ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন্দরে শ্লীলতাহানির ভিডিও ধারণ করে যুবতীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার Logo আড়াইহাজারে রেস্টুরেন্ট থেকে অপত্তিকর অবস্থায় ১৬ কিশোর কিশোরী আটক Logo সোনারগাঁয়ে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত, চালক আটক Logo সোনারগাঁয়ের আলোচিত সাধন মিয়া হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদন্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo বন্দর ১নং খেয়াঘাট মাঝি সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন Logo আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে মাকসুদ চেয়ারম্যান’র মত বিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক Logo না’গঞ্জ জেলা জা’পা সভাপতি সানুর নাম ভাঙ্গিয়ে সুমন প্রধানের অপকর্ম রুখবে কে? Logo হুথিদের হামলায় লোহিত সাগরে ডুবে গেল সেই জাহাজ Logo রাতের লাইভের নেপথ্যের কারণ জানালেন তাহসান-ফারিণ Logo যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ভারত আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেন-দরবার করবে না : শ্রীরাধা দত্ত

২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে দূতিয়ালিতে নেমেছিল ভারতের দিল্লির সাউথ ব্লক। ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিশ্বপরিম-লে সমালোচনা ঠেকিয়েছিল ভারত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বক্তব্য সবার জানা। এর মধ্যে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সব দলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ‘ভিসা নীতি’ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় সরকারের নীতি নির্ধারকরা মুখে যাই বলুক কার্যত তারা চাপের মুখে পড়ে গেছেন। এ অবস্থায় অতীতের মতো দিল্লি কী বর্তমানের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দূতিয়ালি করবে? এমন প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।‘মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামলানোর উপায় কী শেখ হাসিনা সরকারের’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তারা তিনজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরেন। ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক প্রফেসর শ্রীরাধা দত্তের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারত সরকার আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেন-দরবার করবে না’। এ প্রতিবেদনে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে লেখা হয়, আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে একটি হুমকি আসছে এটি বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশের সরকার সম্ভবত আঁচ করছিল। কারণ, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে খোলাখুলি আমেরিকার তীব্র সমালোচনা শোনা গেছে। এপ্রিলে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন আমেরিকা চাইলে যে কোনো দেশেই ক্ষমতা ‘উল্টে-পাল্টে’ দিতে পারে। এ মাসে লন্ডনে তিনি বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন ‘আমেরিকা আমাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়না।’ কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কাগজে-কলমে ভিসা নিষিদ্ধের এই হুমকি চলে আসার পর কী করবে আওয়ামী লীগ সরকার?

অগামী নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে বলে যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তার মন্ত্রীরা দিতে শুরু করেছেন, তাতে কি আমেরিকাকে আশ্বস্ত করা যাবে? অধিকাংশ পর্যবেক্ষক তা মনে করছেন না। কারণ এ মাসেই ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের পক্ষ থেকে দেওয়া অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির দুই সপ্তাহ না যেতেই মি. ব্লিঙ্কেন নিজে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি ঘোষণা করেন। বোঝাই যাচ্ছে, আমেরিকা প্রমাণ দেখতে চাইছে।

তবে কেউই বিশ্বাস করছেন না যে আমেরিকার কাছ থেকে এই হুমকির পর রাতারাতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ বদলে যাবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কোনো চাপ ছাড়াই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে, বা গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

ঢাকায় একাধিক সাবেক কূটনীতিক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন এই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে তলে তলে আমেরিকার সাথে দেন-দরবার দর-কষাকষির পথে যাবে সরকার। এটাই প্রটোকল, অতীতেও বিভিন্ন ইস্যুতে তা করা হয়েছে, এবারও হবে। কারণ, আমেরিকার সাথে সম্পর্ক এখনও বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক অগ্রাহ্য করার কোনো রাস্তা এখনও নেই।

