ঢাকা , রবিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রাবতীর বাড়িতে একদিন

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নারী কবি চন্দ্রাবতী। রহস্যঘেরা তার জীবনের গল্প। এই কবি জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারি গ্রামে। চন্দ্রাবতীর জন্ম সুলচনা দেবী এবং দ্বিজ বংশীদাসের ঘরে।

শৈশবে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন জয়ানন্দকে। এক সময় তাকেই ভালোবেসেছিলেন। পেয়েছিলেন একসঙ্গে ঘর বাঁধার প্রতিশ্রুতি। চন্দ্রাবতীর পিতাও তার এই চাওয়া মেনে নিয়ে বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন। বধূ সেজেছিলেন চন্দ্রাবতী। কিন্তু হায়, জয়ানন্দ সেদিন আসেনি। সে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম এক নারীকে বিয়ে করে নিয়েছিলেন।

চন্দ্রবতীর দুঃখ সেদিন ফুলেশ্বরী নদীর উজান, ভাটির মতো প্রবাহিত হয়েছিল। কে জানতো এই নদীতেই একদিন ভেসে থাকবে জয়ানন্দের মৃতদেহ। জয়ানন্দ অন্য নারীকে জীবনসঙ্গী করার পরে কবি কন্যা চন্দ্রাবতী পিতার কাছে নিজের দুইটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কন্যার ইচ্ছানুযায়ী শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দিলেন দ্বিজ বংশীদাস। অনুমতি দিয়েছিলেন কন্যাকে চিরকুমারী থাকার জন্যও। তবে উৎসাহিত করেছিলেন সাহিত্য রচনার জন্য।

 

পিতার প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে ধ্যানে মগ্ন হতেন প্রেম প্রত্যাখ্যাত হৃদয়ের এই রহস্যময়ী নারী চন্দ্রাবতী। একে একে রচনা করলেন রামায়ন, মলুয়া এবং দস্যু কেনারামের পালা। ফুলেশ্বরী নদী এখন মৃত! চন্দ্রাবতীর বাড়িটি জরাজীর্ণ। মন্দির দুটিও ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু চন্দ্রাবতীর দুঃখ, দীর্ঘশ্বাসের আর বাংলা সাহিত্যের সার্থক নারীর সৃজনশীলতার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে সেই শিবমন্দির। চন্দ্রাবতীর বাড়ি থেকে সামান্য দূরে এর অবস্থান। চন্দ্রাবতীর বাড়ি, বাড়ির উঠান, শিব মন্দির, বাড়ি ঘেঁষা পুকুর এই সবকিছু চন্দ্রাবতীর দুঃখের কথা বলে, তার শক্তিমত্তা, সৃজনশীলতা আর আত্মমর্যাদার কথা বলে। এই সব কিছু সাক্ষ্য দেয়, জয়ানন্দ একদিন ফিরে এসে ডেকেছিল চন্দ্রাবতীকে কিন্তু চন্দ্রাবতী শিবের আরাধনায় মগ্ন ছিলেন। ধ্যান ভেঙ্গে জয়ানন্দের ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

জয়ানন্দ একদিন যাকে অপমানের অতলে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন, সেই চন্দ্রবতীর সাড়া না পেয়ে ফুলেশ্বরী নদীতে ডুবে মরেন জয়ানন্দ। কথিত আছে, প্রেমিকের লাশ ফুলেশ্বরীর জলে ভাসতে দেখে নিজেও আত্মহুতি দিয়েছিলেন চন্দ্রাবতী।

