ঢাকা , বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রভাব কী হতে পারে? Logo মায়ের ওড়না শাড়ি বানিয়ে পরলেন জেফার, দেখালেন চমক Logo পরিবারসহ বেনজীরের আরও ১১৩ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ Logo হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে, উড়িয়ে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন Logo ফতুল্লায় রহিম হাজী ও সামেদ আলীর গ্রুপে সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ১৫ Logo সোনারগাঁয়ে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসায় শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন Logo মুছাপুরে স্বর্ণকার অজিতের প্রেমের ফাঁদে সর্বশান্ত প্রবাসী নারী Logo বন্দরে বিভিন্ন মামলার ২ সাঁজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার Logo নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় অন্ত:সত্তা নারীর মৃত্যু, চালক আটক

শাশুড়ির মৃত্যুতে নার্সদের পেটানোর অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে জেসমিন আক্তার (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর মেয়ের জামাই শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম জিকুসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা এক নার্সসহ পাঁচ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নার্সরা তিনি ঘণ্টা কর্মবিরতি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন।

রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নার্স শারমিন ইসলাম, শিখা খানম, মারুফা, আশরাফুন নাহার ও লাকি খাতুনসহ পাঁচ নার্সকে মারধর করা হয়। মৃত রোগী জেসমিন আক্তার পৌর শহরের চন্দ্রা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী এবং শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে আলম জিকুর শাশুড়ি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন আক্তার উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়েবেটিস নিয়ে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রোগীর স্বজনরা রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে যান। পরে সকালে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরে মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে তাকে ভর্তি ফাইল অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। ইসিজি করে চিকিৎসক রোগী মৃত বলে নিশ্চিত হন।

পরে চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে তারা দায়িত্বরত নার্সদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিকুসহ ৪-৫ জন স্বজন উত্তেজিত হয়ে নার্সদের কক্ষে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বাসহ পাঁচ নার্সকে মারধর করেন। এ সময় নার্সরা হাসপাতালের কর্মবিরতি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন। তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা চলছিল। সেই সভায় নার্সদের অভিযোগ শোনা হয় এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে তারা কাজে ফেরেন।

ভুক্তভোগী নার্স আশরাফুন নাহার বলেন, শনিবার বিকালে ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা সেবা নিয়ে রাতে কোনও কিছু না বলে তারা রোগী বাড়ি নিয়ে যান। সকালে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগী মারা যান। এ নিয়ে রোগীর মেয়ের জামাই জিকুসহ ৪-৫ স্বজন মিলে আমাদের মারধর করে।

নার্স শামসামছুন নাহার বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেছে। এখানে কোনও অবহেলা ছিল না। তারা আমাদের মারধর করেছে। এ মারধরের সঠিক বিচার না হলে ১৪ তারিখের পরে কঠিন কর্মসূচি হুঁশিয়ারি চলবে।

রোগীর স্বজন শিপলু হোসেন বলেন, আমি হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসছি। ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু কোনও নার্স সেবা দিচ্ছে না। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নার্স না থাকার কারণে দিতে পারছি না। রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম জিকু বলেন, মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওদের গাফিলতি ছিল। ওরা বসে ছিল। তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়ছে।

হাসপাতালে সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, এ নিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মেয়র দায়িত্ব নিয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আশ্বাসে নার্সরা কাজে ফিরেছেন। হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে অনেক লোক সমাগম দেখেছি। বিশৃঙ্খলা ও ঝগড়াঝাটি হয়। দুই পক্ষের অভিযোগ শুনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী

শাশুড়ির মৃত্যুতে নার্সদের পেটানোর অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৫:১৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে জেসমিন আক্তার (৫০) নামে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর মেয়ের জামাই শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম জিকুসহ স্বজনদের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা এক নার্সসহ পাঁচ জনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নার্সরা তিনি ঘণ্টা কর্মবিরতি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন।

রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নার্স শারমিন ইসলাম, শিখা খানম, মারুফা, আশরাফুন নাহার ও লাকি খাতুনসহ পাঁচ নার্সকে মারধর করা হয়। মৃত রোগী জেসমিন আক্তার পৌর শহরের চন্দ্রা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী এবং শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরে আলম জিকুর শাশুড়ি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেসমিন আক্তার উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়েবেটিস নিয়ে হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রোগীর স্বজনরা রাতে তাকে বাড়ি নিয়ে যান। পরে সকালে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরে মুক্তিযোদ্ধা কেবিনে তাকে ভর্তি ফাইল অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেন। এ সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। ইসিজি করে চিকিৎসক রোগী মৃত বলে নিশ্চিত হন।

পরে চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে তারা দায়িত্বরত নার্সদের কক্ষের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিকুসহ ৪-৫ জন স্বজন উত্তেজিত হয়ে নার্সদের কক্ষে গিয়ে এক অন্তঃসত্ত্বাসহ পাঁচ নার্সকে মারধর করেন। এ সময় নার্সরা হাসপাতালের কর্মবিরতি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন। তখন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা চলছিল। সেই সভায় নার্সদের অভিযোগ শোনা হয় এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে তারা কাজে ফেরেন।

ভুক্তভোগী নার্স আশরাফুন নাহার বলেন, শনিবার বিকালে ওই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা সেবা নিয়ে রাতে কোনও কিছু না বলে তারা রোগী বাড়ি নিয়ে যান। সকালে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে রোগী মারা যান। এ নিয়ে রোগীর মেয়ের জামাই জিকুসহ ৪-৫ স্বজন মিলে আমাদের মারধর করে।

নার্স শামসামছুন নাহার বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা গেছে। এখানে কোনও অবহেলা ছিল না। তারা আমাদের মারধর করেছে। এ মারধরের সঠিক বিচার না হলে ১৪ তারিখের পরে কঠিন কর্মসূচি হুঁশিয়ারি চলবে।

রোগীর স্বজন শিপলু হোসেন বলেন, আমি হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসছি। ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু কোনও নার্স সেবা দিচ্ছে না। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ নার্স না থাকার কারণে দিতে পারছি না। রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম জিকু বলেন, মারধরের কোনও ঘটনা ঘটেনি। ওদের গাফিলতি ছিল। ওরা বসে ছিল। তাদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়ছে।

হাসপাতালে সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, এ নিয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মেয়র দায়িত্ব নিয়েছেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের আশ্বাসে নার্সরা কাজে ফিরেছেন। হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছে পুলিশ। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে অনেক লোক সমাগম দেখেছি। বিশৃঙ্খলা ও ঝগড়াঝাটি হয়। দুই পক্ষের অভিযোগ শুনি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।