ঢাকা , সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রভাব কী হতে পারে? Logo মায়ের ওড়না শাড়ি বানিয়ে পরলেন জেফার, দেখালেন চমক Logo পরিবারসহ বেনজীরের আরও ১১৩ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ Logo হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে, উড়িয়ে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন Logo ফতুল্লায় রহিম হাজী ও সামেদ আলীর গ্রুপে সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ১৫ Logo সোনারগাঁয়ে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসায় শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন Logo মুছাপুরে স্বর্ণকার অজিতের প্রেমের ফাঁদে সর্বশান্ত প্রবাসী নারী Logo বন্দরে বিভিন্ন মামলার ২ সাঁজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার Logo নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় অন্ত:সত্তা নারীর মৃত্যু, চালক আটক

নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন

দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত সোমবার বেলা ১১টায় তিনি শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামরিক- বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিক। শপথ গ্রহণের পর নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বঙ্গভবনের দায়িত্ব হস্তান্তরের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ আসন বদল করেন তাঁরা। এ সময় আগত অতিথিরা করতালি দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানান। মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিকুঞ্জের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকষ দল বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তরসহ পুরো আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আমরা নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানাই।
মো. সাহাবুদ্দিন-এমন এক সময় দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৮ মাসের মতো বাকি। ইতোমধ্যে মাঠের বিরোধীদলগুলো আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবী নিয়ে আন্দোলনরত অবস্থায় রয়েছে। বৃহৎ বিরোধীদল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ এবং বিভিন্ন সংস্থার বেশ আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে বারবার তাকিদ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আগামী নির্বাচনের আগে সার্বিক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে। কি হবে তা আগাম বলা যায় না। রাজনীতিতে নাটকীয় অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের মেয়াদকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে ছিল না। তিনি তার রুটিন কাজ করে গিয়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সামনে আগামী রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের পদটি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অলংকারিক। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা সমর্থকদের মধ্য থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। ফলে দলীয় আনুগত্যের বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে। নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ক্ষমতাসীন দলের বাইরে নন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তবে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। নতুন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক। যদিও তার নির্বাহী ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। দুয়েকটি বিষয় ছাড়া প্রেসিডেন্টের তেমন কোন ফাংশন নেই। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও কিছু আনুষ্ঠানিকতা, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দৈনন্দিন বিষয় ও রাজনীতিতে তার কোন ভূমিকা নেই। সংসদে তিনি বছরে একবার বক্তৃতা করেন, সেটাও সরকার তৈরি করে দেয়। সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে সাধারণত প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সীমিতই থাকে। তারপরও উনি রাষ্ট্রের প্রধান। স্বাভাবিকভাবেই দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, এই সময়ে তার গুরুত্ব কম, তা মনে করি না। তিনি বলেছেন, অবশ্যই প্রেসিডেন্টের কাছে জনগণের একটা প্রত্যাশা থাকবে। তিনি কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারবেন, কতটুকু পারবেন না, এ প্রত্যাশা থাকবে। এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি, জনগণ যে আশ্বস্ত হবে, আশা করবে, প্রত্যাশা করবে, সেধরণের কিছু দেখিনি।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন

আপডেট সময় ০৩:৪০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। গত সোমবার বেলা ১১টায় তিনি শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামরিক- বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিক। শপথ গ্রহণের পর নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বঙ্গভবনের দায়িত্ব হস্তান্তরের অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ নিজ আসন বদল করেন তাঁরা। এ সময় আগত অতিথিরা করতালি দিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানান। মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিকুঞ্জের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকষ দল বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ এবং বিদায়ী প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তরসহ পুরো আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আমরা নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিনন্দন জানাই।
মো. সাহাবুদ্দিন-এমন এক সময় দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৮ মাসের মতো বাকি। ইতোমধ্যে মাঠের বিরোধীদলগুলো আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবী নিয়ে আন্দোলনরত অবস্থায় রয়েছে। বৃহৎ বিরোধীদল বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ এবং বিভিন্ন সংস্থার বেশ আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তারা আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করার ক্ষেত্রে বারবার তাকিদ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, আগামী নির্বাচনের আগে সার্বিক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে। কি হবে তা আগাম বলা যায় না। রাজনীতিতে নাটকীয় অনেক ঘটনাই ঘটতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের মেয়াদকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে ছিল না। তিনি তার রুটিন কাজ করে গিয়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সামনে আগামী রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের পদটি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অলংকারিক। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, নির্বাচনের সময় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা সমর্থকদের মধ্য থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। ফলে দলীয় আনুগত্যের বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুব কম থাকে। নতুন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ক্ষমতাসীন দলের বাইরে নন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তবে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি একজন দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। নতুন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান অভিভাবক। যদিও তার নির্বাহী ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। দুয়েকটি বিষয় ছাড়া প্রেসিডেন্টের তেমন কোন ফাংশন নেই। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও কিছু আনুষ্ঠানিকতা, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দৈনন্দিন বিষয় ও রাজনীতিতে তার কোন ভূমিকা নেই। সংসদে তিনি বছরে একবার বক্তৃতা করেন, সেটাও সরকার তৈরি করে দেয়। সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে সাধারণত প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সীমিতই থাকে। তারপরও উনি রাষ্ট্রের প্রধান। স্বাভাবিকভাবেই দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, এই সময়ে তার গুরুত্ব কম, তা মনে করি না। তিনি বলেছেন, অবশ্যই প্রেসিডেন্টের কাছে জনগণের একটা প্রত্যাশা থাকবে। তিনি কতটুকু ভূমিকা পালন করতে পারবেন, কতটুকু পারবেন না, এ প্রত্যাশা থাকবে। এখন পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি, জনগণ যে আশ্বস্ত হবে, আশা করবে, প্রত্যাশা করবে, সেধরণের কিছু দেখিনি।