে সংলাপ করবে কে ?

গতকাল শনিবার রমজান উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালামস্থ সিদ্ধান্ত হাইস্কুল মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার সামগ্রী ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগ করে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার যদি পদত্যাগ করে তাহলে সংলাপ করবে কে ? এ প্রশ্নের উত্তর মির্জা ফখরুল সাহেবের কাছে জানতে চাই। এ উদ্ভট, আবোল তাবোল কথা বলছে বিএনপি। আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপির মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসে না। ভাটার টান এসে গেছে। নির্বাচনে কেউ না এলে জোর করে আনা যাবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি জানে নির্বাচন হলে তারা হেরে যাবে। তাই তারা নির্বাচন ভন্ডুল করতে চায়। নির্বাচন কমিশন এখন নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে কেউ নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে তাদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, রমজানের দিনে ৩৬৫ টি কর্মসূচি দিয়ে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ ও অবরোধ করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া বিএনপির রাজনীতি গণবিরোধী। তিনি বলেন, যারা এ দেশে আগুন সন্ত্রাস করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত সেই বিএনপি এখন আগুনের কথা বলে তখন আমাদের কাছে মনে হয় ঠাকুর ঘরে কে রে ? আমি কলা খাইনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল আজ ঘন ঘন আগুনের কথা বলেন। এই আগুন ও সন্ত্রাস- দুটোই তারা সৃষ্টি করেছেন। আমাদের সন্দেহ, দেশে এখন আগুন নিয়ে যে নাশকতা হচ্ছে, সে নাশকতার সঙ্গে বিএনপি যুক্ত। আগুন নিয়ে যারা নাশকতা করছে তাদের অতীতের ইতিহাস আগুন-সন্ত্রাস। এই ইতিহাস এদেশের মানুষ ভুলে যায়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির পদযাত্রা নিরব যাত্রা। মানুষ বলে মরণ যাত্রা। এখন বিএনপির আন্দোলন মাটিতে নেমে গেছে, তার নাম অবস্থান কর্মসূচি। এ আন্দোলন পাবলিক খায় না, এ আন্দোলনে জনগণ নেই। তিনি বলেন, ৫২ দল শুনেছি, এখন পাঁচ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও বিএনপির শরীকদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কোথায় ২৭ দফা ? টেমস নদীর পাড় থেকে অনলাইনে আন্দোলনের ডাক দেন তারেক রহমান। তাদের ডাকে মানুষ সাড়া দেয় না। আন্দোলনের নামে বিএনপি আজ নৈরাজ্য করতে চায়, নাশকতা করতে চায়। রাষ্ট্র নাকি মেরামত করবে ? এই রাষ্ট্র মেরামত করেছেন শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র যারা ধ্বংস করে তারা মেরামত করতে পারে না। বিএনপি কূটনীতিকদের পাড়ায় পাড়ায় পদচারণা করছে। জাতিসংঘের কাছে নালিশ দেবে বলেছে। জাতিসংঘের কাছে যত নালিশ করেন, যত আবদার করেন, সালিশ করার এখতিয়ার জাতিসংঘের নেই। বিদেশ থেকে অনেক কূটনীতিক আসে। সরকারের সঙ্গে বৈঠক হয়। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে তারা কোনো বৈঠক করে না।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আইন করে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে শেখ হাসিনার সরকার। নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচনকে ভন্ডুল করা তাদের মতলব। নির্বাচনে না এলে জোর করে আনতে পারবো না। কিন্তু নির্বাচনে বাধা দিতে আসলে প্রতিরোধ করা হবে। নির্বাচন পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বো না, অপরাজনীতির হোতা বিএনপিকে প্রতিহত করবো।

দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের আয়োজনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচিসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন।