ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুমিনুলের রানে ফেরার দিনে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

তার জন‌্য শেষ কবে গ‌্যালারিতে সমর্থকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছেন, তা হয়তো নিজেও ভুলে গেছেন। মনে রাখার মতো কিছু করেননি বলেই সমর্থকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন! শেষ ৯ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে না পারায় মুমিনুল হকের পৃথিবীতে আকাশ ভেঙে পড়েছে নিশ্চিতভাবেই। অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। হারিয়েছেন দলে জায়গাও। কালো মেঘে ছেয়ে থাকা সেই আকাশে সূর্য হয়ে উঁকি দিয়েছে ভারতের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট। হঠাৎ পাওয়া সুযোগ দুহাত ভরে নিলেন মুমিনুল।

দুই টেস্ট পর ফিরলেন একাদশে। চেনা সব শটের সঙ্গে দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের চরম প্রদর্শনীতে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেললেন মিরপুরের ২২ গজে। তাতে পড়ন্ত বিকেলে মিরপুরের গ‌্যালারির এক পাশ দাঁড়িয়ে তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে ভুল করেননি সমর্থকরা।

দুটি কারণে মুমিনুলকে দাঁড়িয়ে করতালিতে সম্মান জানিয়েছেন সমর্থকরা। প্রথমত, দারুণভাবে তার ফিরে আসা। দ্বিতীয়ত, সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে বীরত্বের সঙ্গে একা লড়াই করা।

বাংলাদেশের নবম ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে মুমিনুল যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলের পুঁজি ২২৭ রান। ওই রানেই শেষ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় প্রথম ইনিংসে। মুনিুলের ৮৪ বাদে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস নেই একটিও। নেই জুটির পঞ্চাশ রানও। ব‌্যাটিং ব‌্যর্থতার দৈন‌্যতার এমন দিনে তার ইনিংসটিই কেবল ছিল ব‌্যতিক্রম।

অথচ ভালো শুরু এবং থিতু হয়েছিলেন প্রায় প্রত‌্যেকেই। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। পারেননি বলে টস জিতে ব‌্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ২২৭ রানে। শেষ বিকেলে ৮ ওভার ব‌্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৯ রান তুলেছে সফরকারী ভারত। লোকেশ রাহুলের উইকেট হারাতে পারতো তারা। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউর আবদনে সাড়া দেন আম্পায়ার সৈকত। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তাতে স্বস্তি নিয়ে টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত।

মুমিনুলের কারণে দিনটা হতে পারতো বাংলাদেশের। তার সৌরভ ছড়িয়েছিল ২২ গজে। কিন্তু সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে সব পণ্ড। ইয়াসিরের পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে তিনে ব‌্যাটিংয়ে আসেন মুমিনুল। এর আগে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি যুৎসই হয়নি। জাকির ১২ বছর পর দলে ফেরা উনাদকাটের কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে চতুর্থ স্লিপে ক‌্যাচ দেন। শান্ত অশ্বিনের বলে কোনও শট অফার না করে এলবিডব্লিউ হন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটা কঠিন হলেও রিভিউয়েও বাংলাদেশের ভাগ‌্য ফেরেনি।

 

৮২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সেশন শেষ হয়। সাকিব ও মুমিনুল প্রতিরোধ গড়ে সামলে নেন দ্বিতীয় ঘণ্টার ধাক্কা। কিন্তু বিরতির পর সাকিব এসে যা করেছেন তা স্রেফ আত্মাহুতি। লাঞ্চের পর প্রথম বল উমেশকে তুলে মারতে গিয়ে মিড অফে ক‌্যাচ দেন। এরপর মুশফিক ও মুমিনুলের আক্রমণে ভারত কিছুটা ব‌্যাকফুটে চলে যায়। সর্বোচ্চ ৪৮ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। মাঝে এক পর্যায়ে অশ্বিন ও উনাদকাটের ১০ বলে ৬টিই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সুন্দর ও সাজানো জুটি নষ্ট হয়ে যায় মুশফিকের আউটে।

