ঢাকা , শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতিতে খুশি বাইকাররা

আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করবে মোটরসাইকেল। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু চালুর পর প্রথম ঈদযাত্রার আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাইকাররা। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের বাধা কেটে যাওয়া উপকৃত হবে লাখো বাইকার। তবে সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা উচিত।

এ নিয়ে রাজধানীর কয়েকজন বাইকারের সঙ্গে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন। তারা সরকারের এই সিদ্ধান্ততে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো এখন থেকে পদ্মা সেতু দিয়েও মোটরসাইকেল চলবে, এটা অবশ্যই খুশির খবর। সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসার দাবি রাখে। এখন সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বাইকারদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে তাদের কারণে আবারও সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

শেখ মামুন নামে এক বাইকার বলেন, সারা দেশে, সকল সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করছে। কেবল পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছি। এটি ছিল একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। দেরিতে হলেও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে, এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ এই সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার বাইকাররা উপকৃত হবেন।

রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং করা ঝালকাঠির আসাদুজ্জামান শাওন বলেন, ঢাকায় রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। ঈদের সময় আগে মাওয়া ফেরিঘাট দিয়ে বাইক নিয়ে যেতাম। এখন পদ্মা সেতু হয়েছে, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। কিন্তু এতদিন এই সেতু দিয়ে মোটরবাইকেলে পারাপার বন্ধ ছিল। সেতু চালুর পর প্রথম ঈদ হতে যাচ্ছে এবার। তার আগেই সেতুটি মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় আমি খুশি। নিজের মোটরসাইকেলে করেই ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি যেতে পারবো।

তাদের মতো প্রায় একই ধরনের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন ঢাকায় মোটরসাইকেল চালানো বাগেরহাটের এমরান হোসেন ও পিরোজপুরের সোলাইমান হুসাইন। তবে তারা দুজনই বলেছেন, কিছু শর্তসাপেক্ষে পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি এসেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এ বিষয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। সেতু দিয়ে চলাচলের সময় সেগুলো মেনে চলা উচিত বাইকারদের। মনে রাখতে হবে, তাদের অসাবধানতার কারণে যেন আবার কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

আতাউল গণি নামে আরেক বাইকার বলেন, আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। প্রতিবার ঈদের সময় আমি নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে যাই। বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে খুব সহজে বাড়িতে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না। দূরপাল্লার বাসের ভোগান্তির কারণেই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা করি। পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল উন্মুক্ত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বাইকাররা আমার মতো সুবিধা পাবে।

পদ্মা সেতুতে চলবে মোটরসাইকেল

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে বিষয়টি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে চলবে মোটরসাইকেল। ২০ এপ্রিল সকাল সকাল ৬টা থেকে সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। সেতুর বাম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে চলবে। স্পিড লিমিট ঘণ্টায় থাকবে ৬০ কিলোমিটার। গতি এর বেশি তোলা যাবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও জানান, কোনোভাবেই সার্ভিস লেনের বাইরে মূল সেতুতে মোটরসাইকেল আসতে পারবে না। নির্ধারিত হারে টোল প্রদান করতে হবে। যদি নিয়ম না মানে তাহলে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। এরপর কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

মানতে হবে যেসব শর্ত

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত টোল দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হতে পারবে। মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত টোল বুথ ও নির্ধারিত লেন ব্যবহার করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই নির্ধারিত লেন পরিবর্তন করা যাবে না। ওভারটেকও করা যাবে না। চালক ও আরোহীকে হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সেতুর উপর দাঁড়ানো বা ছবি তোলা যাবে না। চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন মোটরসাইকেলে চড়তে পারবে।

এতে বলা হয়, বর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালন করে পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা না মানলে মোটরসাইকেল চলাচলের এ সুযোগ বাতিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
যেভাবে বন্ধ হয়েছিল বাইক চলাচল

২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করার পর দিন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় পদ্মা সেতু। প্রথম দিন বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল সেতু দিয়ে পার হয়। টাকার বিনিময়ে বাইকে করে সেতু পার করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এরমধ্যেই ওই দিন রাতে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই জন মারাত্মক আহত হন। ওই দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

পরদিন সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৭ জুন সকাল ছয়টা থেকে পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেটি উত্থাপিত হয়নি বলে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি খারিজ করে দেন আদালত। তবে বাইকাররা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছিল, যেন পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমিত দেয় সরকার।

সম্প্রতি মোটরসাইকেল চলাচলের খসড়া নীতিমালা করার সংবাদ প্রকাশের পর তা সংশোধন এবং পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন বাইকাররা। তারা ১ মার্চ মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এবং ৩ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বাইক বিডি, কেবি রাইডার্স, ন্যাশনাল বাইকার, বিডি বাইকারস এবং বিএমআরএস গ্রুপের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ বাইকার অংশ নেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতিতে খুশি বাইকাররা

আপডেট সময় ০৫:২১:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৩

আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করবে মোটরসাইকেল। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতু চালুর পর প্রথম ঈদযাত্রার আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাইকাররা। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের বাধা কেটে যাওয়া উপকৃত হবে লাখো বাইকার। তবে সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা উচিত।

