ঢাকা , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে ভূমিকম্পে ভবনে ফাটল

ভূমিকম্পে কক্সবাজারের টেকনাফে বিভিন্ন স্থানে সরকারি কার্যালয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে, তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এসময় যারা যারা টের পেয়েছেন তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্পটির কথা জানান দিয়েছেন। অনেকেই শুকরিয়া আদায় করেছেন এর চেয়ে বড় ঝাঁকুনি কিংবা বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ৪টা ৩৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে পুরো টেকনাফ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানান, ‘টেকনাফে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্পের ও ঝাঁকুনির খবর এসেছে। আমাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতি খবর এখনও আসেনি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিচ্ছি।’

এদিকে টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কেন্দ্রের কার্যালয়ে ফাটলের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া পৌরসভার কয়েকটি ঘর-বাড়ি ফাটলের খবর জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘বিকালে ঝাঁকুনি পেয়ে অফিসে থেকে তড়িঘড়িভাবে বেরিয়ে যায়। পরে এসে দেখি অফিসের কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছি। এরপর নিশ্চিত হতে পারি ভূমিকম্পের বিষয়টি।’

টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. আলম বলেন, ‘গত ৬-৭ বছরে কয়েটি ছোট ভূমিকম্প হয়েছিল। কিন্তু আজকের মতো বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূতি হয়নি। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আমার বাড়িতে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমার এত বছর জীবনে এত বড় ভূমিকম্প কখনও দেখিনি। কিন্তু এখানে অনেকে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করছে। ফলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মাত্রা বেশি রয়েছে এখানে।’

অন্যদিকে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দারা ভয়-ভীতিতে ছিল বলে জানিয়েছেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘বিকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে এখানকার লোকজন অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

শনিবার বিকাল ৪টা ৩৯ মিনিটে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ২০ দশমিক ৯০ অক্ষাংশ এবং ৯২ দশমিক ৩৩ দ্রাঘিমাংশে ভূকম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৩৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এর ফলে ৪ দশমিক ১০ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে কক্সবাজারে।”

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে ভূমিকম্পে ভবনে ফাটল

আপডেট সময় ০৩:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ভূমিকম্পে কক্সবাজারের টেকনাফে বিভিন্ন স্থানে সরকারি কার্যালয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে, তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এসময় যারা যারা টের পেয়েছেন তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্পটির কথা জানান দিয়েছেন। অনেকেই শুকরিয়া আদায় করেছেন এর চেয়ে বড় ঝাঁকুনি কিংবা বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।

শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ৪টা ৩৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে পুরো টেকনাফ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ জানান, ‘টেকনাফে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্পের ও ঝাঁকুনির খবর এসেছে। আমাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতি খবর এখনও আসেনি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিচ্ছি।’

এদিকে টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কেন্দ্রের কার্যালয়ে ফাটলের বেশকিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া পৌরসভার কয়েকটি ঘর-বাড়ি ফাটলের খবর জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘বিকালে ঝাঁকুনি পেয়ে অফিসে থেকে তড়িঘড়িভাবে বেরিয়ে যায়। পরে এসে দেখি অফিসের কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছি। এরপর নিশ্চিত হতে পারি ভূমিকম্পের বিষয়টি।’

টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. আলম বলেন, ‘গত ৬-৭ বছরে কয়েটি ছোট ভূমিকম্প হয়েছিল। কিন্তু আজকের মতো বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভূতি হয়নি। তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আমার বাড়িতে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমার এত বছর জীবনে এত বড় ভূমিকম্প কখনও দেখিনি। কিন্তু এখানে অনেকে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করছে। ফলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মাত্রা বেশি রয়েছে এখানে।’

অন্যদিকে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দারা ভয়-ভীতিতে ছিল বলে জানিয়েছেন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘বিকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে এখানকার লোকজন অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’

শনিবার বিকাল ৪টা ৩৯ মিনিটে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ২০ দশমিক ৯০ অক্ষাংশ এবং ৯২ দশমিক ৩৩ দ্রাঘিমাংশে ভূকম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ৩৭৭ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এর ফলে ৪ দশমিক ১০ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে কক্সবাজারে।”