ঢাকা , শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের বলি সিলেটের মোগল পুরাকীর্তি ‘দেওয়ানের পুল’

একে একে উন্নয়নের বলি হচ্ছে সিলেটের সব পুরাকীর্তি। এবার বুলডোজারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলো ‘দেওয়ানের পুল’।
প্রায় তিন শতবর্ষী পুলটি নির্মিত হয়েছিল মোঘল শাসনামলে। সেটি ভেঙে এখন নতুন করে নির্মিত হতে যাচ্ছে আরসিসি ঢালাই সেতু।
এরইমধ্যে সেতুটি বুলডোজার দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। এ ঘটনায় করায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠেছে প্রত্মতত্ত¡বিদ ও সচেতন মহল। তাদের মতে, প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শনগুলো উন্নয়নের নামে একে একে বিলীন করে দেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ওঠায় ‘দেওয়ানের পুল’ ভাঙা সাময়িক বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ল²ীপাশা ইউনিয়নে মোগল শাসনামলের প্রতœতত্ত¡ নিদর্শন ‘দেওয়ানের পুল’। মোগল আমল থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে দেওয়ানের পুল।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, উপজেলার বারকোট গ্রামের শেষের সীমানায় মুঘল শাসনামলে সম্রাট মুহম্মদ শাহ’র (১৭১৯-৪৮) রাজত্বকালে আনুমানিক ১৭৪০ সালে অল্পকালের জন্য সিলেটের দেওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা) নিযুক্ত হয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে সিলেট আসেন গোলাব রাম (মতান্তরে গোলাব রায়)। এ সময় সিলেট অঞ্চলের ফৌজদার ছিলেন সমসের খান এবং সারা বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন সুজা উদ্দিন খান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ধর্মপ্রাণ দেওয়ান গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি সম্পর্কে অবগত হন। দেওয়ানের নির্দেশে সিলেট থেকে ঢাকা দক্ষিণ পর্যন্ত সড়ক ও সেতু নির্মিত হয়। এ সড়ক পথে ঢাকাদক্ষিণ এসে দেওয়ান শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমিতে এক মন্দির স্থাপন করেন, এর সামনে এক দীঘি খনন করান। হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণগামী সড়কটি আজো দেওয়ান সড়ক নামে পরিচিত। এ সড়কে দেওয়ানের পুল নামে একটি প্রাচীন কালভার্ট আজও বর্তমান। ধারণা করা হয় এই দেওয়ানের নামানুসারেই ‘দেওয়ানের পুল’ নামকরণ করা হয়। প্রাচীন দলিল ও রেকর্ডপত্রে তারই সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু কালের সাক্ষী দেওয়ানের পুল এখন উন্নয়নের বলি।
মোঘল স্থাপত্যের প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন ‘দেওয়ানের পুল’ ভেঙে ফেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল কাদের তফাদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ভাবতেই খারাপ লাগছে রাস্তা সংস্কারের জন্য নাকি এই পুলটি ভেঙে বড় করা হবে। মোগল আমল থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে দেওয়ানের পুল। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটাকে না ভেঙে যদি সংস্কার করা যেতো, তাহলে মঙ্গলকর হত। কেননা মুঘল শাসনামলের নিদর্শন এখন পাওয়া খুবই দুষ্কর। কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে গেলো ঐতিহাসিক নিদর্শন।
হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল’র প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল হাই আল হাদী বাংলানিউজকে বলেন, ১৯৬১ সালের পুরাকীর্তি আইন অনুসারে প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শন রক্ষার কথা বলা হয়েছে। অথচ উন্নয়নের নামে এসব পুরাকীর্তি বলি হচ্ছে। এর আগেও শতবর্ষী সিলেটে আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে ফেলা হয়েছে। সবশেষ বলি মোগল আমলে নির্মিত দেওয়ান পুল।
তিনি বলেন, প্রত্মতত্ত¡ বিভাগকে জাতীয়ভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে সিলেটে এর একটি শাখা করে পুরাকীর্তিগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো।
সিলেটের প্রাচীতম দৈনিক যুগভেরী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্ম্মা বাংলানিউজকে বলেন, এ এলাকায় মোগল আমলের পুরাকীর্তি আর একটাও খোঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ উন্নয়নের নামে সেতুটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এটি প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শন। সেতুটি না ভেঙে দর্শনীয় করে রাখা যেতো। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার বলি হলো মোগল আমলের বিরল নিদর্শন সেতুটি।