পাশে দাঁড়াবে ভারত : আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকির ইস্যুতে ভারত সরকার কি বাংলাদেশে সরকারের পাশে থাকবে? এ প্রশ্ন এখন নানা জায়গায় আলোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর সুরাহার জন্য বাংলাদেশ সরকার দিল্লির দ্বারস্থ হয়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল যা তারা অস্বীকার করেনি। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সহযোগী দেশ। কোয়াডের সদস্য। খুবই ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যে। তাছাড়া, ভারতের বাজারও আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য খুবই লোভনীয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারত কি আমেরিকাকে বলবে বাংলাদেশ নিয়ে তোমরা যা করছো সেটি ঠিক নয়? আমার মনে হয়না ভারত তা করবে।

কিন্তু দিল্লি কি তাদের সেই কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে? জবাবে প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আওয়ামী লীগ দিল্লির ওপর ভরসা করে এবং এখনও করবে, কিন্তু ভারতেরও কিছু সমস্যা রয়েছে। ভারত কি আমেরিকাকে বলবে বাংলাদেশ নিয়ে তোমরা যা করছো সেটি ঠিক নয়? আমার মনে হয়না ভারত তা করবে। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে কূটনীতি বিভিন্ন চ্যানেলে হয়, ভারত হয়ত ট্র্যাক টু বা ট্র্যাক থ্রি চ্যানেলে একথা তুলবে, কিন্তু ভারত সরকার কখনই মার্কিন সরকারের কাছে গিয়ে বাংলাদেশ বা আওয়ামী লীগের হয়ে দেন-দরবার করবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চাপ থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটে নিয়েও ভারত মিয়ানমার সরকারের ওপর কখনই খোলাখুলিভাবে কোনো চাপাচাপি করেনি। তবে এটা ঠিক ভারত চায় আওয়ামী লীগের সরকার বাংলাদেশে থাকুক। কারণ, তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগগুলো সবসময় শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে সাথে বিবেচনা করেছেন যা নিয়ে দিল্লি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরপর দুটো নির্বাচন নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠলেও ভারত চোখ বুজে ফলাফলকে মেনে নিয়েছে। এটা ঠিক যে ভারত আওয়ামী লীগকে অন্ধের মত সমর্থন করেছে। কিন্তু আমেরিকা এখন যেভাবে ক্ষেপে উঠেছে সেটা ভারতের জন্য চিন্তার জায়গা তো বটেই। মনে হচ্ছেনা আমেরিকানরা পেছোবে। সেখানে ভারত কী করতে পারবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

এর আগে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ভারত যে বাংলাদেশের হয়ে আমেরিকার সাথে জোরালো কোনও দেন-দরবার করেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া, মিজ দত্ত বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে সম্প্রতি চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত যতই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবুক না কেন তাদের তো অনেক জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন।

দর-কষাকষির শক্তি : কিন্তু আমেরিকার মত দেশের সাথে দেন-দরবার বা দর-কষাকষির জন্য শক্তি কতটুক রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের? তাদের হাতে এমন কী রয়েছে যার বিনিময়ে কিছু প্রতিদান আদায় করতে সক্ষম হবে?

রাজনৈতিক-অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ক্ষমতার সম্পর্কে কোনো একটি দেশের দেন-দরবারের সক্ষমতা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে : ক্রয় ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ বাজারের আয়তন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা। পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা ঔপনিবেশিক যোগসূত্র কূটনৈতিক দেন-দরবারে কাজে লাগে। এসব কারণেই ভারত বা সউদী আরবের মত দেশ আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখলেও বাইডেন প্রশাসনকে তা হজম করতে হচ্ছে। কিন্তু এসবের বিবেচনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত একটি দুর্বল রাষ্ট্র। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রধানত ষ্ট্রাটেজিক, বাজার বা বিনিয়োগ নয়। বরঞ্চ বাজারের ওপর যেটুক নির্ভরতা তা প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ তৈরি পোশাক এক যুক্তরাষ্ট্রে যায়, ফলে বাজারের প্রয়োজন শুধু বাংলাদেশের।

এ মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা হঠাৎ ঘোষণা দেন বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে এমন দেশ থেকে আমদানি বন্ধের তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কোনো গুরুত্বই আমেরিকার কাছে নেই।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি এমন কিছু দেখিনা যেটা দেখিয়ে বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করে নিতে পারবে। একটি গুজব শুনি আমেরিকা নাকি তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে বাংলাদেশে একটি সামরিক ঘাঁটি করতে চায়। আমি বিশ্বাস করিনা সে কারণে এই চাপ। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই বিশ্বাস করে চাপ দিয়ে ঘাঁটি তৈরি করা যাবে। আমি একেবারেই তা মনে করিনা। আমি এমন কিছু দেখিনা যেটা দেখিয়ে বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করে নিতে পারবে।

