ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিজেপির প্রতি আস্থা রাখলো ত্রিপুরাবাসী

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবল ইঞ্জিনেই আস্থা রাখলো গণদেবতা। ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভার ৩৩ আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি-আইপিএফটি জোট। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ১১ আসন কম। ২০১৮ সালে জোটটি ৪৪ আসন পেয়ে ত্রিপুরায় সরকারে এসেছিল। পাঁচ বছর সরকারে থাকার পর বিজেপি জোট এবার শতাংশের হিসাবে ৪০ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যা গত বিধানসভার চেয়ে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। পক্ষান্তরে প্রধান বিরোধী বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ১৪টি আসন। সিপিআইএম ১১ টি আসন এবং কংগ্রেস ৩ টি আসনে জয়লাভ করেছে। যা শতাংশের হিসাবে ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। প্রথমবারের মতো বিধান সভা ভোটে লড়াই করে মোট ১৩ টি আসন দখল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মহারাজ প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের দল তিপ্রা মথা। সরকার গঠনে ফ্যাক্টর না হলেও প্রায় ১৭ টি আসনে মথার ভোট ভাগাভাগিতে লাভবান হয়েছে বিজেপি। পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে বাম-কংগ্রেস জোটকে। বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর মথার ভোট ভাগাভাগি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে।

তবে এবারের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে আগের তুলনায় সিপিআইএম দলের আসন কমেছে। ২০১৮ সালে বামফ্রন্ট যেখানে ১৬ আসনে জয়লাভ করেছিল এবার ১১ টি আসনেই তাদেরকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। সে তুলনায় লাভবান কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঢাকি শুদ্ধ বিসর্জন হয়েছিল। এবার ৩ টি আসন পেয়ে অস্তিত্বের জানান দিতে সক্ষম হলো কংগ্রেস। যদিও পাবিয়াছড়া কেন্দ্রে অতি অল্প ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হয় কংগ্রেস প্রার্থী সত্যবান দাস। পরাজিত হয়েছেন বামেদের হেভিওয়েট প্রার্থী সুধন দাস, সাবেক মন্ত্রী পবিত্র কর।

অন্যদিকে টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। ১২৫৭ ভোটের ব্যাবধানে কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ সাহাকে তিনি পরাজিত করেন। তুলনামূলক সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন সিমনা কেন্দ্র থেকে তিপ্রা মথার প্রার্থী বৃষকেতু দেববর্মা। তার প্রাপ্ত ভোট ২২৭৫৭।

তবে ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা পরাজিত হয়েছেন চড়িলাম কেন্দ্রে। এবারের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে এই ঘটনাকে নক্ষত্র পতন বলা যেতেই পারে। আবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক জয়লাভ করেছেন ধনপুর কেন্দ্র থেকে। তিনিও প্রথম বারের মতো বিধান সভায় আসছেন। এই কেন্দ্রটি বামেদের গড় বলে পরিচিত ছিল। কেননা, প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা সমর চৌধুরী থেকে শুরু করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই ধনপুর কেন্দ্র থেকেই রাজ্য বিধানসভায় আসেন। বামেদের সেই দূর্গ এবার দখল নিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক।

জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। ৬ আগরতলা কেন্দ্র গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কর জয়ী হয়েছেন। বিপ্লব কুমার দেব মন্ত্রিসভায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও বেশ কিছু সময় পালন করেন। একটা সময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি বিজেপি থেকে দলত্যাগ করেন, এবং কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবার ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে তিপ্রা মথা সরকার গঠনে যেভাবে ফ্যাক্টর হবে বলে আশা করা হয়েছিল, তা কিন্তু হলো না। তিপ্রা মথা ১৩ টি আসন পেলেও সরকার গঠনে কোনও ধরনের ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হলো বলা যায়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বিজেপির প্রতি আস্থা রাখলো ত্রিপুরাবাসী

