ঢাকা , শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের ক্ষমতা খর্ব করলেন হাইকোর্ট

উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এখন থেকে ইউএনও’র দায়িত্ব কেবল উপজেলা চেয়ারম্যানের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করা। উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত বিধান (উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা) হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়ার ফলে ইউএনওদের এখতিয়ার ও ক্ষমতা খর্ব হলো।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর ইউএনওদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। সরকারপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী।
উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং তিনি পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। (২) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং বিধি মাধ্যমে নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলী পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পাদন করবেন।

ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম বলেন, উপজেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা সাংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে ৩৩ ধারা বাতিল করেছেন আদালত।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা কেন বাতিল করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মো: কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকী উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিনা পারভীন, কালিয়াকৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আক্তার ২০২০ সালে ৭ ডিসেম্বর এ রিট করেন।

এদিকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ধারা ১৩ (ক) ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ রুল জারি করেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

২০২১ সালের ১৫ জুন উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেয়ার বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল আজিজসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান এ রিট দায়ের করেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

উপজেলা পরিষদে ইউএনওদের ক্ষমতা খর্ব করলেন হাইকোর্ট

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০২৩

উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এখন থেকে ইউএনও’র দায়িত্ব কেবল উপজেলা চেয়ারম্যানের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করা। উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত বিধান (উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা) হাইকোর্ট বাতিল করে দেয়ার ফলে ইউএনওদের এখতিয়ার ও ক্ষমতা খর্ব হলো।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের ওপর ইউএনওদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। সরকারপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী।
উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ (১) ধারায় বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হবেন এবং তিনি পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। (২) পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিপালন এবং বিধি মাধ্যমে নির্ধারিত অন্যান্য কার্যাবলী পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্পাদন করবেন।

ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম বলেন, উপজেলা পরিষদে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা সাংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে ৩৩ ধারা বাতিল করেছেন আদালত।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ সংক্রান্ত উপজেলা পরিষদ আইনের ৩৩ ধারা কেন বাতিল করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেন আদালত। বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি মো: কামরুল হোসেন মোল্লার ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকী উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোহরদী উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিনা পারভীন, কালিয়াকৈর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আক্তার ২০২০ সালে ৭ ডিসেম্বর এ রিট করেন।

এদিকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরিষদ আইন ১৯৯৮ এর ধারা ১৩ (ক) ১৩ (খ) ও ১৩ (গ) কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ রুল জারি করেন। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

২০২১ সালের ১৫ জুন উপজেলা চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা খর্ব করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ক্ষমতা দেয়ার বৈধতা নিয়ে রিট করা হয়। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আব্দুল আজিজসহ তিনজন উপজেলা চেয়ারম্যান এ রিট দায়ের করেন।