স্থানীয়রা বলেন, রেকর্ড অনুযায়ী, হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণগামী সড়কটি আজও দেওয়ানের সড়ক নামে পরিচিত। এই সড়কে দেওয়ানের পুলটি গোলাপগঞ্জবাসীর কাছে মুঘল স্থাপত্য রীতির একটি নিদর্শন। প্রাচীন দলিল ও রেকর্ডপত্রে তারই সাক্ষ্য বহন করে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, দেওয়ানের পুলটি খুবই পুরাতন। এটি চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। তবে সড়কের উন্নয়নের জন্য দেওয়ানের পুলটি ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে। ’এরইমধ্যে সেতুটি ভেঙে অন্য একটি সেতু করার টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন ডিসি গার্ডার দিয়ে ১৮ ফুট ও ২৪ ফুটের সেতু নির্মিত হবে। ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মাসে এটি ভেঙে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ওই সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। গম্বুজ আকৃতির হওয়াতে এপাশ থেকে ওপাশ দেখা যায় না। ফলে মোটরসাইকেল আরোহিরা দুর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন করে সেতুটি নির্মাণ হলে সিলেটের হেতিমগঞ্জ থেকে বড়লেখা দূরত্ব কমে আসবে। এছাড়া সিলেট—জকিগঞ্জের বিকল্প সড়ক হিসেবে সেতুটি ব্যবহৃত হবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ দেওয়ানের পুল ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এর অবকাঠামো ঠিক রাখা হবে না।
দেওয়ানের পুলটি জায়গায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কিনা, কিন্তু কারিগরি কমিটি ব্রিজটি বেশ পর্যবেক্ষণ করে বলেছে এটা রাখলেও টিকবে না। যে কারণে পুলটি ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবীর এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, দেওয়ানের পুলটি ভেঙে নতুন করে করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে অবগত আছেন। এটি স্থিত রেখে আরেকটি ব্রিজ করলে টেকনিক্যাল রিঅ্যাকশন হবে। তাতে ওই খালের পানি প্রবাহ ব্যহত হবে। তাই জনস্বার্থে সেতুটি নতুন করে নির্মিত হচ্ছে। তাতে করে ওই অঞ্চলের জনসাধারণ উপকৃত হবে। পাশাপাশি বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও জকিগঞ্জের বিকল্প রাস্তা হিসেবে দূরত্বও কমে আসবে। তাছাড়া নদীর উপর কোনো পুরকীর্তি রাখা যায় না। সেটি অন্য অবকাঠামো হলে বিকল্প চিন্তা করা যেতো।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়নের বলি সিলেটের মোগল পুরাকীর্তি ‘দেওয়ানের পুল’

আপডেট সময় ০৪:২৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

একে একে উন্নয়নের বলি হচ্ছে সিলেটের সব পুরাকীর্তি। এবার বুলডোজারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলো ‘দেওয়ানের পুল’।
প্রায় তিন শতবর্ষী পুলটি নির্মিত হয়েছিল মোঘল শাসনামলে। সেটি ভেঙে এখন নতুন করে নির্মিত হতে যাচ্ছে আরসিসি ঢালাই সেতু।
এরইমধ্যে সেতুটি বুলডোজার দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। এ ঘটনায় করায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠেছে প্রত্মতত্ত¡বিদ ও সচেতন মহল। তাদের মতে, প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শনগুলো উন্নয়নের নামে একে একে বিলীন করে দেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ওঠায় ‘দেওয়ানের পুল’ ভাঙা সাময়িক বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ল²ীপাশা ইউনিয়নে মোগল শাসনামলের প্রতœতত্ত¡ নিদর্শন ‘দেওয়ানের পুল’। মোগল আমল থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে দেওয়ানের পুল।
ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, উপজেলার বারকোট গ্রামের শেষের সীমানায় মুঘল শাসনামলে সম্রাট মুহম্মদ শাহ’র (১৭১৯-৪৮) রাজত্বকালে আনুমানিক ১৭৪০ সালে অল্পকালের জন্য সিলেটের দেওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা) নিযুক্ত হয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে সিলেট আসেন গোলাব রাম (মতান্তরে গোলাব রায়)। এ সময় সিলেট অঞ্চলের ফৌজদার ছিলেন সমসের খান এবং সারা বাংলার শাসনকর্তা ছিলেন সুজা উদ্দিন খান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ধর্মপ্রাণ দেওয়ান গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণে শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমি সম্পর্কে অবগত হন। দেওয়ানের নির্দেশে সিলেট থেকে ঢাকা দক্ষিণ পর্যন্ত সড়ক ও সেতু নির্মিত হয়। এ সড়ক পথে ঢাকাদক্ষিণ এসে দেওয়ান শ্রী চৈতন্যের পিতৃভূমিতে এক মন্দির স্থাপন করেন, এর সামনে এক দীঘি খনন করান। হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণগামী সড়কটি আজো দেওয়ান সড়ক নামে পরিচিত। এ সড়কে দেওয়ানের পুল নামে একটি প্রাচীন কালভার্ট আজও বর্তমান। ধারণা করা হয় এই দেওয়ানের নামানুসারেই ‘দেওয়ানের পুল’ নামকরণ করা হয়। প্রাচীন দলিল ও রেকর্ডপত্রে তারই সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু কালের সাক্ষী দেওয়ানের পুল এখন উন্নয়নের বলি।
