ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রভাব কী হতে পারে? Logo মায়ের ওড়না শাড়ি বানিয়ে পরলেন জেফার, দেখালেন চমক Logo পরিবারসহ বেনজীরের আরও ১১৩ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ Logo হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে, উড়িয়ে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন Logo ফতুল্লায় রহিম হাজী ও সামেদ আলীর গ্রুপে সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ১৫ Logo সোনারগাঁয়ে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসায় শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন Logo মুছাপুরে স্বর্ণকার অজিতের প্রেমের ফাঁদে সর্বশান্ত প্রবাসী নারী Logo বন্দরে বিভিন্ন মামলার ২ সাঁজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার Logo নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় অন্ত:সত্তা নারীর মৃত্যু, চালক আটক

মার্কিন নতুন ভিসানীতি: আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না সরকার

সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত দুটি ঘটনা সরাসরি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একটি হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে বাংলাদেশের আউটলুক ঘোষণা এবং দ্বিতীয়টি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি সহজীকরণ বিষয়ক সিদ্ধান্ত। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশ নিয়ে তাদের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করলো সেটি ভাবিয়ে তুলেছে নীতি-নির্ধারকদের।

নতুন নীতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাটিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছে।’ অবশ্য একই সঙ্গে সতর্কবার্তা হিসাবে জানিয়েছে ‘তবে বাংলাদেশ আশা করে যে এই ভিসা নীতি যথেচ্ছভাবে প্রয়োগের পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে অনুসরণ করা হবে।’

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী বলা যায়— বিষয়টি নিয়ে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাতে আগ্রহী নয় সরকার।

এ বিষয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাবে না সরকার। তার বদলে গোটা বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা করে সতর্ক পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হচ্ছে।’

সোমালিয়া বা নাইজেরিয়ার মতো দেশের ওপর নতুন ভিসানীতি প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকে এক কাতারে ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং গোটা বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই দুই দেশের সঙ্গে তুলনীয় এমন কোনও কাজ করেনি বাংলাদেশ। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক ঘোষণা এবং তুলা আমদানি জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত একদম সাম্প্রতিক ঘটনা। এরপরও যদি যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মনোভাব পরিলক্ষিত হয় তবে বুঝতে হবে একে অপরকে বোঝার ক্ষেত্রে কোথাও বড় ধরনের ঘাটতি হচ্ছে।’

নতুন আইন

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ন্যাশনালিটি ও ইমিগ্রেশন আইনে ভিসানীতিতে নতুন সংযোজন আনে। ওই সংযোজনের আওতায় কোনও দেশ যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা হয় বা সেটির সহযোগী হয় তবে ভিসা না পাওয়ার তালিকায় পড়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ার ওপর নতুন ভিসানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে তৃতীয়।

বিষয়টি গত ৩ মে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপে মৌখিকভাবে জানানো হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানান যে ‘যুক্তরাষ্ট্র ৩ মে একটি বৈঠকে মৌখিকভাবে এটি জানিয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল— এটি যেন বাংলাদেশ প্রকাশ না করে। কারণ তারা বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন যাতে করে যেন ভুল বার্তা না যায়। আমরা অপেক্ষা করছিলাম তারা কবে এটি ঘোষণা করবে।

একাধিক বৈঠক

নতুন ভিসানীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ৩ মে জানার পরে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৩ মে থেকে আজ পর্যন্ত আমি এবং পররাষ্ট্র সচিব এখানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি যে এটি যখন ঘোষণা করা হবে, যেন সঠিকভাবে প্রচার করা হয়। এটি দুই বছর আগে যা হয়েছিল (নিষেধাজ্ঞা) সেটি নয়। কিন্তু এটিকে অপপ্রচারের যে চেষ্টা কিছু রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল করেছে, তার প্রমাণ আপনারা দেখেছেন।’

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও এটি নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টে আলোচনা করেছে বলে তিনি জানান।

বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে

মনে যাই থাক, প্রকাশ্যে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে করা হয়েছে।’

তবে তিনি সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করে বলেন, আমাদেরকে যেটি বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনালিটি ও ইমিগ্রেশন আইনে কিছু নতুন সংযোজন এসেছে। যেকোনও নতুন বিধির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থাকে বা সংশয় থাকে। ধীরে ধীরে সেটি পরিপক্ব হয়। এটি একবছর আগের আইন যা তারা দুই-একটি দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে। সেই কারণে আমরা বলেছি যে এটির যেন যথেচ্ছ ব্যবহার না হয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন নতুন ভিসানীতি: আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না সরকার