এ নিয়ে রাজধানীর কয়েকজন বাইকারের সঙ্গে কথা বলেছে বাংলা ট্রিবিউন। তারা সরকারের এই সিদ্ধান্ততে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর মতো এখন থেকে পদ্মা সেতু দিয়েও মোটরসাইকেল চলবে, এটা অবশ্যই খুশির খবর। সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং প্রশংসার দাবি রাখে। এখন সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে বাইকারদের সতর্ক থাকতে হবে। যাতে তাদের কারণে আবারও সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

শেখ মামুন নামে এক বাইকার বলেন, সারা দেশে, সকল সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল করছে। কেবল পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছি। এটি ছিল একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। দেরিতে হলেও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে এসেছে, এটি খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। কারণ এই সেতু দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার বাইকাররা উপকৃত হবেন।

রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং করা ঝালকাঠির আসাদুজ্জামান শাওন বলেন, ঢাকায় রাইড শেয়ারিং করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। ঈদের সময় আগে মাওয়া ফেরিঘাট দিয়ে বাইক নিয়ে যেতাম। এখন পদ্মা সেতু হয়েছে, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। কিন্তু এতদিন এই সেতু দিয়ে মোটরবাইকেলে পারাপার বন্ধ ছিল। সেতু চালুর পর প্রথম ঈদ হতে যাচ্ছে এবার। তার আগেই সেতুটি মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ায় আমি খুশি। নিজের মোটরসাইকেলে করেই ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি যেতে পারবো।

তাদের মতো প্রায় একই ধরনের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন ঢাকায় মোটরসাইকেল চালানো বাগেরহাটের এমরান হোসেন ও পিরোজপুরের সোলাইমান হুসাইন। তবে তারা দুজনই বলেছেন, কিছু শর্তসাপেক্ষে পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি এসেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় এ বিষয়ে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। সেতু দিয়ে চলাচলের সময় সেগুলো মেনে চলা উচিত বাইকারদের। মনে রাখতে হবে, তাদের অসাবধানতার কারণে যেন আবার কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

আতাউল গণি নামে আরেক বাইকার বলেন, আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জে। প্রতিবার ঈদের সময় আমি নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে যাই। বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে খুব সহজে বাড়িতে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না। দূরপাল্লার বাসের ভোগান্তির কারণেই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলে যাত্রা করি। পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল উন্মুক্ত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বাইকাররা আমার মতো সুবিধা পাবে।

পদ্মা সেতুতে চলবে মোটরসাইকেল

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে বিষয়টি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে চলবে মোটরসাইকেল। ২০ এপ্রিল সকাল সকাল ৬টা থেকে সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। সেতুর বাম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে চলবে। স্পিড লিমিট ঘণ্টায় থাকবে ৬০ কিলোমিটার। গতি এর বেশি তোলা যাবে না।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও জানান, কোনোভাবেই সার্ভিস লেনের বাইরে মূল সেতুতে মোটরসাইকেল আসতে পারবে না। নির্ধারিত হারে টোল প্রদান করতে হবে। যদি নিয়ম না মানে তাহলে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হবে। এরপর কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

মানতে হবে যেসব শর্ত

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ধারিত টোল দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হতে পারবে। মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত টোল বুথ ও নির্ধারিত লেন ব্যবহার করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই নির্ধারিত লেন পরিবর্তন করা যাবে না। ওভারটেকও করা যাবে না। চালক ও আরোহীকে হেলমেটসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই সেতুর উপর দাঁড়ানো বা ছবি তোলা যাবে না। চালকসহ সর্বোচ্চ দুইজন মোটরসাইকেলে চড়তে পারবে।

এতে বলা হয়, বর্ণিত শর্তসমূহ প্রতিপালন করে পদ্মা সেতু ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। শৃঙ্খলা না মানলে মোটরসাইকেল চলাচলের এ সুযোগ বাতিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
যেভাবে বন্ধ হয়েছিল বাইক চলাচল

২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন করার পর দিন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় পদ্মা সেতু। প্রথম দিন বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল সেতু দিয়ে পার হয়। টাকার বিনিময়ে বাইকে করে সেতু পার করে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এরমধ্যেই ওই দিন রাতে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই জন মারাত্মক আহত হন। ওই দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

পরদিন সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৭ জুন সকাল ছয়টা থেকে পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেটি উত্থাপিত হয়নি বলে এ বছরের ১৫ জানুয়ারি খারিজ করে দেন আদালত। তবে বাইকাররা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছিল, যেন পদ্মা সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমিত দেয় সরকার।

সম্প্রতি মোটরসাইকেল চলাচলের খসড়া নীতিমালা করার সংবাদ প্রকাশের পর তা সংশোধন এবং পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন বাইকাররা। তারা ১ মার্চ মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এবং ৩ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বাইক বিডি, কেবি রাইডার্স, ন্যাশনাল বাইকার, বিডি বাইকারস এবং বিএমআরএস গ্রুপের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ বাইকার অংশ নেন।