চন্দ্রাবতীর বাড়িটি যেন সেই দুঃখ বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটি কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। একদিন চলে গেলাম সেই বাড়ির খোঁজে। এ বছর গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই বৃষ্টিপাতের একটা রেশ দেখেছি। রাস্তার দুই ধারে যত পানি থাকার কথা তার থেকে অনেক বেশি পানি ছিল। পানি বেশি থাকায় ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। দেখলাম স্থানীয়রা মাছ ধরায় ব্যস্ত। ডুবে যাওয়া ফসলের মাঠে যেন মাছ ধরার উৎসব লেগেছে। পথে যেতে যেতে এই সব দৃশ্য দেখছিলাম। রাস্তাটি একটু ভাঙা আর সরু কিন্তু প্রকৃতি তাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়ে সাজিয়ে রেখেছিল। দুপাশের সবুজ ঘেরা পরিবেশ। এই পথ দিয়ে আসার কথা ছিল না কিছুটা ভুল করেই এই রাস্তা দিয়ে এগোতে থাকলাম। সেই ভুলের কারণেই যেতে যেতে দেখা হলো নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের নীলগঞ্জ শুটিং প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা গেছে সেই রাস্তা ধরে চন্দ্রাবতীর বাড়ি পৌঁছে গেলাম। বড় রাস্তা দিয়ে গেলে হয়তো একটু হাঁটতে হতো। তার প্রয়োজন হলো না। গাড়ি নিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম চন্দ্রাবতীর বাড়ি।

 

চন্দ্রাবতীর বাড়ির দ্বিতল ভবনের প্রাচীরে আগাছা জন্মেছে। প্রাচীর কোথাও কোথাও একটু ভেঙে গেছে। এই বাড়িতে এখন একটি হিন্দু এবং আরেকটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে।

চন্দ্রাবতীর স্মৃতিধন্য বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, যেন কয়েকশো বছরের পুরোনো চন্দ্রাবতী আমার সামনে চলে এসেছেন। তাকে আমি অনুভব করলাম। মনে হলো এই উঠানে তিনি হেঁটেছেন। সেই সময়কার যা কিছু দেখছিলাম সেসব কিছু যেন চন্দ্রাবতীর কথা বলছিলো।

এই বাড়ির কাছাকাছি চন্দ্রাবতী মন্দির। সময়ের আঘাতে মুঘল স্থাপত্যের এই নির্দশন অনেকখানি জৌলুশ হারিয়েছে। মন্দিরের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চন্দ্রাবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সকাল হতে না হতে শিশুদের কলরবে মুখরিত হয় এই স্কুল চত্বর। মৃদু বাতাসে দোল খায় চন্দ্রাবতীর বাড়ির ঘাস, দেয়ালের আগাছা।

সেই সবকিছু রেখে রওনা দিলাম কোলাহলের শহর, প্রিয় শহর ঢাকার দিকে। চন্দ্রাবতীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে জালালপুর নামে একটি বাজারে কিছু সময় থামলাম। সেখানে লাদেনের চায়ের দোকানের রয়েছে বিশেষ কদর। জানা গেলো, কিশোরগঞ্জ শহর থেকে অনেকেই সেখানে চা খেতে আসে। লাদেনের চায়ের বিশেষত্ব হলো তেঁতুলের লাকরি দিয়ে জ্বাল দিয়ে মাটির চুলায় চা বানানো হয়। অন্যরকম ঘ্রাণ ছড়ায় লাদেনের চা। সে ঘ্রাণ যেন অনেক কিছুই মনে করিয়ে দিতে পারে। আমিতো সবে চন্দ্রাবতীর বাড়ি দেখে ফিরেছিলাম, সে সময় কত কথাই তো মনে হচ্ছিল, সেসব একদিকে রোমাঞ্চিত করেছিল; আরেকদিকে বেদনায় মুষরে দিয়েছিল।

চন্দ্রাবতী ছিলেন চিন্তা, চেতনায় এবং প্রগতিতে এগিয়ে থাকা একজন নারী। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় যিনি নিজের ভাব, প্রেম, চেতনা প্রকাশে পিছপা হননি। চন্দ্রাবতীর কবিতা আমাকে টানে। আবার এই নামের সঙ্গে আমি অন্যভাবেও জড়িত। ভাবতে গেলে তাকে তিন রকমে পাওয়া যায় তিনি কবি, প্রেমিক আবার বৈরাগীও। প্রেমই তাকে বৈরাগ্য দিয়েছিল। আর তিনি কবি বলেই হয়তো এমনটা হয়েছিল।

চন্দ্রাবতীর প্রতি সম্মান অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাই।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