আপডেট সময় ০৪:২২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩

সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত দুটি ঘটনা সরাসরি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। একটি হচ্ছে ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে বাংলাদেশের আউটলুক ঘোষণা এবং দ্বিতীয়টি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি সহজীকরণ বিষয়ক সিদ্ধান্ত। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশ নিয়ে তাদের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করলো সেটি ভাবিয়ে তুলেছে নীতি-নির্ধারকদের।

নতুন নীতি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বলা হচ্ছে, ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণাটিকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের দ্ব্যর্থহীন প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করছে।’ অবশ্য একই সঙ্গে সতর্কবার্তা হিসাবে জানিয়েছে ‘তবে বাংলাদেশ আশা করে যে এই ভিসা নীতি যথেচ্ছভাবে প্রয়োগের পরিবর্তে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে অনুসরণ করা হবে।’

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী বলা যায়— বিষয়টি নিয়ে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাতে আগ্রহী নয় সরকার।

এ বিষয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক একজন কূটনীতিক বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দেখাবে না সরকার। তার বদলে গোটা বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা করে সতর্ক পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হচ্ছে।’

সোমালিয়া বা নাইজেরিয়ার মতো দেশের ওপর নতুন ভিসানীতি প্রয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকে এক কাতারে ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং গোটা বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই দুই দেশের সঙ্গে তুলনীয় এমন কোনও কাজ করেনি বাংলাদেশ। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক আউটলুক ঘোষণা এবং তুলা আমদানি জটিলতা নিরসনে সিদ্ধান্ত একদম সাম্প্রতিক ঘটনা। এরপরও যদি যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের মনোভাব পরিলক্ষিত হয় তবে বুঝতে হবে একে অপরকে বোঝার ক্ষেত্রে কোথাও বড় ধরনের ঘাটতি হচ্ছে।’

নতুন আইন

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ন্যাশনালিটি ও ইমিগ্রেশন আইনে ভিসানীতিতে নতুন সংযোজন আনে। ওই সংযোজনের আওতায় কোনও দেশ যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা হয় বা সেটির সহযোগী হয় তবে ভিসা না পাওয়ার তালিকায় পড়ে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ার ওপর নতুন ভিসানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এক্ষেত্রে তৃতীয়।

বিষয়টি গত ৩ মে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপে মৌখিকভাবে জানানো হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম জানান যে ‘যুক্তরাষ্ট্র ৩ মে একটি বৈঠকে মৌখিকভাবে এটি জানিয়েছিল। তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল— এটি যেন বাংলাদেশ প্রকাশ না করে। কারণ তারা বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন যাতে করে যেন ভুল বার্তা না যায়। আমরা অপেক্ষা করছিলাম তারা কবে এটি ঘোষণা করবে।

একাধিক বৈঠক

নতুন ভিসানীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ৩ মে জানার পরে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৩ মে থেকে আজ পর্যন্ত আমি এবং পররাষ্ট্র সচিব এখানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি যে এটি যখন ঘোষণা করা হবে, যেন সঠিকভাবে প্রচার করা হয়। এটি দুই বছর আগে যা হয়েছিল (নিষেধাজ্ঞা) সেটি নয়। কিন্তু এটিকে অপপ্রচারের যে চেষ্টা কিছু রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল করেছে, তার প্রমাণ আপনারা দেখেছেন।’

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসও এটি নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টে আলোচনা করেছে বলে তিনি জানান।

বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে

মনে যাই থাক, প্রকাশ্যে বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া বন্ধুত্বের দৃষ্টিতে করা হয়েছে।’

তবে তিনি সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করে বলেন, আমাদেরকে যেটি বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনালিটি ও ইমিগ্রেশন আইনে কিছু নতুন সংযোজন এসেছে। যেকোনও নতুন বিধির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থাকে বা সংশয় থাকে। ধীরে ধীরে সেটি পরিপক্ব হয়। এটি একবছর আগের আইন যা তারা দুই-একটি দেশের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে। সেই কারণে আমরা বলেছি যে এটির যেন যথেচ্ছ ব্যবহার না হয়।