ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোলযোগ তো আপনারা করছেন, আইজিপিকে মির্জা ফখরুল

পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইজিপি বলেছেন— ‘নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের গোলযোগ বরদাস্ত করা হবে না।’ গোলযোগ কোথায় দেখছেন? গোলযোগ তো আপনারা সৃষ্টি করছেন। আজকে খুলনায় শ্রমিক দলের শান্তিপূর্ণ র‌্যালিতে হামলা করে পণ্ড করে দিয়েছেন। সেখান থেকে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সোমবার (১ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অস্থায়ী মঞ্চে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মহান শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে এই সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক দল।বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার সেই পুরোনো খেলা শুরু হয়েছে। আবার তারা সেই পুরানো কায়দায় আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। ভোটার যেন ভোট দিতে না পারে, ভোট চুরি করে তারা যেন ক্ষমতায় আসতে পারে এবং আবার যেন ক্ষমতা দখল করতে পারে সেজন্য এখন থেকে হুমকি দিয়ে জনগণকে ভয় দেখাতে চায়।’

রাজধানীর বাইরে মানুষ যথাযথভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলন, ‘তারা ঢাকায় কিছু বিদ্যুৎ দেয়, যাতে মানুষ রাস্তায় না নামে। ঢাকার বাইরে কোনো বিদ্যুৎ নেই, শুধু লোডশেডিং আর লোডশেডিং। অথচ তারা সবসময় বলছে— বিদ্যুৎ উৎপাদন সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে। এত বাড়িয়েছে যে, তাদের দলের লোকেরা সংসদীয় কমিটিতে বলছে, এত বিদ্যুৎ উৎপাদের প্রয়োজন ছিল না, কারণ এখন তা দিতে পারছে না। বেশি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে তারা চুরি ও দুর্নীতি করেছে।’

‘আজকে আবার নতুন খবর এসেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা এভাবে লুট করেছে। সমস্ত অর্থনীতিতে লুটেরাদের রাজত্ব কায়েম করেছে।’ সভ্যতার প্রধান কারিগর শ্রমজীবী মানুষেরা বাংলাদেশে আজ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘তারা সবচেয়ে বেশি শোষিত। তারা দুইবেলা ঠিকমতো খেতে পায় না। কারণ চাল, ডাল ও লবণসহ প্রতিটি জিনিসের দাম যে হারে বেড়েছে, তা তাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলসহ আমাদের কয়েক নেতা বিশেষ আমন্ত্রণে কয়েকজন বিদেশির বাসায় গিয়েছিলে। অথচ তারা (সরকার) বলছে— বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই— ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আজকে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদি সাহস থাকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন। বলছেন তো জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। তাহলে এতো ভয় কেন?’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু ও আহমেদ আজম খান।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

গোলযোগ তো আপনারা করছেন, আইজিপিকে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০১:২০:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মে ২০২৩

পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইজিপি বলেছেন— ‘নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের গোলযোগ বরদাস্ত করা হবে না।’ গোলযোগ কোথায় দেখছেন? গোলযোগ তো আপনারা সৃষ্টি করছেন। আজকে খুলনায় শ্রমিক দলের শান্তিপূর্ণ র‌্যালিতে হামলা করে পণ্ড করে দিয়েছেন। সেখান থেকে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সোমবার (১ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অস্থায়ী মঞ্চে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মহান শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে এই সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক দল।বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আবার সেই পুরোনো খেলা শুরু হয়েছে। আবার তারা সেই পুরানো কায়দায় আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। ভোটার যেন ভোট দিতে না পারে, ভোট চুরি করে তারা যেন ক্ষমতায় আসতে পারে এবং আবার যেন ক্ষমতা দখল করতে পারে সেজন্য এখন থেকে হুমকি দিয়ে জনগণকে ভয় দেখাতে চায়।’

রাজধানীর বাইরে মানুষ যথাযথভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলন, ‘তারা ঢাকায় কিছু বিদ্যুৎ দেয়, যাতে মানুষ রাস্তায় না নামে। ঢাকার বাইরে কোনো বিদ্যুৎ নেই, শুধু লোডশেডিং আর লোডশেডিং। অথচ তারা সবসময় বলছে— বিদ্যুৎ উৎপাদন সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে। এত বাড়িয়েছে যে, তাদের দলের লোকেরা সংসদীয় কমিটিতে বলছে, এত বিদ্যুৎ উৎপাদের প্রয়োজন ছিল না, কারণ এখন তা দিতে পারছে না। বেশি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে তারা চুরি ও দুর্নীতি করেছে।’

‘আজকে আবার নতুন খবর এসেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারা এভাবে লুট করেছে। সমস্ত অর্থনীতিতে লুটেরাদের রাজত্ব কায়েম করেছে।’ সভ্যতার প্রধান কারিগর শ্রমজীবী মানুষেরা বাংলাদেশে আজ সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘তারা সবচেয়ে বেশি শোষিত। তারা দুইবেলা ঠিকমতো খেতে পায় না। কারণ চাল, ডাল ও লবণসহ প্রতিটি জিনিসের দাম যে হারে বেড়েছে, তা তাদের পক্ষে কেনা সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলসহ আমাদের কয়েক নেতা বিশেষ আমন্ত্রণে কয়েকজন বিদেশির বাসায় গিয়েছিলে। অথচ তারা (সরকার) বলছে— বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিচ্ছে। আমরা বলতে চাই— ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আজকে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদি সাহস থাকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেন। বলছেন তো জনগণ আপনাদের সঙ্গে আছে। তাহলে এতো ভয় কেন?’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু ও আহমেদ আজম খান।