ঢাকা , শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন থেকে শুধু সরেননি ভোট বর্জনেরও আহ্বান জানালেন মেয়র আরিফ

আসন্ন সিসিক নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সিসিকের টানা দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান মেয়র ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর রেজিস্টারী মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফ বলন, ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা আজ তলানিতে চলে গেছে। নির্বাচন আসনে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে ভোট কি তারা দিতে পারবে, না আগের রাতেই ভোট শেষ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে শুধু সিলেটেই নয়, সারাদেশেই কোন নির্বাচনী পরিবেশ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশে যখন ইভিএমকে গ্রহণ করা হচ্ছে না, তখন নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে আসা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না করে ভোট ডাকাতি করতে চায়। সিলেটবাসী ইভিএম বুঝে না, ইভিএম চায় না। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ডাকাতির নীলনকশা চুড়ান্ত করা হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচনের জন্য যত উপকরণ দরকার তা বিদ্যমান। ভোট দিবেন এক প্রতীকে চলে যাবে অন্য প্রতীকে। এই নিয়ে নির্বাচন হবে প্রহসনের নির্বাচন, তাই বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের পরামর্শে এই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেব না আমি।

তিনি বলেন, বিএনপির দলীয় মনোনয় নিয়ে আমি দুই বার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে আমার উপর যে মানসিক চাপ যাচ্ছে তা কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আমার সাথে যে অশুভ কাজ করা হয়েছে তা সময় সুযোগ হলে পরবর্তীতে আপনাদের কাছে খোলাসা করব। নগরবাসী সব সময় আমার সুখে, দুঃখে সব সময় পাশে ছিলেন। আমার কোন সঙ্কটেই নগরবাসী আমাকে ছেড়ে যাইনি। আপনারা বিএনপিকে ভালোবাসেন বলেই বিগত নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন। নগরবাসীর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমার জন্য অমূল্য সম্পদ।

মেয়র আরিফ আরো বলেন, আমি মেয়র পদে মনোনয়পত্র সংগ্রহ না করলেও আমার দলের নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। এটি তো কোন নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ হতে পারে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপিতে আছি, এবং আমৃত্যু থাকতে চাই। দলের জন্য ক্ষতিকর কোন কর্মকা-ে আমি যেতে পারি না। আমাকে যারা ‘উকিল আব্দুস সাত্তার’ মনে করেছিলেন তাদের ধারণা ঠিক নয়। বিএনপি দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন চলমান রয়েছে। এসময় সিলেটবাসীর মায়া ও মমতা নিয়ে যেন চিরবিদায় নিতে পারেন সে জন্য নগরবাসীর প্রতি দোয়া চান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সহ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, নগর বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা চার বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সংবাদ সম্মেলনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি সর্বস্থরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্বাচন বর্জন করে মাঠে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশের পূর্বে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে এসে পৌঁছাছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় রেজিস্ট্রারি মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সমাবেশ উপলক্ষে রেজিস্ট্রারি মাঠে কানায় কানায় পূর্ণ হয় নেতাকর্মীদের পদচারণায়। এর আগে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ বাসা কুমারপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে পায়ে হেঁটে ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে এসে পৌঁছান তিনি। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও গত এক মাস ধরে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন আরিফ। ফলে সিটি নির্বাচন ঘিরে তাঁকে নিয়ে যে জল্পনা-কল্পনা, তার অবসান নিজেই করলেন গতকাল তিনি।

গত কয়েক দিন ধরে মেয়র আরিফ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন ও দলের সিদ্ধান্তের কথা ভেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। যদিও গত শুক্রবার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তাঁর দেয়া বক্তব্যে মেয়র আরিফ নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। আরিফ বলেছেন, ‘আমি সব সময় সিলেটের জনগণের পাশে ছিলাম এবং আছি। যে অবস্থানেই থাকি না কেন, প্রিয় সিলেটের জনগণের পাশেই থাকব।’

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিষয়ে সংকেত রয়েছে এবং তা দু-চার দিনের মধ্যে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন আরিফুল হক। যুক্তরাজ্যে সফরকালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ওই সংকেত পান। সংকেতটি লাল, না সবুজ; অর্থাৎ নির্বাচন করবেন কিনা, তার ব্যাখ্যা দিতে এক মাস সময় চেয়ে নেন। ফলে গতকাল দুপুরে রেজিস্ট্রারি মাঠের নাগরিক সমাবেশে আরিফুল কী ঘোষণা দেন, তারই প্রতিক্ষায় অধীর আগ্রহী ছিলেন প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষ।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ মে এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন। আগামী ২১ জুন ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

