ঢাকা , বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী Logo ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রভাব কী হতে পারে? Logo মায়ের ওড়না শাড়ি বানিয়ে পরলেন জেফার, দেখালেন চমক Logo পরিবারসহ বেনজীরের আরও ১১৩ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ Logo হায়দরাবাদকে গুঁড়িয়ে, উড়িয়ে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন Logo ফতুল্লায় রহিম হাজী ও সামেদ আলীর গ্রুপে সংঘর্ষ, ভাংচুর, আহত ১৫ Logo সোনারগাঁয়ে নির্বাচন পরবর্তী প্রতিহিংসায় শতাধিক ফলজ গাছ কর্তন Logo মুছাপুরে স্বর্ণকার অজিতের প্রেমের ফাঁদে সর্বশান্ত প্রবাসী নারী Logo বন্দরে বিভিন্ন মামলার ২ সাঁজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার Logo নাসিকের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় অন্ত:সত্তা নারীর মৃত্যু, চালক আটক

তিন বছর পর সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চালু, দুরত্ব কমবে ৬০০ কিলোমিটার

তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খুলে দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) মনোজ কুমার।

সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারবেন পাসপোর্টধারী যাত্রীরা। এতে দূরত্ব কমবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বন্ধ হওয়ায় ব্যবসা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহীসহ আশেপাশের জেলার যাত্রীদের যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হতো। এতে অতিরিক্ত দূরত্ব বেড়েছিল প্রায় ৬০০ কিলোমিটার।

পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, গত ১২ মার্চ চালু হওয়ার কথা ছিল সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন। তবে কিছু কাগজপত্রের জটিলতায় তা হয়নি। ফলে ১৬ মার্চ দুপুরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার এই ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন। এতে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের ভারতগামী যাত্রীদের একদিকে যেমন খরচ কমবে, তেমনি অন্যদিকে দুরত্ব করবে। ভারতীয় ব্যসায়ীদের আমন্ত্রণে আমরা ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে ভারতে যাচ্ছি ইমিগ্রেশন দিয়ে।

তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমরা বেশ দুর্ভোগে ছিলাম। আমদানি-রফতানির কাজে আমাদেরকে ওপারে (ভারত) যেতে হয়। কিন্তু গত ৩ বছর যশোরের বেনাপোল দিয়ে যেতে হয়েছে। এতে দূরত্ব যেমন বেড়েছে ৬০০ কিলোমিটার, তেমনি খরচও অনেক হয়েছে। আমরা স্বত্বি পেয়েছি এই ইমিগ্রেশন চালু হওয়ায়।

এ বিষয়ে আরও কয়েকজন বলেন, আমরা সোনামসজিদ স্থল বন্দরে গমসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করি। তাই মাঝে মাঝে ব্যবসায়িক কাজে আমাদের ভারতে যাওয়া লাগে। কিন্তু সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় আমাদের বেনোপোল দিয়ে জেতে হতো। এতে প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। টাকাও বেশি খরচ হতো। এখন থেকে এই ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে জেতে পারবো। আমাদের ভোগান্তি কম হবে।

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশনের কুলি সাইদুর রহমান জানান, গত তিন বছর ধরে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকার কারণে বেকার ছিলাম। এই পেশায় কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তা করতে পারিনি। আবার চালু হওয়ায় নিজেদের পেশায় ফিরতে পারলাম। ভালো লাগছে, আবারও কাজে ফিরতে পারছি।

এদিন ফিতা কেটে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের উদ্বোধন করা হয়। পরে উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টি বিনিময় করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমান, নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, ভারতের মহদীপুর এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (কাস্টমস) দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়, এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বৈভব চৌধুরী, বিএসএফের কামাডেন্ট সঞ্চয় শর্মা, মহদীপুর স্থলবন্দরের সুপার এলসি ইমচার্জ দেশ দুলাল চ্যাটার্জিসহ অন্যান্যরা।