চন্দ্রাবতীর বাড়িতে একদিন

আপডেট সময় ১০:১৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৩

বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নারী কবি চন্দ্রাবতী। রহস্যঘেরা তার জীবনের গল্প। এই কবি জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারি গ্রামে। চন্দ্রাবতীর জন্ম সুলচনা দেবী এবং দ্বিজ বংশীদাসের ঘরে।

শৈশবে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন জয়ানন্দকে। এক সময় তাকেই ভালোবেসেছিলেন। পেয়েছিলেন একসঙ্গে ঘর বাঁধার প্রতিশ্রুতি। চন্দ্রাবতীর পিতাও তার এই চাওয়া মেনে নিয়ে বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেছিলেন। বধূ সেজেছিলেন চন্দ্রাবতী। কিন্তু হায়, জয়ানন্দ সেদিন আসেনি। সে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম এক নারীকে বিয়ে করে নিয়েছিলেন।

চন্দ্রবতীর দুঃখ সেদিন ফুলেশ্বরী নদীর উজান, ভাটির মতো প্রবাহিত হয়েছিল। কে জানতো এই নদীতেই একদিন ভেসে থাকবে জয়ানন্দের মৃতদেহ। জয়ানন্দ অন্য নারীকে জীবনসঙ্গী করার পরে কবি কন্যা চন্দ্রাবতী পিতার কাছে নিজের দুইটি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কন্যার ইচ্ছানুযায়ী শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দিলেন দ্বিজ বংশীদাস। অনুমতি দিয়েছিলেন কন্যাকে চিরকুমারী থাকার জন্যও। তবে উৎসাহিত করেছিলেন সাহিত্য রচনার জন্য।

 

পিতার প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরে ধ্যানে মগ্ন হতেন প্রেম প্রত্যাখ্যাত হৃদয়ের এই রহস্যময়ী নারী চন্দ্রাবতী। একে একে রচনা করলেন রামায়ন, মলুয়া এবং দস্যু কেনারামের পালা। ফুলেশ্বরী নদী এখন মৃত! চন্দ্রাবতীর বাড়িটি জরাজীর্ণ। মন্দির দুটিও ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু চন্দ্রাবতীর দুঃখ, দীর্ঘশ্বাসের আর বাংলা সাহিত্যের সার্থক নারীর সৃজনশীলতার সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে সেই শিবমন্দির। চন্দ্রাবতীর বাড়ি থেকে সামান্য দূরে এর অবস্থান। চন্দ্রাবতীর বাড়ি, বাড়ির উঠান, শিব মন্দির, বাড়ি ঘেঁষা পুকুর এই সবকিছু চন্দ্রাবতীর দুঃখের কথা বলে, তার শক্তিমত্তা, সৃজনশীলতা আর আত্মমর্যাদার কথা বলে। এই সব কিছু সাক্ষ্য দেয়, জয়ানন্দ একদিন ফিরে এসে ডেকেছিল চন্দ্রাবতীকে কিন্তু চন্দ্রাবতী শিবের আরাধনায় মগ্ন ছিলেন। ধ্যান ভেঙ্গে জয়ানন্দের ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

জয়ানন্দ একদিন যাকে অপমানের অতলে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন, সেই চন্দ্রবতীর সাড়া না পেয়ে ফুলেশ্বরী নদীতে ডুবে মরেন জয়ানন্দ। কথিত আছে, প্রেমিকের লাশ ফুলেশ্বরীর জলে ভাসতে দেখে নিজেও আত্মহুতি দিয়েছিলেন চন্দ্রাবতী।

