ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরের কথা বিশ্বাস করার প্রশ্নই উঠে না: মির্জা ফখরুল

সরকারবিরোধীদের মাঠছাড়া করে আওয়ামী লীগ আবারও নীলনকশার নির্বাচনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে। যেভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল পক্ষে নিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় বিরোধী দলগুলোকে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার জন্য এখন থেকেই কারচুপির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৮-এর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এবার তারা অনেক আগে থেকেই তৎপর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবার কোনো নীলনকশাই কাজ হবে না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারণ, এবার জনগণ ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমেছে। জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৭ জন মানুষ রাজপথের এই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলন আরও বেগবান হবে, আরও তীব্র হবে। এর মধ্য দিয়েই সরকার বাধ্য হবে জনগণের দাবি মেনে নিতে।’

শিগগিরই নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আন্দোলন একটা ওয়েবের মতো। এটা কখনো ওঠে, কখনো নামে। সেটা জনগণের সব পরিপ্রেক্ষিত বুঝে নিয়ে আন্দোলনটা করতে হয়। যেমন রোজার মাসেও কর্মসূচি দিয়েছি। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন হয়েছে, পদযাত্রা হয়েছে, সমাবেশ হয়েছে। এখন যারা আন্দোলনের অংশীদার আছেন, শরিক দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছি। খুব শিগগিরই নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

পুরোনো মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে তালিকা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে তাই না। যেসব মিথ্যা মামলা অতীতে দিয়েছিল, এর চূড়ান্তভাবে রায় দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটা তালিকা প্রস্তুত করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৩টির অধিক মামলা করেছে এই অবৈধ সরকার। আসামির সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮১-এর অধিক। এর মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২৮৩০-এর অধিক মামলা রয়েছে। ঢাকায়ই বিরোধী মতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ১৫শ মামলা আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বিশ্বাস করে আমরা তার সঙ্গে সংলাপে বসেছিলাম। সে সংলাপে যেসব কথা তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলোর একটাও রক্ষা করেননি। সুতরাং ওবায়দুল কাদেরের কথায় আস্থা রাখা, বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এটা আরেকটি চক্রান্ত। তারা বলবে যে এই তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ওরা শুনছে না, যাচ্ছে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। একতরফা বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তফশিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন করছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। সেজন্য এই সংসদ ভেঙে দিয়ে অবৈধ সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই জনগণের মনোভাব বুঝে বিএনপির ঘোষিত ১০ দফা মেনে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় রাজপথে এই দাবির ফয়সালা হবে।’

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে সোমবার বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো নালিশ করি না, কাউকে কিছু বলতে যাই না। এটা মনে রাখতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি যেসব মিশন আছে অথবা যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে রুটিন আলোচনা হয়, সেই আলোচনা হয়েছে।’

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ওবায়দুল কাদেরের কথা বিশ্বাস করার প্রশ্নই উঠে না: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ০৩:৫৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

সরকারবিরোধীদের মাঠছাড়া করে আওয়ামী লীগ আবারও নীলনকশার নির্বাচনের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পুরোনো খেলায় মেতে উঠেছে। যেভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল পক্ষে নিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় বিরোধী দলগুলোকে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার জন্য এখন থেকেই কারচুপির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ২০১৮-এর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এবার তারা অনেক আগে থেকেই তৎপর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবার কোনো নীলনকশাই কাজ হবে না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারণ, এবার জনগণ ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমেছে। জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ১৭ জন মানুষ রাজপথের এই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছে। অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলন আরও বেগবান হবে, আরও তীব্র হবে। এর মধ্য দিয়েই সরকার বাধ্য হবে জনগণের দাবি মেনে নিতে।’

শিগগিরই নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আন্দোলন একটা ওয়েবের মতো। এটা কখনো ওঠে, কখনো নামে। সেটা জনগণের সব পরিপ্রেক্ষিত বুঝে নিয়ে আন্দোলনটা করতে হয়। যেমন রোজার মাসেও কর্মসূচি দিয়েছি। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন হয়েছে, পদযাত্রা হয়েছে, সমাবেশ হয়েছে। এখন যারা আন্দোলনের অংশীদার আছেন, শরিক দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছি। খুব শিগগিরই নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

পুরোনো মামলার চূড়ান্ত রায় দিতে তালিকা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে তাই না। যেসব মিথ্যা মামলা অতীতে দিয়েছিল, এর চূড়ান্তভাবে রায় দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটা তালিকা প্রস্তুত করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৩টির অধিক মামলা করেছে এই অবৈধ সরকার। আসামির সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮১-এর অধিক। এর মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে ২৮৩০-এর অধিক মামলা রয়েছে। ঢাকায়ই বিরোধী মতের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে ১৫শ মামলা আছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানানোর ইঙ্গিতের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বিশ্বাস করে আমরা তার সঙ্গে সংলাপে বসেছিলাম। সে সংলাপে যেসব কথা তিনি দিয়েছিলেন, সেগুলোর একটাও রক্ষা করেননি। সুতরাং ওবায়দুল কাদেরের কথায় আস্থা রাখা, বিশ্বাস করার প্রশ্নই ওঠে না। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এটা আরেকটি চক্রান্ত। তারা বলবে যে এই তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ওরা শুনছে না, যাচ্ছে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন না করলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। একতরফা বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তফশিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন করছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে না। সেজন্য এই সংসদ ভেঙে দিয়ে অবৈধ সরকার পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই জনগণের মনোভাব বুঝে বিএনপির ঘোষিত ১০ দফা মেনে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় রাজপথে এই দাবির ফয়সালা হবে।’

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে সোমবার বিএনপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো নালিশ করি না, কাউকে কিছু বলতে যাই না। এটা মনে রাখতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশি যেসব মিশন আছে অথবা যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে রুটিন আলোচনা হয়, সেই আলোচনা হয়েছে।’