এর আগে একাধিকবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেন, রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন খুলে দেওয়ায় ভারতীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গের সরকার, রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার, এফবিসিসিআইসহ বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোনামসজিদ রুটে বছরে লক্ষাধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াত করতেন। প্রাণঘাতী করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ সোনামসজিদ চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার তারেককে ফিরিয়ে এনে অবশ্যই আদালতের রায় কার্যকর করবে : প্রধানমন্ত্রী

তিন বছর পর সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চালু, দুরত্ব কমবে ৬০০ কিলোমিটার

আপডেট সময় ০৪:৩৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খুলে দেওয়া হয়। ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) মনোজ কুমার।

সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা যাওয়া করতে পারবেন পাসপোর্টধারী যাত্রীরা। এতে দূরত্ব কমবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বন্ধ হওয়ায় ব্যবসা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহীসহ আশেপাশের জেলার যাত্রীদের যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হতো। এতে অতিরিক্ত দূরত্ব বেড়েছিল প্রায় ৬০০ কিলোমিটার।

পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, গত ১২ মার্চ চালু হওয়ার কথা ছিল সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন। তবে কিছু কাগজপত্রের জটিলতায় তা হয়নি। ফলে ১৬ মার্চ দুপুরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার এই ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন। এতে বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের ভারতগামী যাত্রীদের একদিকে যেমন খরচ কমবে, তেমনি অন্যদিকে দুরত্ব করবে। ভারতীয় ব্যসায়ীদের আমন্ত্রণে আমরা ২৫ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে ভারতে যাচ্ছি ইমিগ্রেশন দিয়ে।

তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমরা বেশ দুর্ভোগে ছিলাম। আমদানি-রফতানির কাজে আমাদেরকে ওপারে (ভারত) যেতে হয়। কিন্তু গত ৩ বছর যশোরের বেনাপোল দিয়ে যেতে হয়েছে। এতে দূরত্ব যেমন বেড়েছে ৬০০ কিলোমিটার, তেমনি খরচও অনেক হয়েছে। আমরা স্বত্বি পেয়েছি এই ইমিগ্রেশন চালু হওয়ায়।

এ বিষয়ে আরও কয়েকজন বলেন, আমরা সোনামসজিদ স্থল বন্দরে গমসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করি। তাই মাঝে মাঝে ব্যবসায়িক কাজে আমাদের ভারতে যাওয়া লাগে। কিন্তু সোনামসজিদ-মোহদিপুর স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় আমাদের বেনোপোল দিয়ে জেতে হতো। এতে প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। টাকাও বেশি খরচ হতো। এখন থেকে এই ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে জেতে পারবো। আমাদের ভোগান্তি কম হবে।

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশনের কুলি সাইদুর রহমান জানান, গত তিন বছর ধরে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকার কারণে বেকার ছিলাম। এই পেশায় কাজ করে সংসার চালায়। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তা করতে পারিনি। আবার চালু হওয়ায় নিজেদের পেশায় ফিরতে পারলাম। ভালো লাগছে, আবারও কাজে ফিরতে পারছি।

এদিন ফিতা কেটে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের উদ্বোধন করা হয়। পরে উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান এবং মিষ্টি বিনিময় করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমান, নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, ভারতের মহদীপুর এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (কাস্টমস) দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়, এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বৈভব চৌধুরী, বিএসএফের কামাডেন্ট সঞ্চয় শর্মা, মহদীপুর স্থলবন্দরের সুপার এলসি ইমচার্জ দেশ দুলাল চ্যাটার্জিসহ অন্যান্যরা।

এর আগে একাধিকবার সোনামসজিদ স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেন, রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন খুলে দেওয়ায় ভারতীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গের সরকার, রাজশাহীর ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার, এফবিসিসিআইসহ বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোনামসজিদ রুটে বছরে লক্ষাধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে যাতায়াত করতেন। প্রাণঘাতী করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ সোনামসজিদ চেকপোস্ট বন্ধ হয়ে যায়।