উনাদকাটের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক‌্যাচ দেন মুশফিক (২৬)। লিটন প্রতি আক্রমণে দ্রুত ২৫ রান তুলে নিলেও বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। অশ্বিনের বলে আলগা শটে মিড উইকেটে ক‌্যাচ দেন রাহুলের হাতে। মিরাজকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ে মুমিনুল খোলস থেকে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ব‌্যাটিং করেন। মনেই হচ্ছিল সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে ব‌্যাটিং করছিলেন তিনি। কিন্তু মিরাজ আউট হওয়ার পর সব শেষ। উমেশের বলে মিরাজ ক‌্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। সোহানকেও এলবিডব্লিউ করেন এ পেসার। অপরপ্রান্তে একা হয়ে যান মুমিনুল। কিন্তু শেষে তাকেও হার মানতে হয়। ৮৪ রানে অশ্বিনের বল ছাড়তে গিয়ে বোকা হয়ে যান। তার ক‌্যারাম বল এতটা ভেতরে ঢুকবে তা ভাবেননি। এজন‌্য শট অফার করেননি। কিন্তু বল তার গ্লাভসে চুমু খেয়ে যায় পান্তের হাতে। ১৫৭ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান।

 

শেষ ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে খালেদের উইকেট নিয়ে ৪ উইকেটের স্বাদ পান অশ্বিন। এর আগে উমেশ তুলে নেন ৪ উইকেট।

বোলিংয়ে তাসকিন ও সাকিব ৮ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন। সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন দুজনই। রাহুলের ক‌্যাচের আবেদনে রিভিউ নিয়ে ব‌্যর্থ হয় বাংলাদেশ শিবির। আবার ভারতের অধিনায়ক অনফিল্ডে আউট হয়ে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। আলোর স্বল্পতায় দিনের খেলা ৬ ওভার হয়নি। ফলে আক্রমণ চালানোর আরও সুযোগও পায়নি বাংলাদেশ।

প্রথম দিনের লড়াইয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। আগামীকাল দ্বিতীয় দিন স্বাগতিকরা বোলিং আক্রমণে ম্যাচে ফিরে আসতে পারে কি না সেটাই দেখার।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

মুমিনুলের রানে ফেরার দিনে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৪:১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২২

তার জন‌্য শেষ কবে গ‌্যালারিতে সমর্থকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছেন, তা হয়তো নিজেও ভুলে গেছেন। মনে রাখার মতো কিছু করেননি বলেই সমর্থকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন! শেষ ৯ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে না পারায় মুমিনুল হকের পৃথিবীতে আকাশ ভেঙে পড়েছে নিশ্চিতভাবেই। অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন। হারিয়েছেন দলে জায়গাও। কালো মেঘে ছেয়ে থাকা সেই আকাশে সূর্য হয়ে উঁকি দিয়েছে ভারতের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট। হঠাৎ পাওয়া সুযোগ দুহাত ভরে নিলেন মুমিনুল।

দুই টেস্ট পর ফিরলেন একাদশে। চেনা সব শটের সঙ্গে দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের চরম প্রদর্শনীতে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেললেন মিরপুরের ২২ গজে। তাতে পড়ন্ত বিকেলে মিরপুরের গ‌্যালারির এক পাশ দাঁড়িয়ে তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে ভুল করেননি সমর্থকরা।

দুটি কারণে মুমিনুলকে দাঁড়িয়ে করতালিতে সম্মান জানিয়েছেন সমর্থকরা। প্রথমত, দারুণভাবে তার ফিরে আসা। দ্বিতীয়ত, সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে বীরত্বের সঙ্গে একা লড়াই করা।

বাংলাদেশের নবম ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে মুমিনুল যখন সাজঘরে ফেরেন তখন দলের পুঁজি ২২৭ রান। ওই রানেই শেষ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় প্রথম ইনিংসে। মুনিুলের ৮৪ বাদে ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস নেই একটিও। নেই জুটির পঞ্চাশ রানও। ব‌্যাটিং ব‌্যর্থতার দৈন‌্যতার এমন দিনে তার ইনিংসটিই কেবল ছিল ব‌্যতিক্রম।

অথচ ভালো শুরু এবং থিতু হয়েছিলেন প্রায় প্রত‌্যেকেই। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। পারেননি বলে টস জিতে ব‌্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ২২৭ রানে। শেষ বিকেলে ৮ ওভার ব‌্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১৯ রান তুলেছে সফরকারী ভারত। লোকেশ রাহুলের উইকেট হারাতে পারতো তারা। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউর আবদনে সাড়া দেন আম্পায়ার সৈকত। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। তাতে স্বস্তি নিয়ে টেস্টের প্রথম দিন শেষ করেছে ভারত।