নির্বাচন থেকে শুধু সরেননি ভোট বর্জনেরও আহ্বান জানালেন মেয়র আরিফ

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩

আসন্ন সিসিক নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সিসিকের টানা দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান মেয়র ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে নগরীর রেজিস্টারী মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরিফ বলন, ভোট নিয়ে মানুষের আস্থা আজ তলানিতে চলে গেছে। নির্বাচন আসনে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে ভোট কি তারা দিতে পারবে, না আগের রাতেই ভোট শেষ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে শুধু সিলেটেই নয়, সারাদেশেই কোন নির্বাচনী পরিবেশ নেই। বিশ্বের উন্নত দেশে যখন ইভিএমকে গ্রহণ করা হচ্ছে না, তখন নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে আসা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না করে ভোট ডাকাতি করতে চায়। সিলেটবাসী ইভিএম বুঝে না, ইভিএম চায় না। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ডাকাতির নীলনকশা চুড়ান্ত করা হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচনের জন্য যত উপকরণ দরকার তা বিদ্যমান। ভোট দিবেন এক প্রতীকে চলে যাবে অন্য প্রতীকে। এই নিয়ে নির্বাচন হবে প্রহসনের নির্বাচন, তাই বিএনপি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের পরামর্শে এই প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নেব না আমি।

তিনি বলেন, বিএনপির দলীয় মনোনয় নিয়ে আমি দুই বার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। গত কয়েক সপ্তাহ থেকে আমার উপর যে মানসিক চাপ যাচ্ছে তা কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না। আমার সাথে যে অশুভ কাজ করা হয়েছে তা সময় সুযোগ হলে পরবর্তীতে আপনাদের কাছে খোলাসা করব। নগরবাসী সব সময় আমার সুখে, দুঃখে সব সময় পাশে ছিলেন। আমার কোন সঙ্কটেই নগরবাসী আমাকে ছেড়ে যাইনি। আপনারা বিএনপিকে ভালোবাসেন বলেই বিগত নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন। নগরবাসীর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমার জন্য অমূল্য সম্পদ।

মেয়র আরিফ আরো বলেন, আমি মেয়র পদে মনোনয়পত্র সংগ্রহ না করলেও আমার দলের নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। এটি তো কোন নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষণ হতে পারে না। আমি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপিতে আছি, এবং আমৃত্যু থাকতে চাই। দলের জন্য ক্ষতিকর কোন কর্মকা-ে আমি যেতে পারি না। আমাকে যারা ‘উকিল আব্দুস সাত্তার’ মনে করেছিলেন তাদের ধারণা ঠিক নয়। বিএনপি দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন চলমান রয়েছে। এসময় সিলেটবাসীর মায়া ও মমতা নিয়ে যেন চিরবিদায় নিতে পারেন সে জন্য নগরবাসীর প্রতি দোয়া চান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সহ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, নগর বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহমদ, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা চার বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সংবাদ সম্মেলনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি সর্বস্থরের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্বাচন বর্জন করে মাঠে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশের পূর্বে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত শেষে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে এসে পৌঁছাছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় রেজিস্ট্রারি মাঠে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সমাবেশ উপলক্ষে রেজিস্ট্রারি মাঠে কানায় কানায় পূর্ণ হয় নেতাকর্মীদের পদচারণায়। এর আগে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজ বাসা কুমারপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মাজার জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে পায়ে হেঁটে ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে এসে পৌঁছান তিনি। বিএনপি নির্বাচনে না গেলেও গত এক মাস ধরে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন আরিফ। ফলে সিটি নির্বাচন ঘিরে তাঁকে নিয়ে যে জল্পনা-কল্পনা, তার অবসান নিজেই করলেন গতকাল তিনি।

গত কয়েক দিন ধরে মেয়র আরিফ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন ও দলের সিদ্ধান্তের কথা ভেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। যদিও গত শুক্রবার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তাঁর দেয়া বক্তব্যে মেয়র আরিফ নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছেন। আরিফ বলেছেন, ‘আমি সব সময় সিলেটের জনগণের পাশে ছিলাম এবং আছি। যে অবস্থানেই থাকি না কেন, প্রিয় সিলেটের জনগণের পাশেই থাকব।’

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিষয়ে সংকেত রয়েছে এবং তা দু-চার দিনের মধ্যে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন আরিফুল হক। যুক্তরাজ্যে সফরকালে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে ওই সংকেত পান। সংকেতটি লাল, না সবুজ; অর্থাৎ নির্বাচন করবেন কিনা, তার ব্যাখ্যা দিতে এক মাস সময় চেয়ে নেন। ফলে গতকাল দুপুরে রেজিস্ট্রারি মাঠের নাগরিক সমাবেশে আরিফুল কী ঘোষণা দেন, তারই প্রতিক্ষায় অধীর আগ্রহী ছিলেন প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষ।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ মে এই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন। আগামী ২১ জুন ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।