ঢাকা , শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রাজস্থানের স্বপ্নভঙ্গ, রোববার কলকাতা-হায়দরাবাদ ফাইনাল Logo নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দাবির প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo জোটের শরিক দলগুলোকে সংগঠিত ও জনপ্রিয় করতে নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা Logo এখান থেকে অনেক দূরে কোথাও চলে যেতে চাই: শবনম ফারিয়া Logo দেহে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত বাবা হত্যার বিচার চাইবো: ডরিন Logo রাফায় অভিযান বন্ধে ইসরায়েলকে নির্দেশ আদালতের Logo উত্তর কলাবাগ অক্সিজেন পট্রি রাস্তাটি পানিবন্ধী, দূর্ভোগে ৫০ পরিবার Logo বন্দরে সাঁজাপ্রাপ্ত ২ আসামিসহ বিভিন্ন ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার ৫ Logo রূপগঞ্জে ডন সেলিমের বাসায় ২ দফা হামলা ও ভাংচুর, আহত ১০ Logo পরকীয়ার জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ আটক ২

পটুয়াখালীর ছবি কাশ্মিরের বলে চালানোর পর বিব্রত ভারত

মূল ছবিটা ছিল বাংলাদেশের পটুয়াখালী শহরের ঝাউতলা এলাকার। আর ভারতের জম্মু ও কাশ্মির প্রশাসন সেটাকেই কিনা দাবি করে বসলো শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে।

এই মারাত্মক ভুলটা ধরা পড়ার পর তড়িঘড়ি সব পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শ্রীনগরে যখন জি-টোয়েন্টির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে তখন এই ছবি-বিভ্রাটকে ঘিরে প্রবল অস্বস্তি কিন্তু এড়ানো যাচ্ছে না!

বিপত্তির সূত্রপাত গত ১৮ মে, বৃহস্পতিবার। সেদিন জম্মু ও কাশ্মিরের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ তাদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি আলোকসজ্জিত রাস্তার ছবি টুইট করে লেখে, ‘শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোডকে অসাধারণ সজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কাশ্মিরে জি-টোয়েন্টির বৈঠকে যোগ দিতে সারা পৃথিবী থেকে যে প্রতিনিধিরা আসছেন তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন।’

অবিকল একই ভাষায় সে দিন একই রকম টুইট করে কাশ্মিরের বাডগাম জেলার তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগও। তারপর একে একে সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাশ্মিরের ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’রাও সেই একই ছবি ভাষার একটু অদল-বদল করে পোস্ট করতে থাকেন। সেই পোস্ট ঢালাও রিটুইট করার জন্যও আবেদন জানানো হতে থাকে।

কথিত সেই ‘বুলেভার্ড রোডে’র ছবি আরও যারা পোস্ট করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন ‘সেভ ইয়ুথ সেভ ফিউচার’ নামে একটি এনজিও’র কর্ণধার ওয়াজাহাত ফারুক ভাট, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আকিব মীর প্রমুখ।

ওয়াজাহাত ফারুক ভাট সেই সঙ্গেই লেখেন, ‘বুলেভার্ড রোড থেকে যেন আজ সৌন্দর্যের দীপ্তি ফুটে বেরোচ্ছে, যা একটি অসাধারণ ইভেন্টের আয়োজনে আমাদের অঙ্গীকারের পরিচায়ক।’
আসলে কাশ্মিরের শ্রীনগরে জি-টোয়েন্টি জোটের পর্যটন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে ভারত সারা দুনিয়াকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখন এতটাই স্বাভাবিক যে সেখানে আন্তর্জাতিক স্তরের একটি বৈঠকও আয়োজন করা সম্ভব। শ্রীনগর তথা কাশ্মির যে কোনও বিতর্কিত ভূখণ্ড নয়– বরং ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জি-টোয়েন্টির বর্তমান চেয়ার হিসেবে সেখানে জোটের কোনও বৈঠক আয়োজন করার পূর্ণ অধিকার ভারতের আছে, বলতে চাওয়া হচ্ছে এই কথাটাও।

