ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুতিনের বিরুদ্ধে আইসিসি’র গ্রেফতারি পরোয়ানা

ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। শুক্রবার (১৭ মার্চ) এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেন এক বছরের বেশি সময় ধরে আক্রমণ চালানো রাশিয়া একাধিকবার যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নারী মুখপাত্র বলেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনও ধরনের তাৎপর্য নেই।

এর আগে রাশিয়া বলেছিল, তারা আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে রাশিয়াকে বিচারের এখতিয়ার আদালতটির নেই।

২০১৬ সালে আইসিসি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া। আদালতের একটি প্রতিবেদনে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ডে একীভূত করার ঘটনাকে ‘দখল’ হিসেবে উল্লেখ করার পর আইসিসি থেকে বেরিয়ে যায় মস্কো। কারণ ‘দখল’ বলার ফলে রুশ পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ বলা যাবে।

আইসিসি’র সংজ্ঞা অনুসারে, কোনও রাষ্ট্র দখল, বোমাবর্ষণ বা বন্দরে অবরোধ করা আগ্রাসনের আওতায় পড়ে। কিন্তু যদি কোনও রাষ্ট্র আইসিসি’র অন্তর্ভুক্ত না হয় তাহলে দেশটির কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগ্রাসনের অপরাধে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না।

এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগ্রাসনের অভিযুক্ত দেশের বিচারের বিষয়টি আইসিসিতে পাঠাতে পারে। কিন্তু রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেশটির ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো অভিযোগের বিচারে রাশিয়ার মতো স্বাক্ষর না করা দেশের বিরুদ্ধে বিচারে কোনও বাধা নেই।

এছাড়া আইসিসি কোনও দেশের বিচার করে না। কোনও অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দায়ী নেতা ও কর্মকর্তাদের বিচার আদালতটি। এছাড়া আইসিসি কোনও ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার করে না। ফলে পুতিনের বিচার করতে হলে হয় রুশ কর্মকর্তাদের তাকে আদালতের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা রাশিয়ার বাইরে কোনও দেশ বা অঞ্চলে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে বেআইনিভাবে শিশু ও মানুষকে রাশিয়াকে স্থানান্তরের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছেন, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তের কোনও মূল্য নেই, এমনকি আইনি দিক থেকেও। আইসিসির রোম স্ট্যাটিউটে স্বাক্ষর করেনি রাশিয়া। ফলে এই আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ আন্দ্রিই ইয়ামাক সোশাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কেবল শুরু।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকরা গোপন পরোয়ানা জারির বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন অপরাধ সংঘটন ঠেকাতে সহযোগিতা করবে বলে তা প্রকাশ্যে জারি করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মনোনীত তদন্ত দল ইউক্রেনে রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করছে অভিযোগ উত্থাপনের পর আইসিসি এই পরোয়ানা জারি করলো। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যা, নির্যাতন এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের সামনে স্বজনদের ধর্ষণ এবং মৃতদেহের পাশে মানুষকে আটকে রাখার মতো অপরাধের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের তদন্ত দল।

এমন সময় এই পরোয়ানার জারির খবর সামনে আসলো যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মস্কো সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, পুতিনের আমন্ত্রণে ২০ থেকে ২২ মার্চ রাশিয়া সফর করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র জিনপিংয়ের মস্কো সফরকে ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত যেকোনও শান্তি কাঠামো ‘একতরফা এবং এতে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের পর নজিরবিহীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

পুতিনের বিরুদ্ধে আইসিসি’র গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট সময় ০৪:১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মার্চ ২০২৩

ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। শুক্রবার (১৭ মার্চ) এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেন এক বছরের বেশি সময় ধরে আক্রমণ চালানো রাশিয়া একাধিকবার যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শুক্রবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নারী মুখপাত্র বলেছেন, পুতিনের বিরুদ্ধে জারি গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনও ধরনের তাৎপর্য নেই।

এর আগে রাশিয়া বলেছিল, তারা আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে রাশিয়াকে বিচারের এখতিয়ার আদালতটির নেই।

২০১৬ সালে আইসিসি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া। আদালতের একটি প্রতিবেদনে ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ডে একীভূত করার ঘটনাকে ‘দখল’ হিসেবে উল্লেখ করার পর আইসিসি থেকে বেরিয়ে যায় মস্কো। কারণ ‘দখল’ বলার ফলে রুশ পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ বলা যাবে।

আইসিসি’র সংজ্ঞা অনুসারে, কোনও রাষ্ট্র দখল, বোমাবর্ষণ বা বন্দরে অবরোধ করা আগ্রাসনের আওতায় পড়ে। কিন্তু যদি কোনও রাষ্ট্র আইসিসি’র অন্তর্ভুক্ত না হয় তাহলে দেশটির কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগ্রাসনের অপরাধে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না।

এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আগ্রাসনের অভিযুক্ত দেশের বিচারের বিষয়টি আইসিসিতে পাঠাতে পারে। কিন্তু রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে দেশটির ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো অভিযোগের বিচারে রাশিয়ার মতো স্বাক্ষর না করা দেশের বিরুদ্ধে বিচারে কোনও বাধা নেই।

এছাড়া আইসিসি কোনও দেশের বিচার করে না। কোনও অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দায়ী নেতা ও কর্মকর্তাদের বিচার আদালতটি। এছাড়া আইসিসি কোনও ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার করে না। ফলে পুতিনের বিচার করতে হলে হয় রুশ কর্মকর্তাদের তাকে আদালতের হাতে তুলে দিতে হবে অথবা রাশিয়ার বাইরে কোনও দেশ বা অঞ্চলে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।

ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে বেআইনিভাবে শিশু ও মানুষকে রাশিয়াকে স্থানান্তরের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আইসিসি।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছেন, আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তের কোনও মূল্য নেই, এমনকি আইনি দিক থেকেও। আইসিসির রোম স্ট্যাটিউটে স্বাক্ষর করেনি রাশিয়া। ফলে এই আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ আন্দ্রিই ইয়ামাক সোশাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কেবল শুরু।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারকরা গোপন পরোয়ানা জারির বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতে এমন অপরাধ সংঘটন ঠেকাতে সহযোগিতা করবে বলে তা প্রকাশ্যে জারি করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মনোনীত তদন্ত দল ইউক্রেনে রাশিয়া যুদ্ধাপরাধ করছে অভিযোগ উত্থাপনের পর আইসিসি এই পরোয়ানা জারি করলো। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যা, নির্যাতন এবং কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের সামনে স্বজনদের ধর্ষণ এবং মৃতদেহের পাশে মানুষকে আটকে রাখার মতো অপরাধের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের তদন্ত দল।

এমন সময় এই পরোয়ানার জারির খবর সামনে আসলো যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মস্কো সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সঙ্গে পশ্চিমাদের সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, পুতিনের আমন্ত্রণে ২০ থেকে ২২ মার্চ রাশিয়া সফর করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র জিনপিংয়ের মস্কো সফরকে ‘শান্তি মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত যেকোনও শান্তি কাঠামো ‘একতরফা এবং এতে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হবে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের পর নজিরবিহীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া।