ঢাকা , সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের কাহিনী শুনলেন বেলজিয়ামের রানী

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বেলজিয়ামের রানী মাথিলডে ৮ ঘণ্টার সফর শেষে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। এ সময় ৬ ঘণ্টা ক্যাম্পে অবস্থানকালে রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের কাহিনী শুনেছেন রানী।

পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় বেসরকারি উড়োজাহাজ নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত ও বিদায় জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রওনা দিয়ে বেলা ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান রানী। ক্যাম্পে পৌঁছে প্রথমে ৩ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি লার্নিং সেন্টারে পরিদর্শন করে তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি দেখেন। লার্নিং সেন্টারের রোহিঙ্গা শিশু ও নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ৪ নম্বর ক্যাম্পে গাছের চারা রোপণ করেন। ক্যাম্পে জাতিসংঘের কার্যক্রমগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

ক্যাম্পের ভেতর নারীদের পরিচালিত মার্কেট পরিদর্শনকালে দোকান ঘুরে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন রানী।

এরপর আরেকটি ওমেন সেন্টার পরিদর্শনের পর সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে, রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালে তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিষয়টি রানীর কাছে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন সেন্টার, হলিচাইল্ড লার্নিং সেন্টার, উইমেন মার্কেট পরিদর্শন শেষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়েও রানী কথা বলেন।

দুপুরের মধ্যহ্নভোজের পর রানী ক্যাম্পের ভেতরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টেশন পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বিকাল সোয়া ৪টায় ক্যাম্প থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে সোয়া ৫টায় বিমানবন্দরে পৌঁছান। সন্ধ্যা ৬টার বিমানে তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

এ সময় রানী মাথিলডের সঙ্গে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসা বেলজিয়ামের কোনো রানীর এ সফরে বিশেষ গুরুত্ব পায় মানবিক সহায়তা। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসেছেন তিনি।

বেলজিয়ামের রানীর আগমনকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুরো ক্যাম্প এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ, এবিপিএন সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। মোতায়েন করা হয় বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ।

সোমবার সকালে এক বিশেষ বিমানে বেলজিয়ামের রানী ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ তাকে স্বাগত জানান।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দূত হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বেলজিয়ামের রানী।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি জারি করা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রানী আসার কথা জানানো হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে রানীকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সফর শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে রানীর। জাতিসংঘ মহাসচিবের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ‘অ্যাডভোকেটের’ হিসেবে রানী ম্যাথিলডের এ বাংলাদেশ সফর।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের কাহিনী শুনলেন বেলজিয়ামের রানী

আপডেট সময় ০৪:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে বেলজিয়ামের রানী মাথিলডে ৮ ঘণ্টার সফর শেষে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। এ সময় ৬ ঘণ্টা ক্যাম্পে অবস্থানকালে রোহিঙ্গাদের নিপীড়নের কাহিনী শুনেছেন রানী।

পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি। এর আগে সকাল ১০টায় বেসরকারি উড়োজাহাজ নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান।

বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত ও বিদায় জানান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরান, পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রওনা দিয়ে বেলা ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান রানী। ক্যাম্পে পৌঁছে প্রথমে ৩ নম্বর ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি লার্নিং সেন্টারে পরিদর্শন করে তাদের শিক্ষাদান পদ্ধতি দেখেন। লার্নিং সেন্টারের রোহিঙ্গা শিশু ও নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ৪ নম্বর ক্যাম্পে গাছের চারা রোপণ করেন। ক্যাম্পে জাতিসংঘের কার্যক্রমগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

ক্যাম্পের ভেতর নারীদের পরিচালিত মার্কেট পরিদর্শনকালে দোকান ঘুরে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন রানী।

এরপর আরেকটি ওমেন সেন্টার পরিদর্শনের পর সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে, রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালে তাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনের বিষয়টি রানীর কাছে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন সেন্টার, হলিচাইল্ড লার্নিং সেন্টার, উইমেন মার্কেট পরিদর্শন শেষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়েও রানী কথা বলেন।

দুপুরের মধ্যহ্নভোজের পর রানী ক্যাম্পের ভেতরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টেশন পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর বিকাল সোয়া ৪টায় ক্যাম্প থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে সোয়া ৫টায় বিমানবন্দরে পৌঁছান। সন্ধ্যা ৬টার বিমানে তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

এ সময় রানী মাথিলডের সঙ্গে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসা বেলজিয়ামের কোনো রানীর এ সফরে বিশেষ গুরুত্ব পায় মানবিক সহায়তা। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসেছেন তিনি।

বেলজিয়ামের রানীর আগমনকে কেন্দ্র করে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুরো ক্যাম্প এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ, এবিপিএন সদস্যরা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। মোতায়েন করা হয় বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশ।

সোমবার সকালে এক বিশেষ বিমানে বেলজিয়ামের রানী ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ তাকে স্বাগত জানান।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) দূত হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন বেলজিয়ামের রানী।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি জারি করা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রানী আসার কথা জানানো হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে রানীকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সফর শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে রানীর। জাতিসংঘ মহাসচিবের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ‘অ্যাডভোকেটের’ হিসেবে রানী ম্যাথিলডের এ বাংলাদেশ সফর।