ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় থাকবে

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা কমিটি। এ সময়ে শহীদ মিনার এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোকে ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানান, এ বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন, অবস্থান ও চলে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকা ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসা হবে। শহীদ মিনার ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টসহ প্রয়োজনীয় এলাকায় সিসিটিভি, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও আর্চওয়ে থাকবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর এবং আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অপ্রীতিকর অবস্থা রোধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেই ট্রাফিক ম্যাপ মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে।

ঢাকা মহানগরীর বাইরে অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায়, বিভাগীয় এলাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা যাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সেজন্য জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেন সেজন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ৩০ মিনিটি বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রয়োজনীয় জনবলসহ অগ্নিনির্বাপণের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও লাইটিং ইউনিট মোতায়েন থাকবে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ফায়ারসার্ভিস সমন্বয় করে কাজ করবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধসহ ২টি চিকিৎসা ক্যাম্প থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে।

সকল অনুষ্ঠানে কোভিড-১৯ অতিমারি প্রতিরোধের লক্ষ্যে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৩ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকা ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় থাকবে

আপডেট সময় ০৬:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনে কয়েক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা কমিটি। এ সময়ে শহীদ মিনার এলাকা ছাড়াও আশপাশের এলাকাগুলোকে ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানান, এ বছর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন, অবস্থান ও চলে যাওয়ার সময় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে—শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকা ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসা হবে। শহীদ মিনার ও তৎসংলগ্ন এলাকাকে ভিডিও সার্ভিলেন্সের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টসহ প্রয়োজনীয় এলাকায় সিসিটিভি, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও আর্চওয়ে থাকবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর এবং আজিমপুর কবরস্থান এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে অপ্রীতিকর অবস্থা রোধ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেই ট্রাফিক ম্যাপ মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে।

ঢাকা মহানগরীর বাইরে অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায়, বিভাগীয় এলাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা যাতে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন সেজন্য জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেন সেজন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ৩০ মিনিটি বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রয়োজনীয় জনবলসহ অগ্নিনির্বাপণের গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও লাইটিং ইউনিট মোতায়েন থাকবে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ফায়ারসার্ভিস সমন্বয় করে কাজ করবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নার্স, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধসহ ২টি চিকিৎসা ক্যাম্প থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে।

সকল অনুষ্ঠানে কোভিড-১৯ অতিমারি প্রতিরোধের লক্ষ্যে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান টেলিভিশন ও বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৩ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।