ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদাসহ ৫ ছাত্রীকে এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলে এক ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না- তা সাত দিনের মধ্য জানাতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মিম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মি ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া জাহান।

জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত উপাচার্যের দফতরে শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম। সভায় তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার ও স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আজকের সভায় দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমটি হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সবগুলো অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং অভিযুক্তদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্য কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এখন সাময়িক বহিষ্কার অবস্থায় রয়েছে।’

এদিকে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পছন্দের হল বাছাই করতে আজ ক্যাম্পাসে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা ও কুষ্টিয়া পুলিশের নিরাপত্তায় বাবাসহ ক্যাম্পাসে ফেরেন।

এর আগে, বুধবার (১ মার্চ) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিযুক্তদের বহিষ্কার, ভুক্তভোগী যে হলে থাকতে চায় সে হলের আবাসিকতা দেওয়া ও প্রভোস্টকে সরানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে, ওই পাঁচ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারও অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও এ দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয় ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। পরে এ ঘটনায় প্রতিটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই পাঁচ ছাত্রীকে হল ও ছাত্রলীগ থেকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হলেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদাসহ ৫ ছাত্রীকে এবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার

আপডেট সময় ০৪:৪১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মার্চ ২০২৩

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হলে এক ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) সানজিদা চৌধুরী অন্তরাসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না- তা সাত দিনের মধ্য জানাতে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বহিষ্কৃত পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের ইসরাত জাহান মিম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মি ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া জাহান।

জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত উপাচার্যের দফতরে শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য শেখ আবদুস সালাম। সভায় তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার ও স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, ‘আজকের সভায় দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমটি হাইকোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সবগুলো অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং অভিযুক্তদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানিয়ে সাত কর্মদিবসের মধ্য কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এখন সাময়িক বহিষ্কার অবস্থায় রয়েছে।’

এদিকে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পছন্দের হল বাছাই করতে আজ ক্যাম্পাসে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাবনা ও কুষ্টিয়া পুলিশের নিরাপত্তায় বাবাসহ ক্যাম্পাসে ফেরেন।

এর আগে, বুধবার (১ মার্চ) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিযুক্তদের বহিষ্কার, ভুক্তভোগী যে হলে থাকতে চায় সে হলের আবাসিকতা দেওয়া ও প্রভোস্টকে সরানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে, ওই পাঁচ ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারও অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও এ দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে দুই দফায় এক নবীন ছাত্রীকে রাতভর নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ পৃথক পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন হয়। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট হয় ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। পরে এ ঘটনায় প্রতিটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই পাঁচ ছাত্রীকে হল ও ছাত্রলীগ থেকে ইতিমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। এবার তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হলেন।