চীন ফ্যাক্টর : এটা ঠিক চীনের সাথে রেষারেষিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে দলে টানার চেষ্টা রয়েছে আমেরিকা। জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে চার দেশীয় জোট কোয়াডে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের ওপর চাপ রয়েছে বলে নানাসময় খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগে আমেরিকার আপত্তির কথা শোনা যায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ওপর যেভাবে নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশে, সেটাও আমেরিকা ভালো চেখে দেখছে না। কিন্তু, তৌহিদ হোসেন বিশ্বাস করেন না যে চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই প্রধান কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আমেরিকার চাপের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, চীনের সাথে সম্পর্ককে খুব বড় করে দেখানো হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগ তেমন কোনো বড় অংকের নয়। সেই ঋণ ফেরত দিতে গিয়ে কী পরিণতি দাঁড়াতে পারে তা নিয়ে বাংলাদেশর কর্তা ব্যক্তিদের উদ্বেগ রয়েছে, কারণ তারা পাকিস্তান ও শ্রীলংকার অবস্থা দেখছেন। তাছাড়া আমেরিকাও খুব ভালো করে বুঝতে পারে সরাসরি চীনের বিরুদ্ধাচরণ করা বাংলাদেশের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত তৌফিক হোসেন মনে করেন বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, তারা ভাবছে এতে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং একটি দলের সাথে সম্পর্ক চটলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে তাদের সুনাম, গ্রহণযোগ্যতা, প্রভাব বাড়বে।

আমেরিকা বেশি চাপ দিলে চীনের দিকে আরো ঝুঁকে পড়ার পাল্টা হুমকির কোন কৌশল কি আওয়ামী লীগ নিতে পারে? সেই ঝুঁকি আওয়ামী লীগ নেবে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন না। এপ্রিলে প্রকাশিত তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা মধ্যপন্থার পথ থেকে সরবে না।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দরে শ্লীলতাহানির ভিডিও ধারণ করে যুবতীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ভারত আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেন-দরবার করবে না : শ্রীরাধা দত্ত

আপডেট সময় ০৪:১৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩

২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সরকারকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে দূতিয়ালিতে নেমেছিল ভারতের দিল্লির সাউথ ব্লক। ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিশ্বপরিম-লে সমালোচনা ঠেকিয়েছিল ভারত। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের বক্তব্য সবার জানা। এর মধ্যে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সব দলের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ‘ভিসা নীতি’ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় সরকারের নীতি নির্ধারকরা মুখে যাই বলুক কার্যত তারা চাপের মুখে পড়ে গেছেন। এ অবস্থায় অতীতের মতো দিল্লি কী বর্তমানের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দূতিয়ালি করবে? এমন প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।‘মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি সামলানোর উপায় কী শেখ হাসিনা সরকারের’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তারা তিনজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরেন। ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক প্রফেসর শ্রীরাধা দত্তের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারত সরকার আওয়ামী লীগের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেন-দরবার করবে না’। এ প্রতিবেদনে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে লেখা হয়, আগামী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে একটি হুমকি আসছে এটি বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশের সরকার সম্ভবত আঁচ করছিল। কারণ, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে খোলাখুলি আমেরিকার তীব্র সমালোচনা শোনা গেছে। এপ্রিলে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন আমেরিকা চাইলে যে কোনো দেশেই ক্ষমতা ‘উল্টে-পাল্টে’ দিতে পারে। এ মাসে লন্ডনে তিনি বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন ‘আমেরিকা আমাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়না।’ কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কাগজে-কলমে ভিসা নিষিদ্ধের এই হুমকি চলে আসার পর কী করবে আওয়ামী লীগ সরকার?

