ঢাকা , সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বন্দরে শ্লীলতাহানির ভিডিও ধারণ করে যুবতীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার Logo আড়াইহাজারে রেস্টুরেন্ট থেকে অপত্তিকর অবস্থায় ১৬ কিশোর কিশোরী আটক Logo সোনারগাঁয়ে ট্রাক চাপায় যুবক নিহত, চালক আটক Logo সোনারগাঁয়ের আলোচিত সাধন মিয়া হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদন্ড ও একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড Logo বন্দর ১নং খেয়াঘাট মাঝি সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন Logo আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে মাকসুদ চেয়ারম্যান’র মত বিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক Logo না’গঞ্জ জেলা জা’পা সভাপতি সানুর নাম ভাঙ্গিয়ে সুমন প্রধানের অপকর্ম রুখবে কে? Logo হুথিদের হামলায় লোহিত সাগরে ডুবে গেল সেই জাহাজ Logo রাতের লাইভের নেপথ্যের কারণ জানালেন তাহসান-ফারিণ Logo যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

ইইউ চায় সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পথেই হাটছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭ দেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোর কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি মন্ত্রী পর্যায়ের কেউ বাংলাদেশ সফর করা থেকে বিরত থাকবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কূটনৈতিক সুত্রে এ তথা জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বা শীর্ষ কূটনীতিকরা বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠক থেকেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের বিষয়টি উঠে আসে। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত একজন বিদেশি কূটনীতিক জানান, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিদেশের কোনো হেভিওয়েট নেতা বাংলাদেশ সফর করলে তাতে যেনো সরকারি দলের নির্বাচনী ফায়দা হাসিলের সুযোগ তৈরি না হয়, এমন ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলো মনে করে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের সমান প্রচারণার সুযোগ থাকা উচিত।

এর আগে গত কয়েক মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি দেশগুলোর ঢাকা কর্মরত রাষ্ট্রদূতরা এক বৈঠকের পর জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশীদের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা না করলেও তারা নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও জনগণের ভোটের প্রতিফলন দেখতে চান। তারা ঘোষণা দিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে তারা বাংলাদেশের পণ্যের জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধা দেবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৭ দেশের ইউরোপীয় এই জোটের নানামুখী তৎপরতা নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলি জানিয়েছিলেন যে, ইইউ বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ শুধু দেশের ভেতরেই নয়, সারা বিশ্বেই তৈরি হয়েছে।’ এছাড়া, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধার দুয়ার খুলতে পারে।

ওদিকে, ইইউ›র নির্বাচনপূর্ব পর্যবেক্ষক দল ১৩ দিনের মিশনে আগামী ৮ জুলাই ঢাকা আসছে। এ সময় তারা রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী পরিবেশ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবেন। ওই পর্যবেক্ষক দলের বাংলাদেশ সফরকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে ইইউ ভুক্ত একাধিক দেশের ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তারা অধীর আগ্রহে এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

ট্যাগস
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্দরে শ্লীলতাহানির ভিডিও ধারণ করে যুবতীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ইইউ চায় সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন

আপডেট সময় ০৩:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০২৩

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পথেই হাটছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত ২৭ দেশ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত দেশগুলোর কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি মন্ত্রী পর্যায়ের কেউ বাংলাদেশ সফর করা থেকে বিরত থাকবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কূটনৈতিক সুত্রে এ তথা জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বা শীর্ষ কূটনীতিকরা বৈঠকে বসেছিলেন। ওই বৈঠক থেকেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে কিংবা আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের বিষয়টি উঠে আসে। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত একজন বিদেশি কূটনীতিক জানান, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিদেশের কোনো হেভিওয়েট নেতা বাংলাদেশ সফর করলে তাতে যেনো সরকারি দলের নির্বাচনী ফায়দা হাসিলের সুযোগ তৈরি না হয়, এমন ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। কারণ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলো মনে করে নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের সমান প্রচারণার সুযোগ থাকা উচিত।

এর আগে গত কয়েক মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি দেশগুলোর ঢাকা কর্মরত রাষ্ট্রদূতরা এক বৈঠকের পর জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশীদের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা না করলেও তারা নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও জনগণের ভোটের প্রতিফলন দেখতে চান। তারা ঘোষণা দিয়েছেন আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হলে তারা বাংলাদেশের পণ্যের জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধা দেবেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২৭ দেশের ইউরোপীয় এই জোটের নানামুখী তৎপরতা নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলি জানিয়েছিলেন যে, ইইউ বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাতে চায়। তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই নির্বাচন ঘিরে আগ্রহ শুধু দেশের ভেতরেই নয়, সারা বিশ্বেই তৈরি হয়েছে।’ এছাড়া, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জন্য জিএসপি প্লাস সুবিধার দুয়ার খুলতে পারে।

ওদিকে, ইইউ›র নির্বাচনপূর্ব পর্যবেক্ষক দল ১৩ দিনের মিশনে আগামী ৮ জুলাই ঢাকা আসছে। এ সময় তারা রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী পরিবেশ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবেন। ওই পর্যবেক্ষক দলের বাংলাদেশ সফরকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে ইইউ ভুক্ত একাধিক দেশের ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তারা অধীর আগ্রহে এই সফরের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।