মুমিনুলের কারণে দিনটা হতে পারতো বাংলাদেশের। তার সৌরভ ছড়িয়েছিল ২২ গজে। কিন্তু সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে সব পণ্ড। ইয়াসিরের পরিবর্তে সুযোগ পেয়ে তিনে ব‌্যাটিংয়ে আসেন মুমিনুল। এর আগে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি যুৎসই হয়নি। জাকির ১২ বছর পর দলে ফেরা উনাদকাটের কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে চতুর্থ স্লিপে ক‌্যাচ দেন। শান্ত অশ্বিনের বলে কোনও শট অফার না করে এলবিডব্লিউ হন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটা কঠিন হলেও রিভিউয়েও বাংলাদেশের ভাগ‌্য ফেরেনি।

 

৮২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সেশন শেষ হয়। সাকিব ও মুমিনুল প্রতিরোধ গড়ে সামলে নেন দ্বিতীয় ঘণ্টার ধাক্কা। কিন্তু বিরতির পর সাকিব এসে যা করেছেন তা স্রেফ আত্মাহুতি। লাঞ্চের পর প্রথম বল উমেশকে তুলে মারতে গিয়ে মিড অফে ক‌্যাচ দেন। এরপর মুশফিক ও মুমিনুলের আক্রমণে ভারত কিছুটা ব‌্যাকফুটে চলে যায়। সর্বোচ্চ ৪৮ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। মাঝে এক পর্যায়ে অশ্বিন ও উনাদকাটের ১০ বলে ৬টিই বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সুন্দর ও সাজানো জুটি নষ্ট হয়ে যায় মুশফিকের আউটে।

উনাদকাটের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক‌্যাচ দেন মুশফিক (২৬)। লিটন প্রতি আক্রমণে দ্রুত ২৫ রান তুলে নিলেও বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। অশ্বিনের বলে আলগা শটে মিড উইকেটে ক‌্যাচ দেন রাহুলের হাতে। মিরাজকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ে মুমিনুল খোলস থেকে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক ব‌্যাটিং করেন। মনেই হচ্ছিল সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে ব‌্যাটিং করছিলেন তিনি। কিন্তু মিরাজ আউট হওয়ার পর সব শেষ। উমেশের বলে মিরাজ ক‌্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। সোহানকেও এলবিডব্লিউ করেন এ পেসার। অপরপ্রান্তে একা হয়ে যান মুমিনুল। কিন্তু শেষে তাকেও হার মানতে হয়। ৮৪ রানে অশ্বিনের বল ছাড়তে গিয়ে বোকা হয়ে যান। তার ক‌্যারাম বল এতটা ভেতরে ঢুকবে তা ভাবেননি। এজন‌্য শট অফার করেননি। কিন্তু বল তার গ্লাভসে চুমু খেয়ে যায় পান্তের হাতে। ১৫৭ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৮৪ রান করেন বাঁহাতি ব‌্যাটসম‌্যান।

 

শেষ ব‌্যাটসম‌্যান হিসেবে খালেদের উইকেট নিয়ে ৪ উইকেটের স্বাদ পান অশ্বিন। এর আগে উমেশ তুলে নেন ৪ উইকেট।

বোলিংয়ে তাসকিন ও সাকিব ৮ ওভার হাত ঘুরিয়েছেন। সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন দুজনই। রাহুলের ক‌্যাচের আবেদনে রিভিউ নিয়ে ব‌্যর্থ হয় বাংলাদেশ শিবির। আবার ভারতের অধিনায়ক অনফিল্ডে আউট হয়ে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। আলোর স্বল্পতায় দিনের খেলা ৬ ওভার হয়নি। ফলে আক্রমণ চালানোর আরও সুযোগও পায়নি বাংলাদেশ।

প্রথম দিনের লড়াইয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। আগামীকাল দ্বিতীয় দিন স্বাগতিকরা বোলিং আক্রমণে ম্যাচে ফিরে আসতে পারে কি না সেটাই দেখার।