ঢাকা , শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অপরিপক্ক লিচুতে সয়লাব দিনাজপুরের বাজার

জৈষ্ঠ মাসের মধু ফল লিচু বাজারে উঠেছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে পরিপক্ক না হতেই লিচুতে পাক ধরতে শুরু করেছে। পরিপক্ক হওয়ার আগেই আধা পাকা লিচুতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। স্বাদে টক এসব লিচু বিক্রি হচ্ছে গত বারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। কৃষক ও বাগানীরা লিচু ঝড়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ভাগেই এসব লিচু বাজারে নিয়ে আসছে। তবে পরিপক্ক লিচু পেতে হলে আরো অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে পরিপূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার পাশাপাশি ঝড়ে পড়া থেকে লিচু রক্ষায় ভিটামিন প্রয়োগ করছে বাগানীরা। একইসাথে সকালে ও রাতে কোল্ড স্প্রে অর্থাৎ ঠা-া পানি স্প্রে করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আবহাওয়া যদি উত্তপ্ত থাকে তাহলে এবার লিচু’র স্থায়ীত্ত্ব অনেক কম হবে বলে ব্যবসায়ীরা মত প্রকাশ করেছে। লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের হাজার হাজার লিচুর বাগানে আধাপাকা লিচু শোভা পাচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে এবার লিচুর দানা বড় হতে একটু বেশি সময় লাগছে। একটানা তাপপ্রবাহের কারণে এবার লিচুর দানাও অনেক ছোট রয়েছে। দানা পরিপূর্ণ না হতেই অনেক এলাকায় লিচুতে পাক ধরতে শুরু করেছে। আকাশের পানি না থাকা এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে লিচুর গড়া মজবুত হতে পারছে না। ফলে একটু বাতাসেই লিচু ঝড়ে পড়ছে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকার বাগানী আবদুল্লাহ জানান, লিচুর ভালই হয়েছে কিন্তু এই ফলন রক্ষা করাই এখন কষ্টকর হয়ে গেছে। তার মতে অতিরিক্ত তাপের কারণে দানা বড় হতে পারছে না। একই সাথে লিচুতে অকালেই পাক ধরছে। তাই অনেকেই বাধ্য হচ্ছে আধা পাকা লিচু পাড়তে।
লিচুচাষীরা জানান প্রথম পর্যায়ে মাদ্রাজি, বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে এসে থাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার আমাদের গাছে বিষ আর ভিটামিনের পাশাপাশি ঠা-া পানি স্প্রে করতে হচ্ছে। পানি স্প্রে না করলে লিচু অকালেই পেকে যাচ্ছে। অনেক গাছে এখনও লিচুর দানাই পূর্ন হয়নি। কৃষকদের মতে বোম্বে জাতের এসব লিচু বাজারে আসতে আরো এক মাস লেগে যাবে।
দিনাজপুর সদরের বেদেনা লিচুর জন্য বিখ্যাত মাশিমপুরসহ বিস্তির্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেল শত শত লিচুর গাছে এবার ফল আসেনি। মাশিমপুরের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানালেন, এবার মাদ্রাজি লিচুর ফলন অনেক কম। বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচুর ফলন আছে মোটামুটি। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচুর দানা গতবারের চেয়ে অনেক ছোট হয়েছে। তার মতে এখন যদি ঝড় হয় তাহলে কৃষক ও বাগানীরা মারা পড়বে। কারণ অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে লিচুর বোটা অনেক নরম হয়ে আছে। একটু বাতাসেই লিচু ঝড়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক এবার লিচু বাঁচাতে গাছে ঠা-া পানি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া পোকা দমনে স্প্রে করছে বিষ। অবশ্য এসব বিষ ও ভিটামিন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। স্প্রে’র একদিনের মধ্যেই বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায় বলে কৃষকেরা দাবি করেছে।
এদিকে অপরিপক্ক হলেও বাজারে যে লিচু উঠেছে তার দাম গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ। বাজার ঘুরে দেখা গেলো মৌসুমের শুরুতে ছোট ও স্বাদে টক এই লিচুর দাম অনেক কম থাকে। গতবছর এসময়ে মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার প্রতি হাজার। এখন এই লিচু বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার হাজার টাকা। সাইজে ছোট ও অপরিপক্ক বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা প্রতি হাজার। এদিকে প্রতি বছরই দিনাজপুরের লিচুর কদর দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাহির দেশে যাচ্ছে। বর্তমানে লিচু গাছ থেকে পাড়ার পর সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত খাওয়ার উপযুক্ত থাকে।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