আপডেট সময় ০৪:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মার্চ ২০২৩

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবল ইঞ্জিনেই আস্থা রাখলো গণদেবতা। ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভার ৩৩ আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি-আইপিএফটি জোট। যা ২০১৮ সালের চেয়ে ১১ আসন কম। ২০১৮ সালে জোটটি ৪৪ আসন পেয়ে ত্রিপুরায় সরকারে এসেছিল। পাঁচ বছর সরকারে থাকার পর বিজেপি জোট এবার শতাংশের হিসাবে ৪০ দশমিক ২৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। যা গত বিধানসভার চেয়ে ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। পক্ষান্তরে প্রধান বিরোধী বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ১৪টি আসন। সিপিআইএম ১১ টি আসন এবং কংগ্রেস ৩ টি আসনে জয়লাভ করেছে। যা শতাংশের হিসাবে ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। প্রথমবারের মতো বিধান সভা ভোটে লড়াই করে মোট ১৩ টি আসন দখল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মহারাজ প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের দল তিপ্রা মথা। সরকার গঠনে ফ্যাক্টর না হলেও প্রায় ১৭ টি আসনে মথার ভোট ভাগাভাগিতে লাভবান হয়েছে বিজেপি। পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে বাম-কংগ্রেস জোটকে। বৃহস্পতিবার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর মথার ভোট ভাগাভাগি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে।

তবে এবারের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে আগের তুলনায় সিপিআইএম দলের আসন কমেছে। ২০১৮ সালে বামফ্রন্ট যেখানে ১৬ আসনে জয়লাভ করেছিল এবার ১১ টি আসনেই তাদেরকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। সে তুলনায় লাভবান কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঢাকি শুদ্ধ বিসর্জন হয়েছিল। এবার ৩ টি আসন পেয়ে অস্তিত্বের জানান দিতে সক্ষম হলো কংগ্রেস। যদিও পাবিয়াছড়া কেন্দ্রে অতি অল্প ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হয় কংগ্রেস প্রার্থী সত্যবান দাস। পরাজিত হয়েছেন বামেদের হেভিওয়েট প্রার্থী সুধন দাস, সাবেক মন্ত্রী পবিত্র কর।

অন্যদিকে টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। ১২৫৭ ভোটের ব্যাবধানে কংগ্রেস প্রার্থী আশীষ সাহাকে তিনি পরাজিত করেন। তুলনামূলক সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন সিমনা কেন্দ্র থেকে তিপ্রা মথার প্রার্থী বৃষকেতু দেববর্মা। তার প্রাপ্ত ভোট ২২৭৫৭।

তবে ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা পরাজিত হয়েছেন চড়িলাম কেন্দ্রে। এবারের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে এই ঘটনাকে নক্ষত্র পতন বলা যেতেই পারে। আবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক জয়লাভ করেছেন ধনপুর কেন্দ্র থেকে। তিনিও প্রথম বারের মতো বিধান সভায় আসছেন। এই কেন্দ্রটি বামেদের গড় বলে পরিচিত ছিল। কেননা, প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা সমর চৌধুরী থেকে শুরু করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই ধনপুর কেন্দ্র থেকেই রাজ্য বিধানসভায় আসেন। বামেদের সেই দূর্গ এবার দখল নিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক।

জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। ৬ আগরতলা কেন্দ্র গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কর জয়ী হয়েছেন। বিপ্লব কুমার দেব মন্ত্রিসভায় তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও বেশ কিছু সময় পালন করেন। একটা সময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি বিজেপি থেকে দলত্যাগ করেন, এবং কংগ্রেসে ফিরে আসেন। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবার ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে তিপ্রা মথা সরকার গঠনে যেভাবে ফ্যাক্টর হবে বলে আশা করা হয়েছিল, তা কিন্তু হলো না। তিপ্রা মথা ১৩ টি আসন পেলেও সরকার গঠনে কোনও ধরনের ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হলো বলা যায়।