ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মধুখালী ইউএনওর ওপর হামলা গাড়ি ভাঙচুর : দেহরক্ষীসহ আহত ৭

ফরিদপুরের মধুখালীতে খাস জমি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর স্থানীয় কিছু লোক হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ঘটনায় ইউএনও ও তার দেহরক্ষীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন।

এসময় হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়রা বিরোধিতা করে আসছিল। বৃহস্পতিবার উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ কাজের উদ্বোধনীতে যোগদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী। এ সময় স্থানীয়রা ওই স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ কাজে বাধা দেন এবং এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ইউএনও আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন। এ সময় সরকারি গাড়ীটিও তারা ভাঙচুর চালায়।

আহতদের মধ্যে ইউএনও ও আইয়ুব নামে এক ব্যক্তিকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন- ইউএনও মো. আশিকুর রহমান চৌধুরি, তার গাড়ী চালক মো. সুমন শেখ, অফিস সহকারি রফিকুল ইসলাম, দেহ রক্ষী জমিরউদ্দিন, ইমরান হোসেন, আহসান হাবিব ও আইয়ুব আলী।

আহতদের দেখতে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার পিএএ। এসময় তার সাথে এডিসি জেনারেল মো. ইয়াসিন কবীর, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) শামীম আরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক বকু উপস্থিত ছিলেন।

ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান তপন বলেন, আমি একটি সালিসি বৈঠকে ছিলাম ইউএনও স্যারের মোবাইল পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। ততক্ষণে স্থানীয়রা তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন। গাড়ীটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এসময় পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের উপস্থিত বেশি ছিল। ইউএনও স্যারের নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীদের নাম পরিচয় জানাতে পারিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক বকু বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ছিল। স্থানীয়রা আমার ওপর হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তবে ওখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা তাদের চিনবে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফরিদপুর জেলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, এ হামলায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

মধুখালী ইউএনওর ওপর হামলা গাড়ি ভাঙচুর : দেহরক্ষীসহ আহত ৭

আপডেট সময় ০৪:২২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ মে ২০২৩

ফরিদপুরের মধুখালীতে খাস জমি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর স্থানীয় কিছু লোক হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ঘটনায় ইউএনও ও তার দেহরক্ষীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন।

এসময় হামলাকারীরা তার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয়রা বিরোধিতা করে আসছিল। বৃহস্পতিবার উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর চরপাড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ কাজের উদ্বোধনীতে যোগদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী। এ সময় স্থানীয়রা ওই স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ কাজে বাধা দেন এবং এক পর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে ইউএনও আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন। এ সময় সরকারি গাড়ীটিও তারা ভাঙচুর চালায়।

আহতদের মধ্যে ইউএনও ও আইয়ুব নামে এক ব্যক্তিকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন- ইউএনও মো. আশিকুর রহমান চৌধুরি, তার গাড়ী চালক মো. সুমন শেখ, অফিস সহকারি রফিকুল ইসলাম, দেহ রক্ষী জমিরউদ্দিন, ইমরান হোসেন, আহসান হাবিব ও আইয়ুব আলী।

আহতদের দেখতে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার পিএএ। এসময় তার সাথে এডিসি জেনারেল মো. ইয়াসিন কবীর, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) শামীম আরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক বকু উপস্থিত ছিলেন।

ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান তপন বলেন, আমি একটি সালিসি বৈঠকে ছিলাম ইউএনও স্যারের মোবাইল পেয়ে দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। ততক্ষণে স্থানীয়রা তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে আহত করেন। গাড়ীটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে এসময় পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের উপস্থিত বেশি ছিল। ইউএনও স্যারের নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীদের নাম পরিচয় জানাতে পারিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল হক বকু বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন ছিল। স্থানীয়রা আমার ওপর হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে হামলাকারীদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তবে ওখানে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা তাদের চিনবে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফরিদপুর জেলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামরুল আহসান তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, এ হামলায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।