কথিত ‘বুলেভার্ড রোডে’র ছবির ঢালাও পোস্ট যে সেই ক্যাম্পেইনেরই অংশ ছিল তা বুঝতে কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ভারতেরই কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলে শ্রীনগরের একটি অভিজাত রাজপথ বলে প্রশাসন যার ছবি তুলে ধরছে সেটি আসলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত পটুয়াখালীর একটি সাজানো-গোছানো রাস্তা!
গুগলে সহজ ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করেই দেখা যায়, শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে যেটিকে চালানো হচ্ছে সেই একই ছবি ‘ঝাউতলা, পটুয়াখালী’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আপলোড করা হয়েছিল।

ওই পেজের একাধিক সদস্য পটুয়াখালী শহরের ওই রাস্তাটির ছবি দিয়েছেন। মহম্মদ নাঈম ইসলাম নামে একজন সদস্য তার ‘প্রাণের শহর’ পটুয়াখালীর একটি রাস্তার যে ভিডিও দিয়েছেন তা থেকেও বুঝতে অসুবিধা হয়নি কাশ্মির প্রশাসনও সেই একই রাস্তার ছবি দিয়েছে– কিন্তু সেটাকে দাবি করা হয়েছে শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে!

এই লজ্জাজনক ভুল প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মির প্রশাসন ও বাডগাম জেলার জনসংযোগ বিভাগ– উভয়েই তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তবে ভুল ছবি পোস্ট করার জন্য তারা আদৌ দুঃখ প্রকাশ করেননি।

আকিব মীর-সহ ব্লু টিকধারী বেশ কয়েকজন সুপরিচিত টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে সেই পোস্ট কিন্তু এখনও (এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও) রয়ে গেছে। কাশ্মিরের ‘বিজ্ঞাপন’ হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টে জ্বলজ্বল করছে পটুয়াখালীর একটি অখ্যাত রাস্তা!

ঘটনাচক্রে শ্রীনগরে জি-টোয়েন্টির পর্যটন ওয়ার্কিং গ্রুপের চলমান বৈঠকে বাংলাদেশও কিন্তু অংশ নিচ্ছে।

জোটের সদস্য কুড়িটি দেশের মধ্যে চীন, সৌদি ও তুরস্ক কেবল প্রতিনিধি পাঠায়নি, আর সাতটি বিশেষ আমন্ত্রিত দেশের মধ্যে (যার মধ্যে বাংলাদেশও আছে) কেবল মিশর এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছে। গতকাল (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।

আর সেই বাংলাদেশের ছবি নিজেদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করে অতিথির সামনেই চরম বেইজ্জতির মুখে পড়েছে কাশ্মির প্রশাসন!

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্থানের স্বপ্নভঙ্গ, রোববার কলকাতা-হায়দরাবাদ ফাইনাল

পটুয়াখালীর ছবি কাশ্মিরের বলে চালানোর পর বিব্রত ভারত

আপডেট সময় ০৪:২১:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩

মূল ছবিটা ছিল বাংলাদেশের পটুয়াখালী শহরের ঝাউতলা এলাকার। আর ভারতের জম্মু ও কাশ্মির প্রশাসন সেটাকেই কিনা দাবি করে বসলো শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে।

এই মারাত্মক ভুলটা ধরা পড়ার পর তড়িঘড়ি সব পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শ্রীনগরে যখন জি-টোয়েন্টির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে তখন এই ছবি-বিভ্রাটকে ঘিরে প্রবল অস্বস্তি কিন্তু এড়ানো যাচ্ছে না!

বিপত্তির সূত্রপাত গত ১৮ মে, বৃহস্পতিবার। সেদিন জম্মু ও কাশ্মিরের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ তাদের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি আলোকসজ্জিত রাস্তার ছবি টুইট করে লেখে, ‘শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোডকে অসাধারণ সজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। কাশ্মিরে জি-টোয়েন্টির বৈঠকে যোগ দিতে সারা পৃথিবী থেকে যে প্রতিনিধিরা আসছেন তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন।’

অবিকল একই ভাষায় সে দিন একই রকম টুইট করে কাশ্মিরের বাডগাম জেলার তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগও। তারপর একে একে সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কাশ্মিরের ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’রাও সেই একই ছবি ভাষার একটু অদল-বদল করে পোস্ট করতে থাকেন। সেই পোস্ট ঢালাও রিটুইট করার জন্যও আবেদন জানানো হতে থাকে।