অগামী নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হবে বলে যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এবং তার মন্ত্রীরা দিতে শুরু করেছেন, তাতে কি আমেরিকাকে আশ্বস্ত করা যাবে? অধিকাংশ পর্যবেক্ষক তা মনে করছেন না। কারণ এ মাসেই ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের পক্ষ থেকে দেওয়া অবাধ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির দুই সপ্তাহ না যেতেই মি. ব্লিঙ্কেন নিজে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকি ঘোষণা করেন। বোঝাই যাচ্ছে, আমেরিকা প্রমাণ দেখতে চাইছে।

তবে কেউই বিশ্বাস করছেন না যে আমেরিকার কাছ থেকে এই হুমকির পর রাতারাতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আবহ বদলে যাবে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কোনো চাপ ছাড়াই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে, বা গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

ঢাকায় একাধিক সাবেক কূটনীতিক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন এই রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে তলে তলে আমেরিকার সাথে দেন-দরবার দর-কষাকষির পথে যাবে সরকার। এটাই প্রটোকল, অতীতেও বিভিন্ন ইস্যুতে তা করা হয়েছে, এবারও হবে। কারণ, আমেরিকার সাথে সম্পর্ক এখনও বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ক অগ্রাহ্য করার কোনো রাস্তা এখনও নেই।

পাশে দাঁড়াবে ভারত : আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকির ইস্যুতে ভারত সরকার কি বাংলাদেশে সরকারের পাশে থাকবে? এ প্রশ্ন এখন নানা জায়গায় আলোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর সুরাহার জন্য বাংলাদেশ সরকার দিল্লির দ্বারস্থ হয়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল যা তারা অস্বীকার করেনি। ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত সহযোগী দেশ। কোয়াডের সদস্য। খুবই ঘনিষ্ঠ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠেছে দুই দেশের মধ্যে। তাছাড়া, ভারতের বাজারও আমেরিকান বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য খুবই লোভনীয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অধ্যাপক এবং দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ভারত কি আমেরিকাকে বলবে বাংলাদেশ নিয়ে তোমরা যা করছো সেটি ঠিক নয়? আমার মনে হয়না ভারত তা করবে।

কিন্তু দিল্লি কি তাদের সেই কূটনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে? জবাবে প্রফেসর শ্রীরাধা দত্ত বলেন, আওয়ামী লীগ দিল্লির ওপর ভরসা করে এবং এখনও করবে, কিন্তু ভারতেরও কিছু সমস্যা রয়েছে। ভারত কি আমেরিকাকে বলবে বাংলাদেশ নিয়ে তোমরা যা করছো সেটি ঠিক নয়? আমার মনে হয়না ভারত তা করবে। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে কূটনীতি বিভিন্ন চ্যানেলে হয়, ভারত হয়ত ট্র্যাক টু বা ট্র্যাক থ্রি চ্যানেলে একথা তুলবে, কিন্তু ভারত সরকার কখনই মার্কিন সরকারের কাছে গিয়ে বাংলাদেশ বা আওয়ামী লীগের হয়ে দেন-দরবার করবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চাপ থাকলেও রোহিঙ্গা সংকটে নিয়েও ভারত মিয়ানমার সরকারের ওপর কখনই খোলাখুলিভাবে কোনো চাপাচাপি করেনি। তবে এটা ঠিক ভারত চায় আওয়ামী লীগের সরকার বাংলাদেশে থাকুক। কারণ, তার মতে, নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগগুলো সবসময় শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে সাথে বিবেচনা করেছেন যা নিয়ে দিল্লি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরপর দুটো নির্বাচন নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠলেও ভারত চোখ বুজে ফলাফলকে মেনে নিয়েছে। এটা ঠিক যে ভারত আওয়ামী লীগকে অন্ধের মত সমর্থন করেছে। কিন্তু আমেরিকা এখন যেভাবে ক্ষেপে উঠেছে সেটা ভারতের জন্য চিন্তার জায়গা তো বটেই। মনে হচ্ছেনা আমেরিকানরা পেছোবে। সেখানে ভারত কী করতে পারবে তা নিয়ে আমি সন্দিহান।

এর আগে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও ভারত যে বাংলাদেশের হয়ে আমেরিকার সাথে জোরালো কোনও দেন-দরবার করেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া, মিজ দত্ত বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে সম্প্রতি চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত যতই নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবুক না কেন তাদের তো অনেক জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন।

দর-কষাকষির শক্তি : কিন্তু আমেরিকার মত দেশের সাথে দেন-দরবার বা দর-কষাকষির জন্য শক্তি কতটুক রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের? তাদের হাতে এমন কী রয়েছে যার বিনিময়ে কিছু প্রতিদান আদায় করতে সক্ষম হবে?