অপরিপক্ক লিচুতে সয়লাব দিনাজপুরের বাজার

আপডেট সময় ০৪:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩

জৈষ্ঠ মাসের মধু ফল লিচু বাজারে উঠেছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে পরিপক্ক না হতেই লিচুতে পাক ধরতে শুরু করেছে। পরিপক্ক হওয়ার আগেই আধা পাকা লিচুতে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। স্বাদে টক এসব লিচু বিক্রি হচ্ছে গত বারের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। কৃষক ও বাগানীরা লিচু ঝড়ে পড়ার আশঙ্কায় আগে ভাগেই এসব লিচু বাজারে নিয়ে আসছে। তবে পরিপক্ক লিচু পেতে হলে আরো অন্তত ৫ থেকে ৬ দিন অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে পরিপূর্ণ পরিপক্ক হওয়ার পাশাপাশি ঝড়ে পড়া থেকে লিচু রক্ষায় ভিটামিন প্রয়োগ করছে বাগানীরা। একইসাথে সকালে ও রাতে কোল্ড স্প্রে অর্থাৎ ঠা-া পানি স্প্রে করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আবহাওয়া যদি উত্তপ্ত থাকে তাহলে এবার লিচু’র স্থায়ীত্ত্ব অনেক কম হবে বলে ব্যবসায়ীরা মত প্রকাশ করেছে। লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের হাজার হাজার লিচুর বাগানে আধাপাকা লিচু শোভা পাচ্ছে। বৃষ্টির অভাবে এবার লিচুর দানা বড় হতে একটু বেশি সময় লাগছে। একটানা তাপপ্রবাহের কারণে এবার লিচুর দানাও অনেক ছোট রয়েছে। দানা পরিপূর্ণ না হতেই অনেক এলাকায় লিচুতে পাক ধরতে শুরু করেছে। আকাশের পানি না থাকা এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে লিচুর গড়া মজবুত হতে পারছে না। ফলে একটু বাতাসেই লিচু ঝড়ে পড়ছে।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকার বাগানী আবদুল্লাহ জানান, লিচুর ভালই হয়েছে কিন্তু এই ফলন রক্ষা করাই এখন কষ্টকর হয়ে গেছে। তার মতে অতিরিক্ত তাপের কারণে দানা বড় হতে পারছে না। একই সাথে লিচুতে অকালেই পাক ধরছে। তাই অনেকেই বাধ্য হচ্ছে আধা পাকা লিচু পাড়তে।
লিচুচাষীরা জানান প্রথম পর্যায়ে মাদ্রাজি, বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে এসে থাকে। দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার আমাদের গাছে বিষ আর ভিটামিনের পাশাপাশি ঠা-া পানি স্প্রে করতে হচ্ছে। পানি স্প্রে না করলে লিচু অকালেই পেকে যাচ্ছে। অনেক গাছে এখনও লিচুর দানাই পূর্ন হয়নি। কৃষকদের মতে বোম্বে জাতের এসব লিচু বাজারে আসতে আরো এক মাস লেগে যাবে।
দিনাজপুর সদরের বেদেনা লিচুর জন্য বিখ্যাত মাশিমপুরসহ বিস্তির্ণ এলাকা ঘুরে দেখা গেল শত শত লিচুর গাছে এবার ফল আসেনি। মাশিমপুরের কৃষক মোহাম্মদ আলী জানালেন, এবার মাদ্রাজি লিচুর ফলন অনেক কম। বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচুর ফলন আছে মোটামুটি। কিন্তু অতিরিক্ত গরমে বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচুর দানা গতবারের চেয়ে অনেক ছোট হয়েছে। তার মতে এখন যদি ঝড় হয় তাহলে কৃষক ও বাগানীরা মারা পড়বে। কারণ অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে লিচুর বোটা অনেক নরম হয়ে আছে। একটু বাতাসেই লিচু ঝড়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক এবার লিচু বাঁচাতে গাছে ঠা-া পানি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া পোকা দমনে স্প্রে করছে বিষ। অবশ্য এসব বিষ ও ভিটামিন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। স্প্রে’র একদিনের মধ্যেই বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায় বলে কৃষকেরা দাবি করেছে।
এদিকে অপরিপক্ক হলেও বাজারে যে লিচু উঠেছে তার দাম গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ। বাজার ঘুরে দেখা গেলো মৌসুমের শুরুতে ছোট ও স্বাদে টক এই লিচুর দাম অনেক কম থাকে। গতবছর এসময়ে মাদ্রাজি লিচু বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার প্রতি হাজার। এখন এই লিচু বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চার হাজার হাজার টাকা। সাইজে ছোট ও অপরিপক্ক বেদেনা ও চায়না থ্রি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা প্রতি হাজার। এদিকে প্রতি বছরই দিনাজপুরের লিচুর কদর দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাহির দেশে যাচ্ছে। বর্তমানে লিচু গাছ থেকে পাড়ার পর সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত খাওয়ার উপযুক্ত থাকে।