ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জয়-সোহানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে খুলনার সান্তনার জয়

পুরো আসর জুড়েই হতাশার গল্প রচনা করেছে খুলনা টাইগার্স। হারের বৃত্তে আটকে থাকা দলটি শেষ ম্যাচে এসে হার এড়াতে পেরেছে। মাহমুদুল হাসান জয়ের হাফ সেঞ্চুরির পর হাবিবুর রহমান সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা ৬ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেলো খুলনা। শুক্রবার ফলচুন বরিশালের বিপক্ষে ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ বল আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে জয়ের পথেই ছিল খুলনা। কিন্তু ইয়াসির আলীর দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে সেই সম্ভাবনা কিছুটা ফিঁকে হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৯ রানের। মিরাজের প্রথম বলে জয়ের সিঙ্গেলে তরুণ হাবিবুর প্রান্ত বদল করেন। দ্বিতীয় বলে লম্বা শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সালমান ক্যাচ মিস করলে সেটি চারে পরিণত হয়। ফলে বাকি ৪ বলে খুলনার জিততে লাগে ৪ রান। ক্রিজে থাকা তরুণ হাবিবুর নার্ভ ঠিক রেখে অনায়াসেই ম্যাচ জেতান। মিরাজকে বিশাল এক ছক্কা মেরে বাঘের গর্জন দিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা টাইগার্স।

মূলত পঞ্চম উইকেটে ১৬ বলে ৪১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচ জেতে খুলনা। হাবিবুরের এমন ঝড়ো ব্যাটিংয়ের আগে জয় খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। ৪৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। হাবিবুর খেলেন ৯ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কার মার। এবারই প্রথম বিপিএল অভিষেক হাবিবুরের। প্রথম ম্যাচে ৬ রানের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ রান করেন তিনি। আজ তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই জয়ের নায়ক ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার।

বরিশালের বোলারদের মধ্যে খালেদ আহমেদ, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও চাতুরাঙা ডি সিলভা একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ফরচুন বরিশাল। প্রথম ম্যাচের মতো রবীন লিগ রাউন্ডের শেষ ম্যাচেও অধিনায়কত্বে বদল আনে দলটি। সাকিব মাঠে থাকলেও এদিন দলকে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিং অর্ডারেও আনা হয় পরিবর্তন। মিডল অর্ডার ব্যাটার মাহমুদউল্লাহকে ওপেনিংয়ে প্রমোশন দেওয়া হয়। যদিও মাহমুদউল্লাহ ৯ রানের বেশি করতে পারেননি। তিন নম্বরে নেমে চাতুরাঙা ডি সিলভাও ১৩ বলে ১৪ রান করে আউট হন। ৪২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে এনামুলকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব আল হাসান ঝড়ো ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই ঝড়!

সাকিব ১৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রান করে আউট হন। সাকিব ফিরে যাওয়ার পর স্কোরবোর্ডে ১ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন এনামুলও (২৮)। ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় এনামুল নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ২৯ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় গ্যালারি মাতিয়ে তোলেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই ব্যাটার। এরপর ইব্রাহিম জারদানের ১৫ বলে ২১ এবং করিম জানাতের ৯ বলের ১৮ রানে ফরচুন বরিশাল ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

খুলনা টাইগার্সের বোলারদের মধ্যে ২০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নাসুম আহমেদ ও হাসান মুরাদ নেন দুটি করে উইকেট।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

জয়-সোহানের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে খুলনার সান্তনার জয়

আপডেট সময় ০৪:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

পুরো আসর জুড়েই হতাশার গল্প রচনা করেছে খুলনা টাইগার্স। হারের বৃত্তে আটকে থাকা দলটি শেষ ম্যাচে এসে হার এড়াতে পেরেছে। মাহমুদুল হাসান জয়ের হাফ সেঞ্চুরির পর হাবিবুর রহমান সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা ৬ ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেলো খুলনা। শুক্রবার ফলচুন বরিশালের বিপক্ষে ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ বল আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় খুলনা।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে জয়ের পথেই ছিল খুলনা। কিন্তু ইয়াসির আলীর দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে সেই সম্ভাবনা কিছুটা ফিঁকে হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৯ রানের। মিরাজের প্রথম বলে জয়ের সিঙ্গেলে তরুণ হাবিবুর প্রান্ত বদল করেন। দ্বিতীয় বলে লম্বা শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ উঠিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সালমান ক্যাচ মিস করলে সেটি চারে পরিণত হয়। ফলে বাকি ৪ বলে খুলনার জিততে লাগে ৪ রান। ক্রিজে থাকা তরুণ হাবিবুর নার্ভ ঠিক রেখে অনায়াসেই ম্যাচ জেতান। মিরাজকে বিশাল এক ছক্কা মেরে বাঘের গর্জন দিয়ে মাঠ ছাড়ে খুলনা টাইগার্স।

মূলত পঞ্চম উইকেটে ১৬ বলে ৪১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ম্যাচ জেতে খুলনা। হাবিবুরের এমন ঝড়ো ব্যাটিংয়ের আগে জয় খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। ৪৩ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি। হাবিবুর খেলেন ৯ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস। তাতে ছিল ২ চার ও ৩ ছক্কার মার। এবারই প্রথম বিপিএল অভিষেক হাবিবুরের। প্রথম ম্যাচে ৬ রানের পর নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ রান করেন তিনি। আজ তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই জয়ের নায়ক ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার।

বরিশালের বোলারদের মধ্যে খালেদ আহমেদ, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ও চাতুরাঙা ডি সিলভা একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ফরচুন বরিশাল। প্রথম ম্যাচের মতো রবীন লিগ রাউন্ডের শেষ ম্যাচেও অধিনায়কত্বে বদল আনে দলটি। সাকিব মাঠে থাকলেও এদিন দলকে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটিং অর্ডারেও আনা হয় পরিবর্তন। মিডল অর্ডার ব্যাটার মাহমুদউল্লাহকে ওপেনিংয়ে প্রমোশন দেওয়া হয়। যদিও মাহমুদউল্লাহ ৯ রানের বেশি করতে পারেননি। তিন নম্বরে নেমে চাতুরাঙা ডি সিলভাও ১৩ বলে ১৪ রান করে আউট হন। ৪২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে এনামুলকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব আল হাসান ঝড়ো ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেন। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সেই ঝড়!

সাকিব ১৪ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২২ রান করে আউট হন। সাকিব ফিরে যাওয়ার পর স্কোরবোর্ডে ১ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন এনামুলও (২৮)। ২৯ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় এনামুল নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রানের ইনিংস খেলেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ২৯ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় গ্যালারি মাতিয়ে তোলেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই ব্যাটার। এরপর ইব্রাহিম জারদানের ১৫ বলে ২১ এবং করিম জানাতের ৯ বলের ১৮ রানে ফরচুন বরিশাল ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

খুলনা টাইগার্সের বোলারদের মধ্যে ২০ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নাসুম আহমেদ ও হাসান মুরাদ নেন দুটি করে উইকেট।