ঢাকা , সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গ্যাস বন্ধে সর্বত্র বিপর্যয়

চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সর্বত্র জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গ্যাস বন্ধের সাথেই বিদ্যুৎ ও পানি সঙ্কট চরম আকার নিয়েছে। যানবাহন ও কল-কারখানায় উৎপাদনের চাকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। থমকে গেছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বর্হিনোঙরে পণ্য ওঠানো-নামানো ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন প্রায় অচল। স্বাভাবিক হয়নি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের কার্যক্রম। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া লোকজন বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত ঘোষণার পর গত শুক্রবার রাত থেকে জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসের অভাবে গত দুই দিন বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোঁরায় চুলা জ্বলছেই না। কিছু হোটেল রেস্তোঁরা, বেকারি সীমিত আকারে চালু থাকলেও সেখানে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। খাবার নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি অবস্থা। রান্না করতে না পারায় লোকজন শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

গ্যাস সঙ্কটের কারণে বৈদ্যুতিক ও কেরোসিনের চুলা এবং এলপি গ্যাস কেনার হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে এসব জিনিসের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দেখা দিয়েছে কেরোসিনের সঙ্কট। অনেকে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ির ছাদে লাকড়ি দিয়ে রান্না-বান্না সারেন। অনেকে খাবারের খোঁজে ছুটেন হোটেল রেস্তোঁরা ও বেকারিতে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই। কোন কোন হোটেল-রেস্তোঁরায় লাকড়ির চুলা ও বোতলজাত গ্যাস দিয়ে কিছু খাবার তৈরী করলেও নিমিষে তা ফুরিয়ে যায়। সকালেই শেষ হয়ে যায় বেকারির পাউরুটি। অনেকে খাবার না পেয়ে খালি হাতে ফিরেন।

গ্যাসের অভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ঘুরছে না সিএনজি চালিত যানবাহন। রাস্তায় গণপরিবহনের সঙ্কট চরমে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু কল-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা খোলা ছিল। এতে রাস্তায় নেমে লোকজনকে যানবাহন সঙ্কটের কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহানগরীর বেশিরভাগ সড়ক ছিল ফাঁকা। হাতে গোনা কিছু যানবাহন চলেছে নগরীতে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে বিদ্যুৎ সঙ্কট। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্প কারখানায় উৎপাদনেও ধস নেমেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সুপেয় পানির সঙ্কট। নগরীতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে।

গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সরে গেছে, আরেকটি রয়েছে। যেটা রয়ে গেছে, সেটি দিয়ে দুই-তিনদিনের মধ্যে গ্যাস চালু করতে পারব। যেটি খুলে গেছে, সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে ভাসছে ৬২টি জাহাজ। সাগর উত্তাল থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ৮ নম্বর সঙ্কেত জারির পর বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে নিরাপদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লাইটার জাহাজগুলোকেও কর্ণফুলী সেতু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বিপদ সঙ্কেত তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বন্দরের কার্যক্রম চালু করা হবে।

মহানগর ও জেলার উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া লোকজন বাড়ি-ঘরে ফিরেছেন। আবার পাহাড়ের পাদদেশে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরানো অব্যাহত আছে। নগরীর মতিঝর্ণা-বাটালি হিল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে গতকাল ১০০টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারির পর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

গ্যাস বন্ধে সর্বত্র বিপর্যয়

আপডেট সময় ০৪:০৬:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সর্বত্র জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গ্যাস বন্ধের সাথেই বিদ্যুৎ ও পানি সঙ্কট চরম আকার নিয়েছে। যানবাহন ও কল-কারখানায় উৎপাদনের চাকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। থমকে গেছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বর্হিনোঙরে পণ্য ওঠানো-নামানো ও খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, লেনদেন প্রায় অচল। স্বাভাবিক হয়নি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের কার্যক্রম। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া লোকজন বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেত ঘোষণার পর গত শুক্রবার রাত থেকে জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়িতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে বন্দরনগরীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাসের অভাবে গত দুই দিন বাসা-বাড়ি, হোটেল-রেস্তোঁরায় চুলা জ্বলছেই না। কিছু হোটেল রেস্তোঁরা, বেকারি সীমিত আকারে চালু থাকলেও সেখানে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। খাবার নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি অবস্থা। রান্না করতে না পারায় লোকজন শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

গ্যাস সঙ্কটের কারণে বৈদ্যুতিক ও কেরোসিনের চুলা এবং এলপি গ্যাস কেনার হিড়িক পড়ে। এই সুযোগে এসব জিনিসের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দেখা দিয়েছে কেরোসিনের সঙ্কট। অনেকে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ির ছাদে লাকড়ি দিয়ে রান্না-বান্না সারেন। অনেকে খাবারের খোঁজে ছুটেন হোটেল রেস্তোঁরা ও বেকারিতে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত খাবার নেই। কোন কোন হোটেল-রেস্তোঁরায় লাকড়ির চুলা ও বোতলজাত গ্যাস দিয়ে কিছু খাবার তৈরী করলেও নিমিষে তা ফুরিয়ে যায়। সকালেই শেষ হয়ে যায় বেকারির পাউরুটি। অনেকে খাবার না পেয়ে খালি হাতে ফিরেন।

গ্যাসের অভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ঘুরছে না সিএনজি চালিত যানবাহন। রাস্তায় গণপরিবহনের সঙ্কট চরমে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কিছু কল-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা খোলা ছিল। এতে রাস্তায় নেমে লোকজনকে যানবাহন সঙ্কটের কারণে দুর্ভোগে পড়তে হয়। মহানগরীর বেশিরভাগ সড়ক ছিল ফাঁকা। হাতে গোনা কিছু যানবাহন চলেছে নগরীতে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে বিদ্যুৎ সঙ্কট। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্প কারখানায় উৎপাদনেও ধস নেমেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সুপেয় পানির সঙ্কট। নগরীতে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের জন্য হাহাকার চলছে।

গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল সরে গেছে, আরেকটি রয়েছে। যেটা রয়ে গেছে, সেটি দিয়ে দুই-তিনদিনের মধ্যে গ্যাস চালু করতে পারব। যেটি খুলে গেছে, সেটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১২ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে ভাসছে ৬২টি জাহাজ। সাগর উত্তাল থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। ৮ নম্বর সঙ্কেত জারির পর বন্দরের জেটিতে থাকা জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে নিরাপদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লাইটার জাহাজগুলোকেও কর্ণফুলী সেতু এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, বিপদ সঙ্কেত তুলে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে বন্দরের কার্যক্রম চালু করা হবে।

মহানগর ও জেলার উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া লোকজন বাড়ি-ঘরে ফিরেছেন। আবার পাহাড়ের পাদদেশে থাকা লোকজনকে নিরাপদে সরানো অব্যাহত আছে। নগরীর মতিঝর্ণা-বাটালি হিল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে গতকাল ১০০টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের সতর্কতা জারির পর থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়।