ঢাকা , বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে জীবিত নেই: মান্না

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে জীবিত নেই মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে।’

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী পদযাত্রার আগের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের পদত্যাগসহ ১৪ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য জানিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না সমাবেশে বলেন, ‘সরকার সিরিয়াল কিলারের মতো ধারাবাহিকভাবে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলছে। আগামীতে আরও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একে তারা বলছে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে জনগণের ওপর যে দুর্ভোগ নেমেছে, তা আরও নামবে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। গত ১৪ বছরে কোনও জিনিসের দাম এই সরকার কমাতে পারেনি। এক মাস আগে থেকে তারা বলছে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দাম বেড়েই চলেছে।’

সমাবেশে মান্না বলেন, ‘আমরা যখন বলেছি দেশ খোকলা হয়ে যাচ্ছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, তখন তারা (সরকার) আমাদের বকাবকি করেছে। জাতীয় সংসদে একদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, কারা কারা টাকা পাচার করেন, তাদের কথা আমি জানি। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি জানেনই, তাহলে ব্যবস্থা নেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) ব্যবস্থা নেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে জিনিসের দাম বাড়ে, টাকা পাচার হয়, ডলারের দাম বেড়ে যায়, টাকার মান কমে যায়, দেশের অর্থনীতি একেবারে ধ্বংসের দোরগোড়ায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীতে নাকি আর কোনও অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। উনি অনির্বাচিত হয়ে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’

গণতন্ত্র মঞ্চ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন, লড়াইটা শেষ হবে কবে? এটা আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। তবে লড়াই শেষ হবে। সেই লড়াইয়ে এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। সে জন্য আমরা আন্দোলন সংগঠিত করছি।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে প্রতিবাদী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে তারা পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত যান।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে জীবিত নেই: মান্না

আপডেট সময় ০৪:১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে জীবিত নেই মন্তব্য করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে।’

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত প্রতিবাদী পদযাত্রার আগের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের পদত্যাগসহ ১৪ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্য জানিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না সমাবেশে বলেন, ‘সরকার সিরিয়াল কিলারের মতো ধারাবাহিকভাবে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলছে। আগামীতে আরও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। একে তারা বলছে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে জনগণের ওপর যে দুর্ভোগ নেমেছে, তা আরও নামবে।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। গত ১৪ বছরে কোনও জিনিসের দাম এই সরকার কমাতে পারেনি। এক মাস আগে থেকে তারা বলছে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দাম বেড়েই চলেছে।’

সমাবেশে মান্না বলেন, ‘আমরা যখন বলেছি দেশ খোকলা হয়ে যাচ্ছে, দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, তখন তারা (সরকার) আমাদের বকাবকি করেছে। জাতীয় সংসদে একদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, কারা কারা টাকা পাচার করেন, তাদের কথা আমি জানি। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) যদি জানেনই, তাহলে ব্যবস্থা নেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) ব্যবস্থা নেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে জিনিসের দাম বাড়ে, টাকা পাচার হয়, ডলারের দাম বেড়ে যায়, টাকার মান কমে যায়, দেশের অর্থনীতি একেবারে ধ্বংসের দোরগোড়ায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীতে নাকি আর কোনও অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। উনি অনির্বাচিত হয়ে আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।’

গণতন্ত্র মঞ্চ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন, লড়াইটা শেষ হবে কবে? এটা আমাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। তবে লড়াই শেষ হবে। সেই লড়াইয়ে এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। সে জন্য আমরা আন্দোলন সংগঠিত করছি।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে প্রতিবাদী পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে তারা পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত যান।