রাজনৈতিক-অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ক্ষমতার সম্পর্কে কোনো একটি দেশের দেন-দরবারের সক্ষমতা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে : ক্রয় ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ বাজারের আয়তন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা। পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বা ঔপনিবেশিক যোগসূত্র কূটনৈতিক দেন-দরবারে কাজে লাগে। এসব কারণেই ভারত বা সউদী আরবের মত দেশ আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখলেও বাইডেন প্রশাসনকে তা হজম করতে হচ্ছে। কিন্তু এসবের বিবেচনায় বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত একটি দুর্বল রাষ্ট্র। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রধানত ষ্ট্রাটেজিক, বাজার বা বিনিয়োগ নয়। বরঞ্চ বাজারের ওপর যেটুক নির্ভরতা তা প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশের। ২০ থেকে ২৫ শতাংশ তৈরি পোশাক এক যুক্তরাষ্ট্রে যায়, ফলে বাজারের প্রয়োজন শুধু বাংলাদেশের।

এ মাসের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা হঠাৎ ঘোষণা দেন বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে এমন দেশ থেকে আমদানি বন্ধের তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কোনো গুরুত্বই আমেরিকার কাছে নেই।

এ প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, আমি এমন কিছু দেখিনা যেটা দেখিয়ে বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করে নিতে পারবে। একটি গুজব শুনি আমেরিকা নাকি তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসাবে বাংলাদেশে একটি সামরিক ঘাঁটি করতে চায়। আমি বিশ্বাস করিনা সে কারণে এই চাপ। যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই বিশ্বাস করে চাপ দিয়ে ঘাঁটি তৈরি করা যাবে। আমি একেবারেই তা মনে করিনা। আমি এমন কিছু দেখিনা যেটা দেখিয়ে বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে চাপ দিয়ে কিছু আদায় করে নিতে পারবে।

চীন ফ্যাক্টর : এটা ঠিক চীনের সাথে রেষারেষিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোকে দলে টানার চেষ্টা রয়েছে আমেরিকা। জাপান, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে চার দেশীয় জোট কোয়াডে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের ওপর চাপ রয়েছে বলে নানাসময় খবর বেরিয়েছে। বাংলাদেশে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কোনো অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগে আমেরিকার আপত্তির কথা শোনা যায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ওপর যেভাবে নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশে, সেটাও আমেরিকা ভালো চেখে দেখছে না। কিন্তু, তৌহিদ হোসেন বিশ্বাস করেন না যে চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই প্রধান কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আমেরিকার চাপের প্রধান কারণ। তিনি বলেন, চীনের সাথে সম্পর্ককে খুব বড় করে দেখানো হচ্ছে। চীনা বিনিয়োগ তেমন কোনো বড় অংকের নয়। সেই ঋণ ফেরত দিতে গিয়ে কী পরিণতি দাঁড়াতে পারে তা নিয়ে বাংলাদেশর কর্তা ব্যক্তিদের উদ্বেগ রয়েছে, কারণ তারা পাকিস্তান ও শ্রীলংকার অবস্থা দেখছেন। তাছাড়া আমেরিকাও খুব ভালো করে বুঝতে পারে সরাসরি চীনের বিরুদ্ধাচরণ করা বাংলাদেশের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত তৌফিক হোসেন মনে করেন বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, তারা ভাবছে এতে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং একটি দলের সাথে সম্পর্ক চটলেও সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে তাদের সুনাম, গ্রহণযোগ্যতা, প্রভাব বাড়বে।

আমেরিকা বেশি চাপ দিলে চীনের দিকে আরো ঝুঁকে পড়ার পাল্টা হুমকির কোন কৌশল কি আওয়ামী লীগ নিতে পারে? সেই ঝুঁকি আওয়ামী লীগ নেবে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন না। এপ্রিলে প্রকাশিত তাদের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে তারা মধ্যপন্থার পথ থেকে সরবে না।