কথিত সেই ‘বুলেভার্ড রোডে’র ছবি আরও যারা পোস্ট করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন ‘সেভ ইয়ুথ সেভ ফিউচার’ নামে একটি এনজিও’র কর্ণধার ওয়াজাহাত ফারুক ভাট, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আকিব মীর প্রমুখ।

ওয়াজাহাত ফারুক ভাট সেই সঙ্গেই লেখেন, ‘বুলেভার্ড রোড থেকে যেন আজ সৌন্দর্যের দীপ্তি ফুটে বেরোচ্ছে, যা একটি অসাধারণ ইভেন্টের আয়োজনে আমাদের অঙ্গীকারের পরিচায়ক।’
আসলে কাশ্মিরের শ্রীনগরে জি-টোয়েন্টি জোটের পর্যটন ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে ভারত সারা দুনিয়াকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে কাশ্মিরের পরিস্থিতি এখন এতটাই স্বাভাবিক যে সেখানে আন্তর্জাতিক স্তরের একটি বৈঠকও আয়োজন করা সম্ভব। শ্রীনগর তথা কাশ্মির যে কোনও বিতর্কিত ভূখণ্ড নয়– বরং ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং জি-টোয়েন্টির বর্তমান চেয়ার হিসেবে সেখানে জোটের কোনও বৈঠক আয়োজন করার পূর্ণ অধিকার ভারতের আছে, বলতে চাওয়া হচ্ছে এই কথাটাও।

কথিত ‘বুলেভার্ড রোডে’র ছবির ঢালাও পোস্ট যে সেই ক্যাম্পেইনেরই অংশ ছিল তা বুঝতে কোনও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু ভারতেরই কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইট কিছুক্ষণের মধ্যেই আবিষ্কার করে ফেলে শ্রীনগরের একটি অভিজাত রাজপথ বলে প্রশাসন যার ছবি তুলে ধরছে সেটি আসলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত পটুয়াখালীর একটি সাজানো-গোছানো রাস্তা!
গুগলে সহজ ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করেই দেখা যায়, শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে যেটিকে চালানো হচ্ছে সেই একই ছবি ‘ঝাউতলা, পটুয়াখালী’ নামে একটি ফেসবুক পেইজ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই আপলোড করা হয়েছিল।

ওই পেজের একাধিক সদস্য পটুয়াখালী শহরের ওই রাস্তাটির ছবি দিয়েছেন। মহম্মদ নাঈম ইসলাম নামে একজন সদস্য তার ‘প্রাণের শহর’ পটুয়াখালীর একটি রাস্তার যে ভিডিও দিয়েছেন তা থেকেও বুঝতে অসুবিধা হয়নি কাশ্মির প্রশাসনও সেই একই রাস্তার ছবি দিয়েছে– কিন্তু সেটাকে দাবি করা হয়েছে শ্রীনগরের বুলেভার্ড রোড বলে!

এই লজ্জাজনক ভুল প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মির প্রশাসন ও বাডগাম জেলার জনসংযোগ বিভাগ– উভয়েই তাদের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন। তবে ভুল ছবি পোস্ট করার জন্য তারা আদৌ দুঃখ প্রকাশ করেননি।

আকিব মীর-সহ ব্লু টিকধারী বেশ কয়েকজন সুপরিচিত টুইটার ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে সেই পোস্ট কিন্তু এখনও (এই প্রতিবেদন লেখার সময়েও) রয়ে গেছে। কাশ্মিরের ‘বিজ্ঞাপন’ হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টে জ্বলজ্বল করছে পটুয়াখালীর একটি অখ্যাত রাস্তা!

ঘটনাচক্রে শ্রীনগরে জি-টোয়েন্টির পর্যটন ওয়ার্কিং গ্রুপের চলমান বৈঠকে বাংলাদেশও কিন্তু অংশ নিচ্ছে।

জোটের সদস্য কুড়িটি দেশের মধ্যে চীন, সৌদি ও তুরস্ক কেবল প্রতিনিধি পাঠায়নি, আর সাতটি বিশেষ আমন্ত্রিত দেশের মধ্যে (যার মধ্যে বাংলাদেশও আছে) কেবল মিশর এই বৈঠক এড়িয়ে গিয়েছে। গতকাল (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।

আর সেই বাংলাদেশের ছবি নিজেদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করে অতিথির সামনেই চরম বেইজ্জতির মুখে পড়েছে কাশ্মির প্রশাসন!