চন্দ্রাবতীর বাড়িটি যেন সেই দুঃখ বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে। বাড়িটি কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। একদিন চলে গেলাম সেই বাড়ির খোঁজে। এ বছর গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই বৃষ্টিপাতের একটা রেশ দেখেছি। রাস্তার দুই ধারে যত পানি থাকার কথা তার থেকে অনেক বেশি পানি ছিল। পানি বেশি থাকায় ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। দেখলাম স্থানীয়রা মাছ ধরায় ব্যস্ত। ডুবে যাওয়া ফসলের মাঠে যেন মাছ ধরার উৎসব লেগেছে। পথে যেতে যেতে এই সব দৃশ্য দেখছিলাম। রাস্তাটি একটু ভাঙা আর সরু কিন্তু প্রকৃতি তাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়ে সাজিয়ে রেখেছিল। দুপাশের সবুজ ঘেরা পরিবেশ। এই পথ দিয়ে আসার কথা ছিল না কিছুটা ভুল করেই এই রাস্তা দিয়ে এগোতে থাকলাম। সেই ভুলের কারণেই যেতে যেতে দেখা হলো নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের নীলগঞ্জ শুটিং প্রজেক্ট। এই প্রজেক্টের ভেতর দিয়ে একটি রাস্তা গেছে সেই রাস্তা ধরে চন্দ্রাবতীর বাড়ি পৌঁছে গেলাম। বড় রাস্তা দিয়ে গেলে হয়তো একটু হাঁটতে হতো। তার প্রয়োজন হলো না। গাড়ি নিয়ে সোজা পৌঁছে গেলাম চন্দ্রাবতীর বাড়ি।

 

চন্দ্রাবতীর বাড়ির দ্বিতল ভবনের প্রাচীরে আগাছা জন্মেছে। প্রাচীর কোথাও কোথাও একটু ভেঙে গেছে। এই বাড়িতে এখন একটি হিন্দু এবং আরেকটি মুসলিম পরিবার বসবাস করে।

চন্দ্রাবতীর স্মৃতিধন্য বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, যেন কয়েকশো বছরের পুরোনো চন্দ্রাবতী আমার সামনে চলে এসেছেন। তাকে আমি অনুভব করলাম। মনে হলো এই উঠানে তিনি হেঁটেছেন। সেই সময়কার যা কিছু দেখছিলাম সেসব কিছু যেন চন্দ্রাবতীর কথা বলছিলো।

এই বাড়ির কাছাকাছি চন্দ্রাবতী মন্দির। সময়ের আঘাতে মুঘল স্থাপত্যের এই নির্দশন অনেকখানি জৌলুশ হারিয়েছে। মন্দিরের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চন্দ্রাবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সকাল হতে না হতে শিশুদের কলরবে মুখরিত হয় এই স্কুল চত্বর। মৃদু বাতাসে দোল খায় চন্দ্রাবতীর বাড়ির ঘাস, দেয়ালের আগাছা।

সেই সবকিছু রেখে রওনা দিলাম কোলাহলের শহর, প্রিয় শহর ঢাকার দিকে। চন্দ্রাবতীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে জালালপুর নামে একটি বাজারে কিছু সময় থামলাম। সেখানে লাদেনের চায়ের দোকানের রয়েছে বিশেষ কদর। জানা গেলো, কিশোরগঞ্জ শহর থেকে অনেকেই সেখানে চা খেতে আসে। লাদেনের চায়ের বিশেষত্ব হলো তেঁতুলের লাকরি দিয়ে জ্বাল দিয়ে মাটির চুলায় চা বানানো হয়। অন্যরকম ঘ্রাণ ছড়ায় লাদেনের চা। সে ঘ্রাণ যেন অনেক কিছুই মনে করিয়ে দিতে পারে। আমিতো সবে চন্দ্রাবতীর বাড়ি দেখে ফিরেছিলাম, সে সময় কত কথাই তো মনে হচ্ছিল, সেসব একদিকে রোমাঞ্চিত করেছিল; আরেকদিকে বেদনায় মুষরে দিয়েছিল।

চন্দ্রাবতী ছিলেন চিন্তা, চেতনায় এবং প্রগতিতে এগিয়ে থাকা একজন নারী। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় যিনি নিজের ভাব, প্রেম, চেতনা প্রকাশে পিছপা হননি। চন্দ্রাবতীর কবিতা আমাকে টানে। আবার এই নামের সঙ্গে আমি অন্যভাবেও জড়িত। ভাবতে গেলে তাকে তিন রকমে পাওয়া যায় তিনি কবি, প্রেমিক আবার বৈরাগীও। প্রেমই তাকে বৈরাগ্য দিয়েছিল। আর তিনি কবি বলেই হয়তো এমনটা হয়েছিল।

চন্দ্রাবতীর প্রতি সম্মান অন্তরের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা জানাই।