ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে বিএনপি এখন দেউলিয়া

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বা বাংলাদেশ কোনও সংকটে নেই। বরং ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ দাবি করে নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্যমতে, দুর্নীতির বরপুত্র, একুশে আগস্টের খুনি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান নাকি তাদের তথাকথিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয় বিএনপি নীতি ও আদর্শের রাজনীতির পথে না চলে অন্ধকারের কানাগলিতে অপরাজনীতির কূটকৌশলকে বেছে নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকার বা বাংলাদেশ কোনও সংকটে নেই। বরং ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বিএনপি। দেশবাসী ভালো করেই জানে, বহুমাত্রিক সংকটে পর্যুদস্ত বিএনপি এখন জনগণ দ্বারা লাল কার্ড খেয়ে রাজনীতির মাঠে বাউন্ডারির বাইরে অবস্থান করছে। লাগাতারভাবে ভুল রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে থাকা বিএনপি ক্রমেই দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম অর্থনীতির ধ্বংসের কথা বলেছেন। তিনি কিছুদিন আগে ‘পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। আজ তাদের সেই পেয়ারে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কী? আর তার বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুধারা রচনা করেছিল, ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপির আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, আজ অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিএনপির কথা বলা জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক মন্দা ও সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোবেদনা আমরা বুঝি, বাংলাদেশ পাকিস্তান কিংবা শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া না হওয়ায় তাদের সুপ্ত বাসনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে বিভোর বিএনপির ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ফিকে হয়ে পড়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপি নেতারা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আজ সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ এই সংকটকে পুঁজি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে, আমরা সবাই তা জানি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বদা সব দুর্যোগে ও সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট থেকেছে। অন্যদিকে বিএনপি সংকটকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারায় লিপ্ত থেকেছে, জনদুর্ভোগকে ঘনীভূত করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাতির কাণ্ডারি হিসেবে সফল শেখ হাসিনা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিগত সময়ের সব সংকট উত্তরণে সফল হয়েছেন। এ দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও দুর্ভোগ লাঘবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনও বিকল্প নেই।

 

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে বিএনপি এখন দেউলিয়া

আপডেট সময় ০৪:২৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বা বাংলাদেশ কোনও সংকটে নেই। বরং ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার’ দাবি করে নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্যমতে, দুর্নীতির বরপুত্র, একুশে আগস্টের খুনি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান নাকি তাদের তথাকথিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। এর মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হয় বিএনপি নীতি ও আদর্শের রাজনীতির পথে না চলে অন্ধকারের কানাগলিতে অপরাজনীতির কূটকৌশলকে বেছে নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকার বা বাংলাদেশ কোনও সংকটে নেই। বরং ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বিএনপি। দেশবাসী ভালো করেই জানে, বহুমাত্রিক সংকটে পর্যুদস্ত বিএনপি এখন জনগণ দ্বারা লাল কার্ড খেয়ে রাজনীতির মাঠে বাউন্ডারির বাইরে অবস্থান করছে। লাগাতারভাবে ভুল রাজনীতির চোরাবালিতে আটকে থাকা বিএনপি ক্রমেই দেউলিয়া সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম অর্থনীতির ধ্বংসের কথা বলেছেন। তিনি কিছুদিন আগে ‘পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। আজ তাদের সেই পেয়ারে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা কী? আর তার বিপরীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? ১৯৯৬-২০০১ সময়কালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুধারা রচনা করেছিল, ২০০১-২০০৬ সময়কালে বিএনপির আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে সেই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি বলেন, আজ অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে বিএনপির কথা বলা জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বৈশ্বিক মন্দা ও সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলামের মনোবেদনা আমরা বুঝি, বাংলাদেশ পাকিস্তান কিংবা শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া না হওয়ায় তাদের সুপ্ত বাসনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে বিভোর বিএনপির ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন ফিকে হয়ে পড়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিএনপি নেতারা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আজ সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ এই সংকটকে পুঁজি করে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে, আমরা সবাই তা জানি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবের জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের উপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে সুলভ মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ করছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বদা সব দুর্যোগে ও সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট থেকেছে। অন্যদিকে বিএনপি সংকটকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারায় লিপ্ত থেকেছে, জনদুর্ভোগকে ঘনীভূত করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাতির কাণ্ডারি হিসেবে সফল শেখ হাসিনা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিগত সময়ের সব সংকট উত্তরণে সফল হয়েছেন। এ দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও দুর্ভোগ লাঘবে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কোনও বিকল্প নেই।