মোঘল স্থাপত্যের প্রতœতাত্তি¡ক নিদর্শন ‘দেওয়ানের পুল’ ভেঙে ফেলায় স্থানীয় ঐতিহ্য সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল কাদের তফাদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ভাবতেই খারাপ লাগছে রাস্তা সংস্কারের জন্য নাকি এই পুলটি ভেঙে বড় করা হবে। মোগল আমল থেকে আজ পর্যন্ত উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে আছে দেওয়ানের পুল। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটাকে না ভেঙে যদি সংস্কার করা যেতো, তাহলে মঙ্গলকর হত। কেননা মুঘল শাসনামলের নিদর্শন এখন পাওয়া খুবই দুষ্কর। কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে গেলো ঐতিহাসিক নিদর্শন।
হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল’র প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল হাই আল হাদী বাংলানিউজকে বলেন, ১৯৬১ সালের পুরাকীর্তি আইন অনুসারে প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শন রক্ষার কথা বলা হয়েছে। অথচ উন্নয়নের নামে এসব পুরাকীর্তি বলি হচ্ছে। এর আগেও শতবর্ষী সিলেটে আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে ফেলা হয়েছে। সবশেষ বলি মোগল আমলে নির্মিত দেওয়ান পুল।
তিনি বলেন, প্রত্মতত্ত¡ বিভাগকে জাতীয়ভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে সিলেটে এর একটি শাখা করে পুরাকীর্তিগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো।
সিলেটের প্রাচীতম দৈনিক যুগভেরী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক অপূর্ব শর্ম্মা বাংলানিউজকে বলেন, এ এলাকায় মোগল আমলের পুরাকীর্তি আর একটাও খোঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ উন্নয়নের নামে সেতুটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এটি প্রত্মতাত্তি¡ক নিদর্শন। সেতুটি না ভেঙে দর্শনীয় করে রাখা যেতো। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার বলি হলো মোগল আমলের বিরল নিদর্শন সেতুটি।
স্থানীয়রা বলেন, রেকর্ড অনুযায়ী, হেতিমগঞ্জ থেকে ঢাকাদক্ষিণগামী সড়কটি আজও দেওয়ানের সড়ক নামে পরিচিত। এই সড়কে দেওয়ানের পুলটি গোলাপগঞ্জবাসীর কাছে মুঘল স্থাপত্য রীতির একটি নিদর্শন। প্রাচীন দলিল ও রেকর্ডপত্রে তারই সাক্ষ্য বহন করে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, দেওয়ানের পুলটি খুবই পুরাতন। এটি চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। তবে সড়কের উন্নয়নের জন্য দেওয়ানের পুলটি ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে। ’এরইমধ্যে সেতুটি ভেঙে অন্য একটি সেতু করার টেন্ডার হয়ে গেছে। এখন ডিসি গার্ডার দিয়ে ১৮ ফুট ও ২৪ ফুটের সেতু নির্মিত হবে। ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মাসে এটি ভেঙে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ওই সেতুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। গম্বুজ আকৃতির হওয়াতে এপাশ থেকে ওপাশ দেখা যায় না। ফলে মোটরসাইকেল আরোহিরা দুর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন করে সেতুটি নির্মাণ হলে সিলেটের হেতিমগঞ্জ থেকে বড়লেখা দূরত্ব কমে আসবে। এছাড়া সিলেট—জকিগঞ্জের বিকল্প সড়ক হিসেবে সেতুটি ব্যবহৃত হবে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ দেওয়ানের পুল ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে এর অবকাঠামো ঠিক রাখা হবে না।
দেওয়ানের পুলটি জায়গায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কিনা, কিন্তু কারিগরি কমিটি ব্রিজটি বেশ পর্যবেক্ষণ করে বলেছে এটা রাখলেও টিকবে না। যে কারণে পুলটি ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবীর এ প্রসঙ্গে বাংলানিউজকে বলেন, দেওয়ানের পুলটি ভেঙে নতুন করে করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারাও এ বিষয়ে অবগত আছেন। এটি স্থিত রেখে আরেকটি ব্রিজ করলে টেকনিক্যাল রিঅ্যাকশন হবে। তাতে ওই খালের পানি প্রবাহ ব্যহত হবে। তাই জনস্বার্থে সেতুটি নতুন করে নির্মিত হচ্ছে। তাতে করে ওই অঞ্চলের জনসাধারণ উপকৃত হবে। পাশাপাশি বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও জকিগঞ্জের বিকল্প রাস্তা হিসেবে দূরত্বও কমে আসবে। তাছাড়া নদীর উপর কোনো পুরকীর্তি রাখা যায় না। সেটি অন্য অবকাঠামো হলে বিকল্প চিন্তা করা যেতো।