ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, থাকছে ২টি স্পেশাল ট্রেন

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত প্রায় আড়াইশ বছরের প্রাচীন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার কলঙ্কজনক অধ্যায়কে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে আসা-যাওয়া করবে দুটি স্পেশাল ট্রেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানটিতে প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের জামাতে দেশ-বিদেশের সাড়ে তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ আদায় করে থাকেন।

২০১৬ সালে এ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে প্রবেশ পথের নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুজন পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ এবং এক জঙ্গি নিহত হয়। আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। তবু এ ঈদগাহ ময়দানের ধারাবাহিক জামাত আয়োজনে ছন্দপতন ঘটেনি; কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

জনশ্রুতি আছে, দীর্ঘ দিন আগে এ মাঠে অনুষ্ঠিত এক ঈদুল ফিতরের জামাতে কাতার গণনা করে ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতি মিলে। তখন থেকেই এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবে লোকজন ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চারণ বিবর্তনে এ ঈদগাহ ময়দানের নাম শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠে।

এবার এ ঈদগাহ ময়দানে ১৯৬তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় এ জামাতে ইমামতি করবেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, মুসল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাস্ক, টুপি ও জায়নামাজ ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে নিয়ে জামাতে প্রবেশ করা যাবে না। মোবাইল ফোন ও ছাতা নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে বৃষ্টির দিন থাকলে ছাতা নিয়ে প্রবেশের বিষয় বিবেচনা করা হবে। এছাড়া থাকবে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে সকাল-দুপুর দুটি বিশেষ ট্রেন আসা-যাওয়া করবে।

ঈদুল ফিতরের জামাতের প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার বিকালে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান সরেজমিন পরিদর্শনকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটিই জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।

এ সময় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, থাকছে ২টি স্পেশাল ট্রেন

আপডেট সময় ০৪:৩৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৩

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত প্রায় আড়াইশ বছরের প্রাচীন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার কলঙ্কজনক অধ্যায়কে সামনে রেখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে আসা-যাওয়া করবে দুটি স্পেশাল ট্রেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো এ ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানটিতে প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের জামাতে দেশ-বিদেশের সাড়ে তিন লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ আদায় করে থাকেন।

২০১৬ সালে এ মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে প্রবেশ পথের নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুজন পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ এবং এক জঙ্গি নিহত হয়। আহত হয় আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। তবু এ ঈদগাহ ময়দানের ধারাবাহিক জামাত আয়োজনে ছন্দপতন ঘটেনি; কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর এ ঈদগাহ ময়দানে ঈদের কোনো জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

জনশ্রুতি আছে, দীর্ঘ দিন আগে এ মাঠে অনুষ্ঠিত এক ঈদুল ফিতরের জামাতে কাতার গণনা করে ১ লাখ ২৫ হাজার মুসল্লির উপস্থিতি মিলে। তখন থেকেই এ ঈদগাহ ময়দানটিকে সোয়া লাখিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবে লোকজন ডাকতে শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চারণ বিবর্তনে এ ঈদগাহ ময়দানের নাম শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান হিসেবেই সমধিক পরিচিত হয়ে ওঠে।

এবার এ ঈদগাহ ময়দানে ১৯৬তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় এ জামাতে ইমামতি করবেন বাংলাদেশ ইসলাহুল মুসলেমিন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, মুসল্লিদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাস্ক, টুপি ও জায়নামাজ ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে নিয়ে জামাতে প্রবেশ করা যাবে না। মোবাইল ফোন ও ছাতা নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে বৃষ্টির দিন থাকলে ছাতা নিয়ে প্রবেশের বিষয় বিবেচনা করা হবে। এছাড়া থাকবে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে সকাল-দুপুর দুটি বিশেষ ট্রেন আসা-যাওয়া করবে।

ঈদুল ফিতরের জামাতের প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার বিকালে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান সরেজমিন পরিদর্শনকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটিই জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।

এ সময় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।